ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
উজিরপুরে শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টএর উদ্বোধন করেন-এমপি এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু তারাগঞ্জে দুর্গোৎসবে সরকারি অনুদান বিতরণ ও প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার: মীর শাহে আলম সিলেট সীমান্তে ৪৯ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ ‎বগুড়ায় ৪৯তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ উদ্বোধন বরিশালে সোনালী ব্যাংকের উদ্যোগে বাংলা কিউআর লেনদেনের উদ্বোধন চট্টগ্রামে ৩০০ বছরের পুরোনো পূজামণ্ডপে প্রথমবার একসঙ্গে ডিসি-এসপি মধুপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন, র‍্যালি-আলোচনা সভা ও মহড়া কোটালীপাড়ায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে রেলী ও আলোচনা সভা মাধবপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন

চট্টগ্রামে ৩০০ বছরের পুরোনো পূজামণ্ডপে প্রথমবার একসঙ্গে ডিসি-এসপি

  • আপডেটের সময় : ০৩:৫১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৪ সময় দৃশ্য
৪৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পদুয়া গুপ্তবাড়ি সর্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। আয়োজকদের দাবি, ঐতিহাসিক এই পূজামণ্ডপে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার একসঙ্গে পরিদর্শনে আসার ঘটনা এবারই প্রথম।

 

তাঁদের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত হয়েছেন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতারা।

 

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে দেখতে মণ্ডপটিতে যান জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। এ সময় তাঁরা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক প্রস্তুতি, সম্ভাব্য সমস্যা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার খোঁজখবর নেন।

 

লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত পদুয়া গুপ্তবাড়ি পূজামণ্ডপটি পদুয়া বাজার থেকে প্রায় ৪০০ মিটার পূর্বে। স্থানীয় আয়োজকদের ভাষ্য, প্রায় তিন শতাব্দী ধরে এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারি কর্মকর্তারা মণ্ডপটি পরিদর্শন করলেও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের একসঙ্গে আসার ঘটনা তাঁদের জানা নেই।

 

পদুয়া গুপ্তবাড়ি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সভাপতি অতনু গুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত বলেন, জেলার শীর্ষ দুই কর্মকর্তার একসঙ্গে মণ্ডপ পরিদর্শনে তাঁরা আনন্দিত ও আশ্বস্ত। এতে প্রশাসনের প্রতি তাঁদের আস্থা আরও বেড়েছে। পূজা আয়োজন নিয়ে তাঁরা কোনো ধরনের নিরাপত্তাশঙ্কাও অনুভব করছেন না
আয়োজকদের একজন বলেন, ‘তাঁদের মতো ব্যক্তিরা আমাদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে এসেছেন, এটা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়।

নিশ্চিন্ত থাকার মতো একটা বিষয়, সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে: ডিসি

এর আগে লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। এই উৎসবকে ঘিরে গড়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধনের পেছনে রয়েছে বহু প্রজন্মের ত্যাগ ও অবদান
তিনি বলেন, ‘আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অহংকার।

 

আমরা নিশ্চয়ই চাই না, বিশ্বের কাছে আমাদের এই গৌরবময় ঐতিহ্য কোনোভাবে খাটো হয়ে যাক।’

উৎসবের আনন্দ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। দর্শনার্থীর উপস্থিতিও বাড়তে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার মণ্ডপগুলোর জন্য সহায়তা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে প্রশাসনের দায়িত্বও।

 

প্রতিমা মণ্ডপে আনা থেকে শুরু করে বিজয়া দশমীর বিসর্জন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবকদের পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি। কোনো সময় যেন মণ্ডপ নিরাপত্তা ও নজরদারির বাইরে না থাকে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন।

 

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, উৎসবের আনন্দ যেন কোনোভাবেই বিষাদে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

৭০ পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা, গুজব ঠেকাতে সাইবার নজরদারি লোহাগাড়ায় ৭০টি সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে

 

গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে স্থায়ী পুলিশি দায়িত্বের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ টহল, সাদা পোশাকে নজরদারি এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে।

 

পুলিশ সুপার বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। এসব প্রতিরোধে জেলা পুলিশের সাইবার ইউনিটের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সাইবার ইউনিটও কাজ করবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

পূজা চলাকালে মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধেও বাড়তি নজরদারি থাকবে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া লোহাগাড়ার পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার কথাও জানান পুলিশ সুপার।
মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ

পদুয়া গুপ্তবাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সরেজমিনে দেখতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা মণ্ডপে মণ্ডপে যাচ্ছি। তাদের সার্বিক প্রস্তুতি কেমন, কোনো সমস্যা আছে কি না, তাদের পরিকল্পনা কী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোতায়েন কেমন হবে, এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করছি।’
গুপ্তবাড়ি পূজামণ্ডপের প্রস্তুতির প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, মণ্ডপের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আয়োজকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, তাঁদের এই সার্বিক আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে এবং আমাদের যে ঐতিহ্য, আমাদের যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে, সেটি অটুট থাকবে
এ সময় পূজা আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।

 

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন এবং লোহাগাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন
এ ছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন
সভা শেষে জেলা প্রশাসক উপজেলার দুটি এতিমখানার শিশুদের মধ্যে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন।

