
মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বিশেষ প্রতিনিধি চট্রগ্রাম:-এসজেডএইচএম ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন আত্মোন্নয়নমূলক যুব সংগঠন তাজকিয়া’র ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তাজকিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘তাসাওউফ: তারুণ্যের আত্মঅন্বেষণ ও আত্মজাগরণ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।১লা অক্টোবর২০২৬ইংরেজী বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন এবং তাজকিয়ার উপদেষ্টা এইচ. আর. মেহেবুব জিকো।অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ সাইফুল আজম বাবর আল-আজহারী, প্রেসিডেন্ট, নর্থ আমেরিকান মুসলিম অ্যালায়েন্স এবং খতিব, রহমাতুল্লিল আলামীন জামে মসজিদ, স্ট্যামফোর্ড, যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাফর উল্লাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তাজকিয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নাছির উদ্দীন জামী।অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে তাজকিয়ার কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি রমিজ আলী তাজকিয়ার পরিচয়, আদর্শ ও সাংগঠনিক দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাজকিয়া একটি নির্দিষ্ট ভিশন ও চারটি মিশনকে সামনে রেখে আত্মশুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা, নৈতিক উন্নয়ন ও মূল্যবোধসম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধান আলোচক শায়খ সাইফুল আজম আল-আজহারী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান যুবসমাজের মানসিক অস্থিরতা ও হতাশার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুবসমাজের একটি বড় অংশ আজ হতাশা ও অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের আত্মিক প্রশান্তি, আত্মজাগরণ ও আত্মঅন্বেষণের সহায়ক যে মূল্যবোধ ও জ্ঞানচর্চা, সেখান থেকে তারা ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে। যাদের জ্ঞানচর্চা ও আত্মউন্নয়নে নিমগ্ন থাকার কথা, তাদের একটি অংশের মধ্যেও জ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আত্মশুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা ও আধ্যাত্মিক বিকাশের মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক পথে ফিরিয়ে আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।বিশেষ আলোচক অধ্যাপক ড. জাফর উল্লাহ বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-কে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর প্রভুত্ব ও রবুবিয়তের যেখানে প্রকাশ, সেখানে রাসুলুল্লাহ (দ.)-এর রহমতের বার্তাও মানুষের জন্য পথনির্দেশনা ও কল্যাণের উৎস হিসেবে বিস্তৃত। তিনি তাঁর বক্তব্যে তাজকিয়ার লক্ষ্য, আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এবং তরুণ সমাজের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে তাসাওউফের ভূমিকা নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মানুষ যত বেশি আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংশোধনের পথে অগ্রসর হবে, তত বেশি জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আল্লাহর সাহায্য ও হিকমতের উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে। অনেক কঠিন পরিস্থিতি ও প্রতিকূলতা থেকে আল্লাহ মানুষকে এমনভাবে উত্তরণ ঘটান, যা অনেক সময় মানুষের নিজের পক্ষে উপলব্ধি বা সম্ভবপর করে তোলা কঠিন। আত্মশুদ্ধির চর্চা ব্যক্তির নৈতিক ও আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং সমাজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন তাজকিয়ার পরিচিতি, যুবসমাজের মাঝে সাংগঠনিক কার্যক্রমের গুরুত্ব এবং বর্তমান সময়ে তাসাওউফের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি তরুণদের ব্যক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।অন্যতম বিশেষ অতিথি এইচ. আর. মেহেবুব জিকো তাজকিয়ার ১৮তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম ও স্মৃতিচারণ করেন। তিনি তাজকিয়ার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য শুভকামনা জানান।অনুষ্ঠানের সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে নাছির উদ্দীন জামী অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি, আলোচকবৃন্দ, অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, তাজকিয়ার সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষভাবে অনুষ্ঠানের স্পন্সর জনাব খালেদ আল মদিনা এবং তাজকিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আত্মশুদ্ধি ও আত্মজাগরণের বার্তা তরুণ সমাজের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তাজকিয়া তার সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।পরিশেষে মিলাদ, কিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।











