মোঃ রাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকায় অবস্থিত ‘মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ জোরপূর্বক দখল, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১ অক্টোবর লামা প্রেসক্লাব হলরুমে ভুক্তভোগী অংশীদারদের পক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ঘটনার বিষয়ে ইতোমধ্যে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে লামা থানায় এজাহার ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিসোর্টের অংশীদার মো. সুলতান মাহমুদের পক্ষে অপর অংশীদার জাফর আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন জমির মূল মালিক দুলাল মিয়া, রিসোর্ট পরিচালনাকারী রিংরাও মুরুং, শাহাদাত হোসেন, আরিফুল ইসলাম ও মো. আইয়ুব।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, লামা পৌরসভার কলিঙ্গাবিল এলাকার জাফর আলম এবং বড় নুনারনবিল পাড়ার মো. সুলতান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে রিসোর্টটি পরিচালনা করে আসছিলেন। পূর্বে জমির মূল মালিক দুলাল মিয়ার সাথে জটিলতা নিরসন করে মো. রাসেল চৌধুরী নামক এক বিবাদী টাকা বুঝে নিয়ে অংশীদারিত্ব থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু পরবর্তীতে রাসেল চৌধুরীসহ একটি চক্র আবারও রিসোর্টের মালিকানা দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি শুরু করে। অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে যুবলীগ নেতা মো. রাসেল চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র দল রিসোর্টে প্রবেশ করে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, যাতে আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। এ সময় বাধা দিলে মো. সুলতান মাহমুদ ও জাফর মিয়াকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হামলাকারীরা দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ৭৫ হাজার টাকা এবং ১ লক্ষ ৭ হাজার টাকা মূল্যের আধা ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি লুট করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে প্রধান বিবাদী রাসেল চৌধুরী রিসোর্টের ক্যাবল গলায় পেঁচিয়ে সুলতান মাহমুদকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয়রা তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়ে রিসোর্টটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। বর্তমানে চাঁদা না দিলে রিসোর্ট ফেরত দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জমির মালিক দুলাল মিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "আদালত ও তদন্ত কর্তৃপক্ষ আমার পক্ষে রায় দিলেও রাসেল চৌধুরী আমাকে বিতাড়িত করে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক এই জায়গা ও রিসোর্ট দখল করে রেখেছে।"
মামলার আসামিরা হলেন:
১. মো. রাসেল চৌধুরী (৩৫), ২. শিশির স্বপন চাকমা (৫০), ৩. সঞ্জিতা চাকমা (৪৫), ৪. মো. আরিফুল ইসলাম (৩০), ৫. শাহাবুদ্দিন (৩৫), ৬. আলা উদ্দিন (৫০), ৭. মো. শারিফুল (৪২), ৮. মো. শাহিন (৪২), ৯. রুবেল ত্রিপুরা প্রকাশ শ্যামল ত্রিপুরা (৩৫), ১০. সুভাষ ত্রিপুরা (৫৫), ১১. পুবন ত্রিপুরা (৩২), এবং ১২. হেমরঞ্জন ত্রিপুরা (৩৫)। এছাড়া মামলায় আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের কাছে প্রধান অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, জোরপূর্বক দখলকৃত রিসোর্ট উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর এবং ভুক্তভোগীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ জানান, "বিষয়টি নিয়ে জিডি ও অভিযোগের তদন্ত চলছে। পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সব ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।