
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুরে পারিবারিক বিরোধ থামাতে গিয়ে পুত্রবধূর ধাক্কায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ শ্বশুর গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই বৃদ্ধের নাম মৌলভী আব্দুল বারী। তিনি উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের বাদেগাঙ্গাইর গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২ অক্টোবর বিকেলে বাদেগাঙ্গাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার দিন আব্দুল বারীর ছেলে রেজাউল করিম ও তার স্ত্রী আইরিনের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া চলছিল। একপর্যায়ে আব্দুল বারী তাদের বিরোধ থামাতে এগিয়ে গেলে পুত্রবধূ আইরিন তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং ধাক্কা দেন। এতে তিনি বারান্দা থেকে নিচে পড়ে সিঁড়িতে আঘাত পান।
পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতের পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনায় আব্দুল বারীর কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে ঘাটাইল উপজেলার দড়ি চৈথট এলাকার আজহার আলীর মেয়ে আইরিনের সঙ্গে রেজাউল করিমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় দুই বছর পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল বলে তাদের দাবি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। রেজাউল করিম পেশায় একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাদের সংসারে সপ্তম ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া দুটি মেয়ে রয়েছে।
আহতের পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর আইরিন তার বাবার বাড়িতে খবর দিলে তার বাবা আজহার আলীসহ কয়েকজন লোক রেজাউল করিমের বাড়িতে আসেন। এ সময় তারা বাড়ি থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র, স্বর্ণালংকার, রেজাউল করিমের চাকরিসংক্রান্ত কাগজপত্র ও দলিলপত্র নিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে আইরিনের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ ঘটনায় আব্দুল বারীর মেয়ে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”























