ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ঝুঁকিতে রয়েছে তালতলীর অর্ধ লক্ষ মানুষ

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ঝুঁকিতে রয়েছে তালতলীর অর্ধ লক্ষ মানুষ
মোঃ হাইরাজ বরগুনা প্রতিনিধি :- তালতলী উপকূলের সাগর ও পায়রা নদী সংলগ্ন অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের আতঙ্ক থাকলেও সাগর ও নদী পাড়ের জেলে পল্লীর মানুষের নেই সচেতনতা। উপকুলের মানুষকে রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সাগর ও নদীতে মাছ ধরা ট্রলার, নৌকা ও মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য মঙলবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। তালতলী ঘুর্ণিঝড় কর্মসূচী সি পি পির অফিস সুত্রে জানাগেছে, ঘুর্ণিঝড় আম্ফান পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। উপকুলীয় এ অঞ্চলটিতে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সাগর ও নদী সংলগ্ন মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকাসহ জেলেদের নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়েছে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে রাখতে খোলা রাখা হয়েছে ৫২টি আশ্রয় কেন্দ্র । প্রস্তুত রাখা হয়েছে পাঁচ শতাধীক সেচ্ছাসেবক। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কেন্দ্র ঘুর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি নিয়েছে। উপকুলের মানুষকে সচেতন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। এদিকে উপজেলার সাগর ও পায়রা নদী সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বাহিরে অন্তত অর্ধ লক্ষ মানুষ ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে উপকুলীয় এলাকায় প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার সাগর ও পায়রা নদী সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বাহিরে পঁচাকোড়ালিয়া, ছোটবগী, মৌপাড়া, গাবতলী, চরপাড়া, তালতলী, খোট্টারচর, তেঁতুলবাড়িয়া, জয়ালভাঙ্গা, নলবুনিয়া, ফকিরহাট, নিদ্রাসকিনা ও আমখোলাসহ উপকুলের এ অঞ্চলের অন্তত অর্ধ লক্ষ মানুষ ঘুর্ণিঝড় আম্ফাণের ঝুঁকিতে রয়েছে। ফকিরহাট বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোঃ ছালাম হাওলাদার বলেন, উপকুলের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বাহিরের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হলেও তারা তা মানছে না। তিনি আরো বলেন,ঘুর্ণিঝড় আম্ফানকে তারা আমলেই নিচ্ছে না। তাদের দ্রুত সরিয়ে না নিলে ঘূর্ণিঝড় সাইক্লোণ সিডরের পুনাবৃত্তি ঘটার সম্ভবনা রয়েছে। দ্রুত তাদের সরিয়ে নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানাই। উপজেলা সিপিপির টিম লিডার মোঃ আলতাফ হোসেন বলেন, ঘুর্ণিঝড় আম্ফান পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে৭৭৫ কিলোমিটার দুরে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আম্ফান মোকাবেলায় ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। মানুষকে নিরাপদে আনতে ইতিমধ্যে সেচ্ছাসেবকরা কাজ শুরু করছে। তিনি আরো বলেন, আগামী বুধবার বিকেলে ঘুর্ণিঝড় আম্ফান উপকুলীয় অঞ্চল অতিক্রম করতে পারে। তালতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোসাঃ রানু বেগম বলেন, ঘুর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় এ উপজেলায় ৫২ টি সাইক্লোণ সেল্টার ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ঘুর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় মানুষকে সচেতন ও জেলেদের নিরাপদে থাকতে মাইকিং চলছে। এ উপজেলাতে মোট ১১টি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে ১১টি সাইক্লোন শেল্টারে মানুষদের আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ৪১টি স্কুলকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি ব্যাক্তি মালিকানাধীন ভবন খালি থাকলেও সে গুলোকে আশ্রয় কেন্দ্রের সাথে যুক্ত করা হবে । এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে সামাজিক দূরত্ব মেনে অবস্থান করতে হবে। উপজেলায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলার পাশাপাশি তিনটি জরুরি মোবাইল নম্বর সচল রাখা হয়েছে। বেরি বাঁধের বাইরে কোন লোক থাকতে পারবেনা প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করে নিয়ে আসা হবে। জরুরি চলাচলের জন্য নৌযান ও যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব বাহনের মাধ্যমে জরুরি প্রয়োজনসহ ঘূর্ণিঝড়–পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।

alokito tv

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Pin It on Pinterest