দিনাজপুর প্রতিনিধি ফিরোজ সরকারঃ শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত”—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে শিশু অধিকার দিবস, বিশ্ব শিশু সপ্তাহ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উদযাপন করা হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, দিনাজপুরের আয়োজনে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন দিনাজপুর এডিপি, কারিতাস, উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প ও পল্লীশ্রীর সহযোগিতায় দিনাজপুর শিশু একাডেমি অডিটোরিয়ামে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা পিপিএম, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) শেখ হাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাবিবুল হাসান।
অনুষ্ঠানে এনজিও প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার সেবাষ্টিয়ান পিউরীফিকেশন এবং ড্রইং স্কুলের নির্বাহী পরিচালক নাজমুস সকিব রানা।
এ সময় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, দিনাজপুরের শিক্ষার্থী অজয় মহন্ত, দিনাজপুর কালেক্টর স্কুলের শিক্ষার্থী রুম্মান এবং দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিথিলা দাস ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পায়
পরে দিনাজপুর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওহেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি বিনোদন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি শিশুর সুরক্ষা, স্বপ্ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোর্শেদ আলী খান।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রোগ্রাম অফিসার পেট্রিক রুরাম পাওয়ার প্রজেক্টের মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ভিশনের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশু সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় আনতে তৃণমূল পর্যায়ে শিশু ও অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে।
আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে শিশুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।