মো. ওমর ফারুক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের পাশাপাশি ফেয়ার কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে চাল বিতরনও অব্যাহত রয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফেয়ার কার্ডধারীদের দশ টাকা মূল্যে জনপ্রতি ত্রিশ কেজি চাল বিতরন চলছে। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় যে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে বলা হয় চাল বিতরনের সময় তার অবনতি দেখতে পাওয়া যায়। চাল বিতরনে দায়িত্বরত ডিলাগন কার্ডধারীদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হিমসিম খাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সরেজমিনে বুধবার সকালে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতি বাজারে ফেয়ার কার্ডধারীদের চাল বিতরনের সময় এমন দৃশ্য দেখা যায়। করোনা ভাইরেসের কারনে দেশ লকডাউন জানলেও সামাজিক দুরত্ব কি তা যেনো তাদের মাথায় নেই। তাদের সবাইকে একে অন্যের শরীরে ঠাসাঠাসিভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এনিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। তবে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে ডিলারদের তৎপর থাকতে দেখা যায়। কার্ডধারীদের দুরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁরানোর জন্য স্থানীয় চৌকিদারগন কিছুক্ষণ পরপর বাঁশি ফুঁ দিয়ে স্বরন করিয়ে দিতে দেখা যায়। জানা যায়, লালুয়া ইউনিয়নের মোট ১৫৯৬ জন কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরনের জন্য দায়িত্বরত দুই ডিলার হলেন মীর মাসুদ রানা ও মীর সালাউদ্দিন। এদের মধ্যে মীর মাসুদ রানা ৮৪৪ জন ও মীর সালাউদ্দিন ৭৫২ জন কার্ডধারীদের চাল উত্তোলন ও বিতরন করবেন। এসময় উভয় ডিলারের চাল বিতরনে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসারগন উপস্থিত ছিলেন। তবে চাল বিতরনে কোন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লালুয়ার ফেয়ার কার্ডের একাংশের ডিলার মীর মাসুদ রানা বলেন, আমি অত্যান্ত স্বচ্ছভাবে চাল বিতরন করছি। কোন কার্ডধারীকে নিয়ে সন্দেহ বা অন্য কোন সমস্যা হলে সাথেসাথে ইউপি সদস্য অথবা চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করে তা সমাধা করার চেষ্টা করছি। সামাজিক দুরত্বের বিষয়ে আমাদের একটু হিমসিম খেতে হচ্ছে। সাধারন মানুষগুলোকে খুব বুঝিয়ে দুরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছি। বিতরন শেষে যে চাল অবশিষ্ট থাকবে তা রেজিস্টারে উল্লেখ থাকবে বলেও তিনি জানান।