
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুই ভাইয়ের জীবনযাত্রায় হঠাৎ পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয় গ্রামবাসীর। সেই সন্দেহের সূত্র ধরে ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মেঝের নিচে পুঁতে রাখা তিনটি ড্রাম থেকে কোটি কোটি রুপি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ড্রামগুলোতে পাওয়া গেছে ৫০০ রুপির নোটের অসংখ্য বান্ডিল। তবে উদ্ধার করা অর্থের সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রয়াগরাজের গঙ্গানগর জোনের রামনগর গ্রামের বারাইপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার নবাবগঞ্জ ও সোরাঁও থানার পুলিশের একটি যৌথ দল ওই বাড়িতে অভিযান চালায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক দুই ভাই রাকেশ যাদব ও রাজেশ যাদব। তাঁরা আগে ভারতের পুনেতে ছোটখাটো চাকরি করতেন। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন তাঁরা।
গ্রামে ফেরার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। তাঁরা গ্রামের আশপাশে একের পর এক জমি কেনেন, ট্রাক্টর কেনেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেন। তাঁদের আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনের সামঞ্জস্য না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
সম্প্রতি স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধের জেরে তাঁদের কাছে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক অর্থ থাকার অভিযোগ পুলিশের কাছে পৌঁছায়। এরপর বাড়িটিতে তল্লাশি চালানো হয়। প্রথম দফায় সন্দেহজনক কিছু না পেলেও পরে একটি কক্ষের মেঝেতে সম্প্রতি মাটি খোঁড়ার চিহ্ন দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা।
পরে শ্রমিক এনে মেঝের নিচে খনন করা হলে মাটির নিচে পুঁতে রাখা তিনটি ড্রাম উদ্ধার করা হয়। ড্রামগুলো মোটা কালো প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো ছিল। সেগুলো খুলতেই ভেতরে ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিল পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ কয়েক কোটি রুপি বলে ধারণা করছে পুলিশ।
গঙ্গানগর জোনের উপপুলিশ কমিশনার সোনম কুমার জানান, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থের সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় পরিবারের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই ব্যক্তি বারবার বক্তব্য পরিবর্তন করছেন। তবে উদ্ধার করা অর্থের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অর্থের উৎস অনুসন্ধানে আয়কর বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে বাড়িটি সিলগালা করা হয়েছে। উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ ও এর উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।