৫পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৭ জনকে কুপিয়ে জখম

প্রকাশিত: ১০:২১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২০

৫পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৭ জনকে কুপিয়ে জখম

শফিউর রহমান কামাল বরিশাল ব্যুরোঃ বাবুগঞ্জে বসতঘরের ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের জন্য টিনের বেড়া দিয়ে ৫ পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত সালিশের রায় বিপক্ষে যাওয়ায় মহিলাসহ ৭ জনকে উপুর্যুপরি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৫ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার রামপট্টি গ্রামে বড় ঢালি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের রামপট্টি গ্রামের বড় ঢালি বাড়িতে রাস্তা নির্মাণ নিয়ে কাঞ্চন ঢালি ও সিদ্দিক ঢালি গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। সিদ্দিক ঢালি তার বসতঘরের উত্তর-পূর্ব পাশ দিয়ে ৬ ফুট প্রস্থের ওই রাস্তা দিতে চাইলেও কাঞ্চন ঢালি জোরপূর্বক সিদ্দিক ঢালির উঠান এবং পরিত্যক্ত একটি বসতঘরের ওপর দিয়ে ওই রাস্তা নির্মাণের জেদ ধরেন। এ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের এক পর্যায়ে প্রভাবশালী কাঞ্চন ঢালি প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে তার দলবল নিয়ে গত সপ্তাহে সিদ্দিক ঢালির বসতঘরসহ তার পরিবারের সদস্যদের ৫টি বসতঘরের সামনে টিন ও বাঁশের বেড়া তুলে দিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলেন। এ ঘটনা মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশ ডাকা হলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাদেক খানসহ ৭ জন সালিশদার মনোনীত হয়। সালিশদাররা উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সরজমিনে সাক্ষ্য-প্রমাণ নিয়ে শনিবার সকালে তাদের রায়ের রোয়েদাদনামা দেন। ওই সালিশের রায়ে কাঞ্চন ঢালি গংরা হেরে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে কাঞ্চন ঢালি, জসিম ঢালি, কামাল ঢালি ও রাসেল ঢালি নেতৃত্বে তাদের ভাড়াটে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শনিবার দুপুরেই তাদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে জানান সিদ্দিক ঢালি। এসময় হামলাকারীরা সিদ্দিক ঢালিসহ তার পরিবারের ৭ জনকে উপুর্যুপরি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রহিমা বেগম (৫০), সুমনা আক্তার (৩২), রাশিদা বেগম (৪০), জেসমিন আক্তার (৪৫) ও সিদ্দিক ঢালিকে (৪০) উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে স্থানীয়রা। এছাড়াও ওই হামলায় আহত সালমা বেগম (৪৮) ও রফিক ঢালিকে (৩৭) স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আহতদের পক্ষে সোহাগ ঢালি শনিবার সন্ধ্যায় এয়ারপোর্ট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। মুঠোফোনে ওই হামলা এবং বর্ণিত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন সালিশদার কাজী দেলোয়ার হোসেন ও হারুন অর রশিদ প্রধান। এয়ারপোর্ট থানার ওসি জাহিদ বিন আলম জানান, এ ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজ্জু করাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে এ ঘটনায় পরে অভিযুক্ত কাঞ্চন ঢালি ও তার সহযোগীরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


alokito tv

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Pin It on Pinterest