নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বিশ্ব রেডিওগ্রাফি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্ণাঢ্য র্যালি ও কেক কাটা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ৮ নভেম্বর (রবিবার) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে হাসপাতালের চিকিৎসক, রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেডিওগ্রাফার এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে। পরে কেক কেটে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৮ নভেম্বর বিশ্ব রেডিওগ্রাফি দিবস পালিত হয়। ১৮৯৫ সালের এই দিনে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলহেম কনরাড রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর এই আবিষ্কার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসে। বর্তমানে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ আধুনিক বিভিন্ন ইমেজিং প্রযুক্তি চিকিৎসাসেবার অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব রেডিওগ্রাফি দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো চিকিৎসাসেবায় রেডিওগ্রাফার ও রেডিওলজি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরা, রোগীদের নিরাপদ ইমেজিং সেবা নিশ্চিত করা এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
রেডিওগ্রাফাররা আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রোগীর শারীরিক অবস্থার সঠিক চিত্র ধারণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন, ছবির গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং বিকিরণজনিত ঝুঁকি কমিয়ে নিরাপদ পরীক্ষা পরিচালনায় তাঁদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশ্ব রেডিওগ্রাফি দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পেশাজীবীর অবদানকে সম্মান জানানো হয়। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় রেডিওগ্রাফি ও ইমেজিং প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তি চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করছে। তাই রোগীর সুস্বাস্থ্য ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে রেডিওগ্রাফারদের পেশাগত দক্ষতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই।