
এসকে শুভ গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কাশিমপুরে ‘HAMKO’ ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে নকল ব্যাটারির পানি বাজারজাতের অভিযোগে পণ্যভর্তি পিকআপসহ তিনজনকে আটকের পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কাশিমপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির মধ্যস্থতায় আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয় ১১-১০-২০২৬ রাত দুইটার সময়। এ সময় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—আহসান হাবীব বাবুল (৪০), সাদ্দাম হোসেন (৩২) ও শহিদুল ইসলাম (৩৬)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘HAMKO’ ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে ব্যাটারির পানি বাজারজাতের অভিযোগে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে কাশিমপুর থানা পুলিশ পণ্যভর্তি একটি পিকআপসহ ওই তিনজনকে আটক করে। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পরও তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই কামরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য জানতে বার্তা পাঠানো হলে তিনি ‘ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন’ বলে জানান।
এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা খালিদ হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসআই কামরুলকে বলা হয়েছিল। কোনো রকম আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সেটা আমার জানা নেই।”
এদিকে, জব্দ করা বোতলের গায়ে ও ক্যাপে ‘HAMKO’ লেখা থাকলেও মোড়কজাতকরণের স্টিকারে ‘@HAMKO’ লেখা ছিল বলে জানা গেছে। হামকো কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘@HAMKO’ তাদের অনুমোদিত ব্র্যান্ড নয়। ফলে জব্দ করা পণ্যের উৎপাদন, ব্র্যান্ড ব্যবহারের বৈধতা এবং বাজারজাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সচেতন মহলের মতে, আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মধ্যস্থতা ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। এ ছাড়া, কী কারণে এবং কোন উদ্দেশ্যে তাঁদের আটক করার পর গভীর রাতে ছেড়ে দেওয়া হলো, তা-ও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।



















