রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ৬ নম্বর জাহানাবাদ ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল পুনর্বিবেচনা, পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত এবং নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক ডিলারপ্রত্যাশী।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মেসার্স মা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও জাহানাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা ফিরোজ আহমেদ রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর এ লিখিত আবেদন জানান। আবেদনে তিনি নির্বাচিত ডিলারের যোগ্যতা, গুদামঘরের উপযোগিতা এবং সমগ্র নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
আবেদনপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সার ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে শতভাগ নিয়ম অনুসরণ করে মেসার্স মা ট্রেডার্সের পক্ষে আবেদন করেন ফিরোজ আহমেদ। আবেদনের সঙ্গে গুদামঘরের ভাড়ার চুক্তিনামা, দালিলিক প্রমাণসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৭ সেপ্টেম্বর মোহনপুর উপজেলা থেকে আসা তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও গুদামঘর সরেজমিনে পরিদর্শন করে যান।
তবে ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলে জাহানাবাদ ইউনিয়নের জন্য মোঃ মজিবর রহমানের মালিকানাধীন তাহেরপুর-পাকুড়িয়ার ‘মেসার্স মৃধা ট্রেডার্স’কে নির্বাচিত করা হয়। ফলাফল প্রকাশের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে আবেদনকারী ফিরোজ আহমেদ জানান, "আমার গুদামঘরটি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের গুদামঘরের চেয়ে আয়তনে বড় এবং নীতিমালা অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে। কিন্তু তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচিত প্রার্থীর পারিবারিক তথ্য গোপন রাখা হয়েছে এবং তাঁর বয়সসংক্রান্ত বিষয়েও চরম অনিয়ম রয়েছে।
আবেদনে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আবেদনকারীদের জমা দেওয়া কাগজপত্র, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, গুদামঘরের উপযোগিতা এবং পূর্বের তদন্ত প্রতিবেদন পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি তদন্তে কোনো অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব বা নীতিমালার ব্যত্যয় প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের অনুরোধ জানান ফিরোজ আহমেদ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিভ করেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী। তিনি জানান, "ডিসি স্যার বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আয়োজিত মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন। অভিযোগের বিষয়টি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে রাখলে মিটিং শেষে স্যার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।"
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিজয়ী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মৃধা ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মজিবর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথেই কলটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।