ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার: জাতিসংঘ মাধবপুরে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা, যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড উজিরপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে আটক ২,দুজনকেই ৭ দিনের কারাদণ্ড এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন দিন ৩১ অক্টোবর সিরাজগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত সিরাজগঞ্জে ফেনসিডিল মামলায় বাসচালকের যাবজ্জীবন, সুপারভাইজার খালাস বরিশালে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা- প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ক্রসফায়ার” নিয়ে আইজিপির বক্তব্য সম্পর্কে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ব্যাখ্যা

মাধবপুরের ৭৭ স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই, ৬৪ সহকারী শিক্ষক পদও শূন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় অশনিসংকেত

  • আপডেটের সময় : ০৪:২৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৪৬ সময় দৃশ্য
২৮২

এম এ বাছির রাজা, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৭টি প্রধান শিক্ষক ও ৬৪টি সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বিদ্যালয়ে একজন বা দুইজন শিক্ষককে দিয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে নিতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

উপজেলা শিক্ষা অফিস ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাধবপুরে মোট ১৪১টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৭৭টি পদ খালি। এসব বিদ্যালয়ের ৩৪টিতে চলতি দায়িত্বে এবং ৪৩টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ৬৪টি পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটের সবচেয়ে করুণ চিত্র দেখা গেছে ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রামেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২২৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে সেখানে কর্মরত শিক্ষক মাত্র দুইজন। বিদ্যালয়ের ছয়টি অনুমোদিত পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ চারটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহিতোষ চন্দ্র সূত্রধর বলেন, “দুইজন শিক্ষক দিয়ে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে নিতে হচ্ছে। কোনো শিক্ষক ছুটিতে গেলে বা প্রশিক্ষণ ও সভায় অংশ নিলে একজন শিক্ষককে পুরো বিদ্যালয় সামলাতে হয়।

 

এতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।” তিনি জানান, ২০১৮ সালের মার্চ থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। পরবর্তীতে কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বদলি ও চাকরি ছাড়ার পর সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একই অবস্থা বুল্লা ইউনিয়নের মাঝিশ্বাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে সরকারি শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। পাঠদান সচল রাখতে অন্য বিদ্যালয় থেকে দুইজন শিক্ষককে প্রেষণে এনে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে।

 

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, বদলি, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা ও ছুটির কারণে সেখানে শিক্ষক সংকট চরমে পৌঁছেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, শিক্ষক বদলির পর শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মাধবপুর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হেফজুর রহমান বলেন, “শিক্ষক সংকটের কারণে উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত নিয়োগ ছাড়া এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়।”

সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ মহালদার বলেন, “একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এত বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকা উদ্বেগজনক।” উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে শিক্ষক সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক এনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।”

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, “নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলেই সংকট অনেকাংশে কেটে যাবে। বিষয়টি নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।” এদিকে অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রাথমিক শিক্ষাই একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। অথচ শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শ্রেণিভিত্তিক পাঠদান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত শূন্য পদ পূরণ না হলে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা, ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার: জাতিসংঘ

মাধবপুরের ৭৭ স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই, ৬৪ সহকারী শিক্ষক পদও শূন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় অশনিসংকেত

আপডেটের সময় : ০৪:২৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
২৮২

এম এ বাছির রাজা, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৭টি প্রধান শিক্ষক ও ৬৪টি সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বিদ্যালয়ে একজন বা দুইজন শিক্ষককে দিয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে নিতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

উপজেলা শিক্ষা অফিস ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাধবপুরে মোট ১৪১টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৭৭টি পদ খালি। এসব বিদ্যালয়ের ৩৪টিতে চলতি দায়িত্বে এবং ৪৩টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ৬৪টি পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটের সবচেয়ে করুণ চিত্র দেখা গেছে ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রামেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২২৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে সেখানে কর্মরত শিক্ষক মাত্র দুইজন। বিদ্যালয়ের ছয়টি অনুমোদিত পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ চারটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহিতোষ চন্দ্র সূত্রধর বলেন, “দুইজন শিক্ষক দিয়ে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে নিতে হচ্ছে। কোনো শিক্ষক ছুটিতে গেলে বা প্রশিক্ষণ ও সভায় অংশ নিলে একজন শিক্ষককে পুরো বিদ্যালয় সামলাতে হয়।

 

এতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।” তিনি জানান, ২০১৮ সালের মার্চ থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। পরবর্তীতে কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বদলি ও চাকরি ছাড়ার পর সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একই অবস্থা বুল্লা ইউনিয়নের মাঝিশ্বাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে সরকারি শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। পাঠদান সচল রাখতে অন্য বিদ্যালয় থেকে দুইজন শিক্ষককে প্রেষণে এনে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে।

 

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, বদলি, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা ও ছুটির কারণে সেখানে শিক্ষক সংকট চরমে পৌঁছেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, শিক্ষক বদলির পর শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মাধবপুর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হেফজুর রহমান বলেন, “শিক্ষক সংকটের কারণে উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত নিয়োগ ছাড়া এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়।”

সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ মহালদার বলেন, “একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এত বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকা উদ্বেগজনক।” উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে শিক্ষক সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক এনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।”

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, “নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলেই সংকট অনেকাংশে কেটে যাবে। বিষয়টি নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।” এদিকে অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রাথমিক শিক্ষাই একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। অথচ শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শ্রেণিভিত্তিক পাঠদান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত শূন্য পদ পূরণ না হলে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা, ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।