ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন নিয়ে উত্তেজনা, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন নাগেশ্বরীতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে গন সংযোগে ব্যাস্ত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। চুনারুঘাটে ৪৮ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ ঢাকায় আইএসজিএফের ৭৩তম ফেলোশিপ ডে উদযাপন দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুলিশ সিলেটে হামের মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২০০ মাধবপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ভস্মিভূত, প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সলঙ্গায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার শেয়ার কেলেঙ্কারি ও আদালত অবমাননার দায়ে মঞ্জুরুর রহমানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল, ডেল্টা লাইফেও ৩,৬৮৭ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিরাজগঞ্জে মাঠে ডিসি, একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন নিয়ে উত্তেজনা, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

  • আপডেটের সময় : ০১:২৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ সময় দৃশ্য
১৩

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পিরোজপুর: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়  নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে পিরোজপুরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর পরিবারের নারী সদস্যদের উদ্যোগে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও বোন নিজেরাই কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

দুপুরে মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে দাফন ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাধার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায়।

সেখানে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় মরদেহ রাখা হয়। রাতে পুলিশ মরদেহ তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিলে পরিবারের নারী সদস্যরা কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন। রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কবর ভরাটের অভিযোগ

মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এর আগে তাঁর দাফনের জন্য খোঁড়া কবরটি একপর্যায়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা আবার কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।

মানিক পশারীর বোনের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহ বাড়িতে আনার পর পরিবারের নারী সদস্যরাই দাফনের জন্য মাটি দেওয়ার কাজ করেন। সেখানে কোনো পুরুষ স্বজন উপস্থিত ছিলেন না বলে তিনি জানান।

জামায়াতের বক্তব্য

দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর দাবি, জেলা জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেননি। বরং পুলিশকে সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

পুলিশ যা বলছে

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের নিরাপত্তায় মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কে ছিলেন মানিক পশারী?

মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে যশোর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

 

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন নিয়ে উত্তেজনা, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন নিয়ে উত্তেজনা, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

আপডেটের সময় : ০১:২৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১৩

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পিরোজপুর: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়  নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে পিরোজপুরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর পরিবারের নারী সদস্যদের উদ্যোগে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও বোন নিজেরাই কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

দুপুরে মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে দাফন ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাধার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায়।

সেখানে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় মরদেহ রাখা হয়। রাতে পুলিশ মরদেহ তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিলে পরিবারের নারী সদস্যরা কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন। রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কবর ভরাটের অভিযোগ

মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এর আগে তাঁর দাফনের জন্য খোঁড়া কবরটি একপর্যায়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা আবার কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।

মানিক পশারীর বোনের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহ বাড়িতে আনার পর পরিবারের নারী সদস্যরাই দাফনের জন্য মাটি দেওয়ার কাজ করেন। সেখানে কোনো পুরুষ স্বজন উপস্থিত ছিলেন না বলে তিনি জানান।

জামায়াতের বক্তব্য

দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর দাবি, জেলা জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেননি। বরং পুলিশকে সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

পুলিশ যা বলছে

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের নিরাপত্তায় মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কে ছিলেন মানিক পশারী?

মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে যশোর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।