এবার কোরোনা জন্য দীর্ঘ ১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে ইফতার বাজার বন্ধ!

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২০

এবার কোরোনা জন্য দীর্ঘ ১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে ইফতার বাজার বন্ধ!
মোহাম্মদ জাবেদ স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা। মানুষ এর কোলাহল আর হাঁক ঢাকের চকবাজার- ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোংগা ভইরা লইয়া যায়’। সবই কেমন যেন নিস্তব্ধতা আর শূন্যতায় চকবাজারের ইফতার বাজার। রমজান মানেই চকবাজারের ইফতারি। শুধু দেশে নয়, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খানদানি ইফতারি সামগ্রীর সুনাম দেশের বাইরেও রয়েছে।৪০০ বছরের পুরাতন বাজার চকবাজারই ছিল ঢাকার প্রধান বাজার। সে সময় চকবাজার বাদশাহি বাজার নামে পরিচিত ছিল। চকবাজারের মতো না হলেও রায়সাহেব বাজার নাজিরাবাজার পুরান ঢাকার নামকরা বাজারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। দিনে দিনে ঢাকা শহরটাই হয়ে গেছে ইফতারির বাজার। তারপরও ইতিহাস ও স্বাদের কথা বললে পুরান ঢাকার কথাই প্রথমে চলে আসে।ইতিহাস থেকে জানা যায়, মুঘল আমলে চকবাজারের পত্তন হয়। মুঘল আমলে সেনাপতি মানসিংহ পূর্ববঙ্গে এসেছিলেন বিদ্রোহ দমন করতে। ১৬০২ সালে তিনি ভাওয়াল থেকে সদর দফতর স্থানান্তর করেছিলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায়। সেখানেই মুঘল দুর্গ স্থাপিত হয়েছিল। মুঘল দুর্গের পাশেই গড়ে উঠে চকবাজার। তবে, একসময় এই চকবাজারকে বহুলোক ‘চৌক বন্দর’ নামে ডাকতেন। মানসিংহের আমল থেকে চকবাজার যাত্রা শুরু করলেও এটি পূর্ণতা লাভ করেছিল মুর্শীদকুলি খাঁর সময়ে। মুর্শিদ কুলি খাঁর পর ওয়াল্টার সাহেব নতুন করে চকবাজার তৈরি করেন। সে সময় তিনি কোমর পর্যন্ত উচু দেওয়াল দিয়ে চকবাজার ঘিরে দিয়েছিলেন এবং বাজারে প্রবেশের জন্য ১৬ টি গেট করে দিয়েছিলেন। পুরান ঢাকার চকবাজারের ইফতারির খ্যাতি আর ঐতিহ্যের কথা এখন আর কারও অজানা নেই। রমজান উপলক্ষে প্রতিবারই জমে ওঠে এ ইফতার বাজার। রোজার শুরুতেই বাহারি ইফতারের পসরা সাজানো হয় ঢাকার এ প্রাচীন স্থানটিতে, যা থাকে মাসজুড়েই। কিন্তু এবার কোরোনার প্রকোপে সোস্যাল ডিসটেন্ট এর কথা মাথায় রেখে এই ঐতিহাসিক ইফতার বাজার আজ থেকে সিমিত আকারে ইফতারের বসার ব্যবস্থা করেছে প্রসাশন ।

 

alokito tv

Pin It on Pinterest