কলাপাড়ায় জেলেদের ভিজিডি চাল নিয়ে হরিলুট

প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২০

কলাপাড়ায় জেলেদের ভিজিডি চাল নিয়ে হরিলুট
মো. ওমর ফারুক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নে জেলেদের বিশেষ প্রনোদনার ভিজিডি চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। জেলেদের ভিজিডি চাল প্রতি ২ মাসের জন্য জনপ্রতি ৪০ কেজি হারে ৮০ কেজি দেয়ার কথা থাকলেও জেলেরা ৩০ কেজি করে পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ধানখালী ইউনিয়নের জন্য বরাদ্ধকৃত ৬২০ জেলের চাল উত্তোলন করা হয়। গত বুধবার হতে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ত্রান বিতরন কার্যক্রম চলছিল। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে ত্রাণ বিতরন করা হয়। জানা যায়, সেখানে জেলেদের জনপ্রতি ৮০ কেজি পরিবর্তে ৩০ কেজি হারে চাল দেয়া হয়েছে। এ অনিয়ম ইউনিয়নের প্রায় সবকয়টি ওয়ার্ডে হয়েছে বলে জানা যায়। বুধবার ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে ত্রাণ বিতরন করা হয়েছে। সেদিনও এভাবেই জেলেদের চাল দেয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। ২ নং ওয়ার্ডের ইসহাক উকিল, সৈয়দ খাঁন ও রুহুল আমিনসহ একাধিক জেলে ৩০ কেজি করে চাল পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, চেয়ারম্যানের অফিস হতে আমাদের মাথায় দুই বস্তা করে চাল দিয়ে নিচে নামার পর তা ভাগ ভাটোয়ারা করা হয়। তখন আমাদের ৩০ কেজির একটি বস্তা ধরিয়ে দেয়া হয়। প্রতিবাদ করলে ডিসির কাছে গিয়ে নালিশ করো এরকম আচরন করেন তারা। ইউনিয়নের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নেতৃবৃন্দরা এ ধরনের আচরন করেন বলে জানা যায়। ভূক্তভোগীরা আরোও অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নেতারা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্যদের সাথে আতাত করে দীর্ঘদিন ধরে এধরনে কাজ করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নেতারা একটি সিন্ডেকেট তৈরী করে এধরনে কাজ করছে বলে তারা জানান। তাদের মতে, চেয়ারম্যান ইচ্ছে করলে আমাদের এ সিন্ডিকেট হতে বাঁচাতে পারে। কিন্তু কেনো সে এবিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা তা আমাদের বোধগম্য নয়। অপরদিকে, ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ড হতেও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে ৩০ কেজি আবার কোথাও কোথাও ৪০ কেজি চাল দিয়েছে বলেও জানা যায়।
৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহআলম হাওলাদারের অসুস্থতায় তার ছেলে স্বপন হাওলাদার ওই ওয়ার্ডের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্বপন হাওলাদারের সাথে কথা হলে তিনি তার ওয়ার্ডে প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল বিতরন করেছেন বলে স্বীকার করেন। তার মতে, আমি ৪০ জন জেলেদের চাল এনে তা সমন্বয় করে ১২০ জনের মধ্যে বিতরণ করেছি। এধরনের সমন্বয়ে তার কোন আইনগত অধিকার আছে কিনা জানতে চাইলে তার কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি।
ক্ষুদ্রমৎস্যজীবী জেলে সমিতির কলাপাড়া উপজেলা সভাপতি আ: সালাম বিশ্বাস বলেন, বিগত এক বছরের উপরে ওই ইউনিয়নে আমার কমিটির মেয়াদ বিলুপ্ত হয়েছে। কেহ এধরনের কাজ করলে তিনি তাদের উপযুক্ত শাস্তি কামনা করেন।
এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায়সাড়া উত্তর দিয়ে বলেন, আমার এখান হতে প্রতি ২ জন জেলেকে ৫ বস্তা হারে চাল বিতরন করেছি। এখান হতে গিয়ে তারা কি করে, কতো কেজি করে পায় তা আমার দেখা ও জানার বিষয় না। তবে, ইউনিয়নের ক্ষুদ্রমৎস্যজীবী জেলা সমিতির নেতারা সমন্বয় করে চাল দিয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি জানান।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মাদ শহিদুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


alokito tv

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Pin It on Pinterest