 

পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদুয়া গুপ্তবাড়ি পূজামণ্ডপের পাশাপাশি পদুয়া হিন্দু বড়পাড়া বাসুদেববাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

 

পদুয়া গুপ্তবাড়ি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সভাপতি অতনু গুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের তৎপরতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

উজিরপুরে শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টএর উদ্বোধন করেন-এমপি এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু

চট্টগ্রামে ৩০০ বছরের পুরোনো পূজামণ্ডপে প্রথমবার একসঙ্গে ডিসি-এসপি

আপডেটের সময় : ০৩:৫১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
৪৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পদুয়া গুপ্তবাড়ি সর্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। আয়োজকদের দাবি, ঐতিহাসিক এই পূজামণ্ডপে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার একসঙ্গে পরিদর্শনে আসার ঘটনা এবারই প্রথম।

 

তাঁদের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত হয়েছেন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতারা।

 

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে দেখতে মণ্ডপটিতে যান জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। এ সময় তাঁরা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক প্রস্তুতি, সম্ভাব্য সমস্যা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার খোঁজখবর নেন।

 

লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত পদুয়া গুপ্তবাড়ি পূজামণ্ডপটি পদুয়া বাজার থেকে প্রায় ৪০০ মিটার পূর্বে। স্থানীয় আয়োজকদের ভাষ্য, প্রায় তিন শতাব্দী ধরে এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারি কর্মকর্তারা মণ্ডপটি পরিদর্শন করলেও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের একসঙ্গে আসার ঘটনা তাঁদের জানা নেই।

 

পদুয়া গুপ্তবাড়ি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সভাপতি অতনু গুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত বলেন, জেলার শীর্ষ দুই কর্মকর্তার একসঙ্গে মণ্ডপ পরিদর্শনে তাঁরা আনন্দিত ও আশ্বস্ত। এতে প্রশাসনের প্রতি তাঁদের আস্থা আরও বেড়েছে। পূজা আয়োজন নিয়ে তাঁরা কোনো ধরনের নিরাপত্তাশঙ্কাও অনুভব করছেন না
আয়োজকদের একজন বলেন, ‘তাঁদের মতো ব্যক্তিরা আমাদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে এসেছেন, এটা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়।

নিশ্চিন্ত থাকার মতো একটা বিষয়, সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে: ডিসি

এর আগে লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। এই উৎসবকে ঘিরে গড়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধনের পেছনে রয়েছে বহু প্রজন্মের ত্যাগ ও অবদান
তিনি বলেন, ‘আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অহংকার।

 

আমরা নিশ্চয়ই চাই না, বিশ্বের কাছে আমাদের এই গৌরবময় ঐতিহ্য কোনোভাবে খাটো হয়ে যাক।’

উৎসবের আনন্দ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। দর্শনার্থীর উপস্থিতিও বাড়তে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার মণ্ডপগুলোর জন্য সহায়তা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে প্রশাসনের দায়িত্বও।

 

প্রতিমা মণ্ডপে আনা থেকে শুরু করে বিজয়া দশমীর বিসর্জন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবকদের পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি। কোনো সময় যেন মণ্ডপ নিরাপত্তা ও নজরদারির বাইরে না থাকে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন।

 

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, উৎসবের আনন্দ যেন কোনোভাবেই বিষাদে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

৭০ পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা, গুজব ঠেকাতে সাইবার নজরদারি লোহাগাড়ায় ৭০টি সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে

 

গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে স্থায়ী পুলিশি দায়িত্বের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ টহল, সাদা পোশাকে নজরদারি এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে।

 

পুলিশ সুপার বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। এসব প্রতিরোধে জেলা পুলিশের সাইবার ইউনিটের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সাইবার ইউনিটও কাজ করবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

পূজা চলাকালে মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধেও বাড়তি নজরদারি থাকবে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া লোহাগাড়ার পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার কথাও জানান পুলিশ সুপার।
মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ

পদুয়া গুপ্তবাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সরেজমিনে দেখতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা মণ্ডপে মণ্ডপে যাচ্ছি। তাদের সার্বিক প্রস্তুতি কেমন, কোনো সমস্যা আছে কি না, তাদের পরিকল্পনা কী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোতায়েন কেমন হবে, এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করছি।’
গুপ্তবাড়ি পূজামণ্ডপের প্রস্তুতির প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, মণ্ডপের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আয়োজকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, তাঁদের এই সার্বিক আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে এবং আমাদের যে ঐতিহ্য, আমাদের যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে, সেটি অটুট থাকবে
এ সময় পূজা আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।

 

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন এবং লোহাগাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন
এ ছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন
সভা শেষে জেলা প্রশাসক উপজেলার দুটি এতিমখানার শিশুদের মধ্যে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন।

 

পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদুয়া গুপ্তবাড়ি পূজামণ্ডপের পাশাপাশি পদুয়া হিন্দু বড়পাড়া বাসুদেববাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

 

পদুয়া গুপ্তবাড়ি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সভাপতি অতনু গুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের তৎপরতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে