মো: জিয়াউর রহমান, নিউজ ডেক্স:
এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলির অনলাইন আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী শিক্ষকরা বদলির আবেদন করতে পারবেন ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এবার ফের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তথ্য দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে যেসব শিক্ষক এখনো আবেদন করেননি, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
নতুন সূচি অনুযায়ী, স্কুলের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর এবং উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসাররা ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য ইনপুট, যাচাই ও চূড়ান্ত অনুমোদনের কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
অন্যদিকে, কলেজের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর এবং আঞ্চলিক উপপরিচালক (কলেজ) ও আঞ্চলিক পরিচালকরা ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষকরা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর বদলির আবেদন করতে পারবেন। তবে ইতঃপূর্বে যারা আবেদন করেছেন, তাদের ফের আবেদন করার প্রয়োজন নেই।
এদিকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে ১২ হাজার ২২৬টি আবেদন জমা পড়েছে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানিয়েছিলো। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আবেদন গ্রহণের শেষ দিন ছিলো। তবে এ সময় বাড়ানো হয়েছে ফলে নতুন সূচি অনুযায়ী এখন ফের শিক্ষকরা আবেদন করতে পারবেন।
এর আগে গত ২১ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শিক্ষকরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে মোবাইল ফোনে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বদলির আবেদন করতে পারছেন।
গত ১৮ আগস্ট বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের—প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান, প্রদর্শক, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সব শিক্ষক—‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা ২০২৬ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী বদলি করা হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, বদলিতে আগ্রহী শিক্ষকরা মোবাইলে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ২১ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
একজন আবেদনকারী পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রাপ্ত আবেদনগুলো বদলি নীতিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। যাচাই শেষে কর্তৃপক্ষ বদলিভিত্তিক পদায়নের আদেশ জারি করবেন।
বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষকরা চাকরির আবেদনে উল্লিখিত নিজ জেলায় আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করা যাবে।
এ ছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলায়ও বদলির আবেদন করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রী সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত হতে হবে। বদলি সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া এ-সংক্রান্ত তথ্য ভুল হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আবেদনকারী শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরিতে প্রথম যোগদানের পর দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক বদলির আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করা যাবে।
