নীলফামারী প্রতিনিধিঃ বাউলসম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে নীলফামারীতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টায় জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নীলফামারী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন, মানবতাবাদী চিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভায় নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোঃ হুমায়ুন কবির তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি লালনের চিন্তা-চেতনা ও দর্শনের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন। লালন সাঁইয়ের জীবনদর্শন বাঙালির লোকসংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরীও লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শন নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে লালনের জীবনদর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, ফকির লালন সাঁই বাংলা লোকসংগীত ও বাউল সাধনার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তাঁর গান ও দর্শনে মানবপ্রেম, সাম্য, আত্মঅনুসন্ধান এবং জাত-পাত ও ধর্মীয় বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে মূল্যায়নের ভাবনা বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর সৃষ্টিকর্ম যুগে যুগে মানুষকে মানবিকতা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা দিয়ে আসছে।
লালন সাঁইয়ের গান শুধু সংগীতের জগতে নয়, বাংলা সাহিত্য ও দর্শনের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাঁর রচিত অসংখ্য গান মানুষের অন্তর্জগৎ, জীবনবোধ এবং সমাজের প্রচলিত বিভাজন নিয়ে গভীর প্রশ্নের অবতারণা করে। তাঁর দর্শন আজও নতুন প্রজন্মের কাছে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত।
নীলফামারীতে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন ও দর্শনকে স্মরণ করার পাশাপাশি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে লালন সাঁইয়ের সংগীত ও দর্শনকে ঘিরে সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ তৈরি হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।