ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভেরসা স্লুইসগেট প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ উদ্বোধন মধুপুরে ১৫০ সদস্যের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ তজুমদ্দিনে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণ মধুপুরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে ৫৪ দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ ও অর্থ সহায়তা জমি নিয়ে বিরোধের জের – কুড়িগ্রামে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের  সাংবাদিক তামজিদ হাসানের পরিবারের উপর হামলা বরিশাল পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধার দাবিতে স্মারকলিপি বরিশালে মা ইলিশ রক্ষায় জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত ‎বগুড়ায় গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী ও হতদরিদ্রদের মাঝে বাইসাইকেল, হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিন বিতরণ ‎ নাগরপুরে গাঁ/জা গাছসহ মা/দক ব্যবসায়ী রাসেল গ্রে/প্তার ‎মা/দকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ,কোনাবাড়ী মেট্রো থানার ওসি ইফতেখার আহমেদের কঠোর অবস্থান

তজুমদ্দিনে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণ

  • আপডেটের সময় : ০৫:১৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৫ সময় দৃশ্য
৪২

ইলিয়াস সানি, তজুমদ্দীন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ ভোলার তজুমদ্দিনে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের নেতৃত্বের দক্ষতা, জীবনদক্ষতা এবং সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার ও বুধবার (৬ ও ৭ অক্টোবর) তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ৩০ জন কিশোর-কিশোরী ও তরুণকে নিয়ে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

 

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের আয়োজনে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় ‘মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কল্যাণে সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন’ কর্মসূচির আওতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্য, স্থানীয় যুব, সাংস্কৃতিক কর্মী, কমিউনিটি কেন্দ্রের সদস্য ও পিয়ার লিডাররা অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের জ্ঞান, জীবনদক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলা।

 

দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন, সমাজের মানুষের অংশগ্রহণ, সামাজিক জবাবদিহিতা, জীবনদক্ষতা, নেতৃত্বের বিকাশ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও সাইবার হয়রানি প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

 

প্রশিক্ষণকে অংশগ্রহণমূলক করতে দলীয় কাজ, মুক্ত আলোচনা, উপস্থাপনা, প্রশ্নোত্তর, পরিস্থিতিভিত্তিক অনুশীলন ও বিভিন্ন ব্যবহারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় কৈশোরকালের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, ব্যক্তিগত ও মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, ইতিবাচক আচরণ, কার্যকর যোগাযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

 

প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুশীলনের ভোলা জেলার সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন কর্মসূচির প্রশিক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা এবং সমাজের মানুষের সঙ্গে কাজের দায়িত্বে থাকা হাফিজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।

 

অনলাইন নিরাপত্তা ও সাইবার হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়েও প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, অনলাইন হয়রানি থেকে নিরাপদ থাকা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সেবা গ্রহণের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল      অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যমে ত্রৈমাসিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। দলীয় কাজের মাধ্যমে তারা নিজ নিজ এলাকায় আগামী তিন মাসে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা তৈরি করেন।

 

এতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং ইতিবাচক আচরণে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

আলোচনায় তরুণদের শুধু সচেতনতার গ্রহীতা হিসেবে নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পিয়ার লিডারদের নিজ নিজ এলাকায় সহপাঠী ও অন্যান্য কিশোর-কিশোরীদের সচেতন করার পাশাপাশি ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

 

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা তারা নিজেদের জীবনে প্রয়োগের পাশাপাশি বন্ধু, সহপাঠী, পরিবার ও সমাজের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং ইতিবাচক জীবনযাপন বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আয়োজকরা বলেন, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করা গেলে তারা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দিতে অংশগ্রহণকারীদের তৈরি ত্রৈমাসিক কর্মপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভেরসা স্লুইসগেট প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

তজুমদ্দিনে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণ

আপডেটের সময় : ০৫:১৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
৪২

ইলিয়াস সানি, তজুমদ্দীন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ ভোলার তজুমদ্দিনে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের নেতৃত্বের দক্ষতা, জীবনদক্ষতা এবং সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার ও বুধবার (৬ ও ৭ অক্টোবর) তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ৩০ জন কিশোর-কিশোরী ও তরুণকে নিয়ে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

 

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের আয়োজনে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় ‘মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কল্যাণে সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন’ কর্মসূচির আওতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্য, স্থানীয় যুব, সাংস্কৃতিক কর্মী, কমিউনিটি কেন্দ্রের সদস্য ও পিয়ার লিডাররা অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের জ্ঞান, জীবনদক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলা।

 

দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন, সমাজের মানুষের অংশগ্রহণ, সামাজিক জবাবদিহিতা, জীবনদক্ষতা, নেতৃত্বের বিকাশ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও সাইবার হয়রানি প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

 

প্রশিক্ষণকে অংশগ্রহণমূলক করতে দলীয় কাজ, মুক্ত আলোচনা, উপস্থাপনা, প্রশ্নোত্তর, পরিস্থিতিভিত্তিক অনুশীলন ও বিভিন্ন ব্যবহারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় কৈশোরকালের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, ব্যক্তিগত ও মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, ইতিবাচক আচরণ, কার্যকর যোগাযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

 

প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুশীলনের ভোলা জেলার সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন কর্মসূচির প্রশিক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা এবং সমাজের মানুষের সঙ্গে কাজের দায়িত্বে থাকা হাফিজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।

 

অনলাইন নিরাপত্তা ও সাইবার হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়েও প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, অনলাইন হয়রানি থেকে নিরাপদ থাকা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সেবা গ্রহণের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল      অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যমে ত্রৈমাসিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। দলীয় কাজের মাধ্যমে তারা নিজ নিজ এলাকায় আগামী তিন মাসে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা তৈরি করেন।

 

এতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং ইতিবাচক আচরণে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

আলোচনায় তরুণদের শুধু সচেতনতার গ্রহীতা হিসেবে নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পিয়ার লিডারদের নিজ নিজ এলাকায় সহপাঠী ও অন্যান্য কিশোর-কিশোরীদের সচেতন করার পাশাপাশি ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

 

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা তারা নিজেদের জীবনে প্রয়োগের পাশাপাশি বন্ধু, সহপাঠী, পরিবার ও সমাজের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং ইতিবাচক জীবনযাপন বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আয়োজকরা বলেন, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করা গেলে তারা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দিতে অংশগ্রহণকারীদের তৈরি ত্রৈমাসিক কর্মপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।