ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন:পুলিশ সুপার ঢাকা সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, কনস্যুলেটের চিঠিতে যা জানা গেল এ দেশে সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরাই এমপি,মন্ত্রী হয়-মেজর হাফিজ। তজুমদ্দিনকে পৌরসভায় রূপান্তর ও মেঘনার পাড়ে পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা সিরাজগঞ্জে অবৈধভাবে ডিসপেন্সার মেশিনে জ্বালানি বিক্রি, জরিমানা ও ডিপমেন্সার জব্দ ​মর্তুজাবাদ কামিল (মাস্টার্স) মাদরাসার ৬০ বছর পূর্তি ও হীরক জয়ন্তী আয়োজনে প্রস্তুতি সভা ৭ রোগে আক্রান্তদের এক লাখ টাকা করে দেবে সরকার, আবেদন করবেন যেভাবে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক: কার্যকর হচ্ছে ১ নভেম্বর থেকে মধুপুরে পাঁচ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক আবারও চালু হচ্ছে ডিভি লটারি, আবেদন শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ১ নভেম্বর অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাসায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮৪ জনকে আটক।

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, কনস্যুলেটের চিঠিতে যা জানা গেল

  • আপডেটের সময় : ০৮:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ সময় দৃশ্য
৩১

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগে বা পরে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানত না কনস্যুলেট

কনস্যুলেটের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির গণমাধ্যমে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়। ওই খবরের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ মিশন।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, পবিত্র মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ কিংবা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে কোনো তথ্য দেয়নি।

২০২৩ সাল থেকে কারাগারে ছিলেন তাঁরা

কনস্যুলেটের চিঠি অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সৌদি আরবের কারাগারে আটক ছিলেন।

তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরদিন ২ আগস্ট ব্যভিচারের অভিযোগে আটক হন সুইটি আক্তার। নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দার নারী কারাগারে বন্দি ছিলেন।

তাঁরা দুজনই সৌদি আরবের আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

বন্দিদের তালিকায় ছিল না সাজার তথ্য

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য চেয়েছিল জেদ্দা কনস্যুলেট। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া বন্দিদের তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ঘোষিত সাজা সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না।

কনস্যুলেটের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের নজির আগে ছিল না।

আইনি সহায়তার আবেদন করেনি পরিবার

কনস্যুলেটের চিঠিতে আরও বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তার জন্য কনস্যুলেটে কোনো আবেদন করা হয়নি। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কনস্যুলেটের কোনো যোগাযোগও হয়নি। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা বা তা কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ মিশনকে অবহিত করেনি।

এদিকে, জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতাধীন সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সাজা এক মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত।

রায়ের অনুলিপি চেয়ে কূটনৈতিক পত্র

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও আদালতের রায়ের অনুলিপি চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়েছে জেদ্দা কনস্যুলেট।

কনস্যুলেট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মামলার রায়ের অনুলিপি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন:পুলিশ সুপার ঢাকা

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, কনস্যুলেটের চিঠিতে যা জানা গেল

আপডেটের সময় : ০৮:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৩১

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগে বা পরে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানত না কনস্যুলেট

কনস্যুলেটের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির গণমাধ্যমে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়। ওই খবরের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ মিশন।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, পবিত্র মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ কিংবা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে কোনো তথ্য দেয়নি।

২০২৩ সাল থেকে কারাগারে ছিলেন তাঁরা

কনস্যুলেটের চিঠি অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সৌদি আরবের কারাগারে আটক ছিলেন।

তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরদিন ২ আগস্ট ব্যভিচারের অভিযোগে আটক হন সুইটি আক্তার। নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দার নারী কারাগারে বন্দি ছিলেন।

তাঁরা দুজনই সৌদি আরবের আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

বন্দিদের তালিকায় ছিল না সাজার তথ্য

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য চেয়েছিল জেদ্দা কনস্যুলেট। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া বন্দিদের তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ঘোষিত সাজা সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না।

কনস্যুলেটের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের নজির আগে ছিল না।

আইনি সহায়তার আবেদন করেনি পরিবার

কনস্যুলেটের চিঠিতে আরও বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তার জন্য কনস্যুলেটে কোনো আবেদন করা হয়নি। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কনস্যুলেটের কোনো যোগাযোগও হয়নি। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা বা তা কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ মিশনকে অবহিত করেনি।

এদিকে, জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতাধীন সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সাজা এক মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত।

রায়ের অনুলিপি চেয়ে কূটনৈতিক পত্র

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও আদালতের রায়ের অনুলিপি চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়েছে জেদ্দা কনস্যুলেট।

কনস্যুলেট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মামলার রায়ের অনুলিপি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।