হারুন অর রশিদ, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর জলঢাকায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। শীতের ভরা মৌসুমে সবজির দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে আগাম সবজি চাষে ঝুঁকছেন তাঁরা। বিশেষ করে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপির ভালো ফলন এবং বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ।
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বাট্টুপাড়া তালুক শৌলমারী গ্রামের কৃষক সাদেকুল ইসলাম এবং আতিকুর ইসলাম দুই ভাই মিলে এবার প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। ‘অলরাউন্ডার’ জাতের এসব ফুলকপির প্রতিটির ওজন ৭০০ গ্রামের বেশি। তাঁর জমিতে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ফুলকপির গাছ। ফলন ভালো হওয়ায় ইতোমধ্যে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তিনি।
কৃষক সাদেকুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মণ ফুলকপি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে ৪০ শতক জমি থেকে প্রায় এক লাখ টাকার ফুলকপি বিক্রির আশা করছেন তিনি। শুধু সাদেকুল ইসলাম নন, উপজেলার আরও কয়েকজন কৃষক আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে এ মৌসুমে তাঁরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, জলঢাকায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আগাম জাতের ফুলকপি চাষে ভালো ফলন পেতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই দমন, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা ও সময়মতো পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আগাম সবজি চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় সবজির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
মৌসুমের বাইরে আগাম সবজি উৎপাদন একদিকে যেমন কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনি বাজারে সারা বছর সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও ভূমিকা রাখছে। তবে লাভের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উৎপাদন খরচ, বাজারদর ও সংরক্ষণব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেক কৃষক ।
আলোকিত সময়/রেবারা