বড়াইগ্রামে কর্মহীন মানুষদের করোনা প্রতিরোধী ও খাদ্য সামগ্রীর দাবী

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২০

বড়াইগ্রামে কর্মহীন মানুষদের করোনা প্রতিরোধী ও খাদ্য সামগ্রীর দাবী
বুলবুল আহাম্মেদ,নাটোর প্রতিনিধি: সরকারী নির্দেশানুসারে করোনা সংক্রমনরোধে নাটোরে বড়াইগ্রামের নগর ইউনিয়নের থানাইখাড়া মৎস্যজীবী পাড়ায় ও মানিকপুর মুন্সিপাড়ায় বাড়িতে থাকা কিছু কর্মহীন, খেটে খাওয়া, হতদরিদ্র দিনমজুর, চা বিক্রেতা ও মৎস্যজীবীদের হাতে এখনো পৌছেনি করোনা প্রতিরোধী সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ওইসব সামগ্রী প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন কষ্টে থাকা ভুক্তভোগীরা। করোনার সার্বিক অবস্থা জানার জন্য শুক্রবার সরেজমিনে উপজেলার থানাইখাড়া ও মানিকপুর গ্রামে গেলে এসব দাবী তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা। গত ৭ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনোয়ার পারভেজ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ কুমার দাস থানাইখাড়া গ্রামে যেয়ে করোনা সংক্রমনরোধে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেন সকলকে। নগর ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি মো.ইয়সিন আলী সরকার ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক জানান, থানাইখাড়া মৎস্যজীবী পাড়ায় প্রায় ১৭৫ পরিবারের বসবাস। তারা সবাই হতদরিদ্র, দিনমজুর ও মৎস্যজীবী। জীবীকা অর্জনের লক্ষ্যে ঢাকা ও পাবনাতে থাকা ওই পাড়ার ৭৫ জন বাড়ীতে আসলে, এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয় এবং তাদের বাড়িতে অবস্থান করার কথা বলে। এতে তাদের দিনকাল অতিকষ্টে অতিবাহিত হচ্ছে। বহিরাগতদের মধ্যে লুৎফর রহমান, আ.সালাম, আলাল, মহরম আলী, রওশন আরা, রাজিয়া বেগম, মালা বেগম জানান গ্রামবাসী আমাদের বাড়ির বাহিরে যেতে নিষেধ করছে। কর্মহীন অবস্থায় অনাহারে, অর্ধাহারে কালাতিপাত করছি। মাঝগাঁও ইউনিয়নের মানিকপুর মুন্সিপাড়া গ্রামে গেলে আয়েশা বেওয়া বলেন, করোনা মোকাবেলায় হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে স্বাস্থ্য সহায়ক সাবান , ব্লিচিং পাউডার ,মাস্ক, স্যানিটাইজার এবং খাদ্য সহায়ক চাউল দিচ্ছে বলে শুনেছি। কিন্তু আমি এখনো কোন কিছু পাইনি। আমার নামে বিধবা কার্ডও নাই। আয়েশা বেওয়ার মেয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা সাজেদা খাতুন বলেন, আমার সেকচিলান বাজারে চায়ের স্টল ছিল, সেটাও পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ১০টাকা কেজি দরের চাল দিচ্ছে আমি তাও পাইনি। তাই আমার আকুল আবেদন আমাকে কিছু ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হলে দু’বেলা দুু’মুঠো ভাত খেয়ে বাঁচতে পারতাম। স্বামী পরিত্যাক্তা দিনমজুর লাভলী খাতুন এবং তার অপর প্রতিবেশী হালিমা বেওয়া অনুরুপ আকুতি জানালেন কর্তৃপক্ষের কাছে। একই গ্রামের কয়েক দিন মজুর ইব্রাহিম হোসেন.নাজমুল, মঞ্জু, তোফাজ্জল, আমিরুল, সাইদুল জানান, আমরা কর্মহীন হয়ে বাড়িতে কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। অথচ কোনো কিছু পাইনি। এ ব্যাপারে মাঝগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলীম হোসেন ও সংশ্লিষ্ট ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার মুক্তার হোসেন জানান, যেপরিমান বরাদ্দ পেয়েছিলাম, তা তালিকা প্রস্তুত পূর্বক বিতরণ করা হয়েছে, পরবর্তীতে বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে দরিদ্রনুসারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে।

alokito tv

Pin It on Pinterest