জাহাঙ্গীর ইসলাম, বগুড়া প্রতিনিধি:-
বগুড়ায় চারজন পুলিশ সদস্য এবং শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার এক ব্যবসায়ী পরিবারের ৭ সদস্যসহ নতুন করে আরও ১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ডেপুটি বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এ তথ্য জানিয়েছেন। সবমিলিয়ে বগুড়া করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে পোষাক বিপনীগুলোতে উপচে ভীড় ও স্বাস্থ্য বিধি না মানায় বগুড়ার সবচেয়ে বড় বিপণি বিতান ‘নিউ মার্কেট’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ। এর ফলে ১২ মে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আফজাল রাজনের নেতৃত্বে একটি টিম দুপুরে নিউ মার্কেটে গিয়ে তা কার্যকর করেন। তবে জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন নেতৃবৃন্দ। ‘মার্কেট খোলার প্রথম দিন থেকে সেখানকার দোকানগুলোতে যেভাবে মানুষের ভিড় বাড়ছিল তাতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছিল।’। ‘এতে শহরবাসীর মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিলম্বে হলেও নিউ মার্কেট বন্ধের এই সিদ্ধান্তে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে’ বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সচেতনমহল। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারাদেশের মত বগুড়ার নিউ মার্কেটসহ সকল বিপণি বিতান গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক দফায় বাড়িয়ে তা ১৬ মে পর্যন্ত বলবৎ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বগুড়ায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন গত ২১ এপ্রিল পুরো জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী ১২ মে পর্যন্ত এ জেলায় মোট ৫২জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার জেলায় সর্বোচ্চ ১১জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। রমজান ও ঈদে মানুষের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ মে থেকে সারাদেশে প্রায় ১০টি শর্তে সীমিত পরিসরে দোকান-পাট ও মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। এসব শর্তের প্রথম ছিলো ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। তবে খোলার প্রথম দিনই বগুড়া নিউ মার্কেটে কেনা-কাটা করতে আসা মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। মার্কেটগুলোতে বেচা-কেনার সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা কাউকেই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতেও দেখা যায়নি। বরং পছন্দের পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল ও কসমেটিক্সসহ অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্য ক্রেতাদেরকে একেবারে গা ঘেঁষাঘেঁষি এমনকি ঠেলাঠেলিও করতে দেখা গেছে। অনেকে তাদের শিশু সন্তানদের নিয়েও কেনাকাটা করতে আসেন। হাতে গোনা কয়েকটি বড় দোকানে বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করতে দেখা গেলেও অধিকাংশ দোকানিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় নুন্যতম কোন সুরক্ষা ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, নিউ মার্কেটে কেনা-বেচার ক্ষেত্রে কোনভাবেই স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছিল না। তাই জনকল্যাণে সেটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ দিকে জেলা সদরের নিউ মার্কেট বন্ধ হলেও উপজেলা পর্যায়ের সপিংমল বা বিপনী মার্কেটগুলো বন্ধ না হওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন সচেতন মহল। তবে উপজেলা পর্যায়ের মার্কেটগুলো বন্ধ করা নিয়ে জেলা প্রশাসনের কোন নিদের্শনা আসেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন। এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, শেরপুরের মার্কেটগুলোতেও উপচে ভীড়, স্বাস্থ্যবিধি মানছেনা ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে এসব মার্কেট বন্ধে কেন্দ্রীয়ভাবে কোন নিদের্শনা এখনো আসেনি। সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে নির্দেশনা আসলেই এসব মার্কেট বন্ধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।