
নিজস্ব প্রতিবেদক: পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র চেয়ারম্যান ও ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর আইনি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। শেয়ার হস্তান্তরের চূড়ান্ত রায় প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করে আদালত অবমাননার দায়ে তার বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেছেন।
পূবালী ব্যাংকের শেয়ার ও আদালত অবমাননা:
১৯৯৪ সালে মিসেস তাশিয়া খানম ৩০,৩৪৭টি শেয়ার সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইনের কাছে বিক্রি করেন। ২০১১ সালে হাইকোর্ট এ হস্তান্তরকে বৈধ ঘোষণা করেন এবং আপিল ও রিভিউ বিভাগে তা বহাল থাকে। কিন্তু আপিল বিভাগের ৬ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ ২০১১ সালের ২৭ জুন শেষ হলেও, মঞ্জুরুর রহমানের সভাপতিত্বে ১৩ জুলাই পূবালী ব্যাংকের ৮৩০তম বোর্ড সভায় বেআইনিভাবে শেয়ারের বোনাস ও লভ্যাংশ তাশিয়া খানমকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইন আদালত অবমাননার মামলা (নং ৩৮৪/২০২৬) দায়ের করলে গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিচারপতি এস. এম. মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস.এম. ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের বেঞ্চ মঞ্জুরুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। আবেদনকারী এখন ২,৯৬,২০,৩৯৭টি শেয়ার এবং ৫১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি লভ্যাংশ ও সুদ দাবি করেছেন।
ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও আর্থিক অনিয়ম:
শুধু ব্যাংকিং খাতই নয়, ডেল্টা লাইফে একনাবিনের অডিট রিপোর্টে ৩,৬৮৭ কোটি টাকার জালিয়াতির চিত্র উঠে আসে। এ ঘটনায় দুদক মঞ্জুরুর রহমান ও তার পরিবারের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে ৬৩৮ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা করেছে। এছাড়া, পূবালী ব্যাংকে ডলার কেনা ও এলসি জালিয়াতির মাধ্যমে ২১১ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগেও দুদক আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ার মালিকানা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় থাকায় এ বিষয়ে পুনরায় প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই (Res Judicata)। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতের এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ সাধারণ বিনিয়োগকারী ও পলিসি গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।



















