মোঃ লুৎফর রহমান, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা ভূমি অফিসে অর্পিত সম্পত্তির লিজ নেওয়া জমির ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রসিদ) নবায়ন করতে গিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট পেশকার
মোঃ মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নেওয়া হলেও সরকারি রসিদে উল্লেখ করা হচ্ছে কম টাকা।
ভুক্তভোগী আব্দুর রশিদ জানান, তাঁর ৩ শতক জমির ডিসিআর নবায়নের জন্য ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তবে তাঁকে দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪৯০ টাকার সরকারি রসিদ।
একই ধরনের অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, ডিসিআর নবায়নের জন্য ৫ হাজার টাকা দিলেও তাঁকে ২ হাজার ৪৯০ টাকার রসিদ দেওয়া হয়েছে।
মতিয়ার রহমান জানান, তাঁর মৃত মায়ের নামে লিজ নেওয়া জমির ডিসিআর নবায়নের জন্য প্রথমে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তা বাড়িয়ে ২৩ হাজার টাকা চাওয়া হয়। তিনি দুই দফায় মোট ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে তাঁকে ৮ হাজার টাকার রসিদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া জমি তদন্তের সময় উপজেলা সার্ভেয়ার সৌরভ কুমার তাঁকে চেইনম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে ওই চেইনম্যান ২০ হাজার টাকার কমে কাজ হবে না বলে জানান।
অন্যদিকে, হামিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ভূমি অফিসে দাপ্তরিক কাজে গেলে সার্টিফিকেট পেশকার মোঃ মোশাররফ হোসেন তাঁর কাছে অতিরিক্ত ১৪ হাজার টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি ১০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন বলে জানান।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সার্টিফিকেট পেশকার মো. মোশাররফ হোসেন ও উপজেলা সার্ভেয়ার সৌরভ কুমার বলেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সব জানেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি তাঁরা। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতেও রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী ইমাম জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই নোটিশের জবাবও পাওয়া গেছে।
অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোকিত সময়/রেবারা