ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাসায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮৪ জনকে আটক। মধুপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বৃদ্ধের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ঝালকাঠির নথুল্লাবাদে ইউপি সদস্য প্রার্থী হতে ইচ্ছুক কামাল হোসেন ‎বরিশালে নানা আয়োজনে লাভ ফর ফ্রেন্ডস স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এর ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত তরুণ আব্দুর রউফ, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৭-৮ লাখ টাকা- বিকাশ নম্বর: ০১৩০৯৮০৩৪০১ পূজা নেই, তবু চাল বরাদ্দ ও আনসার মোতায়েন—কোটালী পাড়ায় সরকারি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যার প্রতিবাদে নাটোরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ রাজশাহীতে ১৪৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার, জব্দ মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন মঙ্গলবার রংপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ

ঝালকাঠিতে জমি নিয়ে বিরোধ, অবৈধ দখলের অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

  • আপডেটের সময় : ১০:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২১৪ সময় দৃশ্য
৩১৯

 

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠিতে জমি নিয়ে বিরোধ, অবৈধ দখলের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী। তিনি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচন মহল গ্রামের দুলাল চন্দ্র চ্যাটার্জীর পুত্র।

 

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকালে রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠির হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

 

লিখিত বক্তব্যে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, তার মালিকানাধীন সম্পত্তি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, নলছিটি থানাধীন নাচন মহল মৌজার এসএ ২৩০ নম্বর খতিয়ানের ৪২১, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৭৩ ও ৫৭০ নম্বর দাগে মোট ৩ একর ৭ শতক জমি তার পারিবারিক মালিকানাধীন সম্পত্তি। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি গেজেটভুক্ত হয়। অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির প্রক্রিয়ায় ২০১৪ সালে ওই সম্পত্তি অবমুক্ত করা হয় এবং এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়।

 

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে বিএস জরিপের সময় সম্পত্তির একটি অংশ ১ নম্বর খতিয়ানে এবং অবশিষ্ট ১ একর ৪৬ শতক জমি ১/১ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত হয়। অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির পর প্রচলিত আইন ও রেকর্ডের ধারাবাহিকতায় ওই ১ একর ৪৬ শতক সম্পত্তি তার নামে বিএস রেকর্ডভুক্ত হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিনি ওই জমির খাজনাও পরিশোধ করেছেন।

 

উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, পরবর্তীতে বিএস ১/১ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ২৮৯ ও ৩০৫ নম্বর দাগের মোট ৮ শতক জমি তিনি বৈধ রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে আয়নাল হক তালুকদার নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। তার দাবি, আয়নাল হক তালুকদার কোনো জোরপূর্বক বা বেআইনি উপায়ে জমিটি দখল করতে যাননি; বরং রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করে জমিটি ক্রয় করেছেন।

 

তিনি বলেন, ক্রেতা আয়নাল হক তালুকদার ৩০৫ নম্বর দাগের জমিতে দখল নিতে গেলে সেখানে একটি পুরনো ও পরিত্যক্ত ঘর দেখতে পান। বহু বছর আগে সন্তোষ বিশ্বাস নামে একজন ব্যক্তি ওই ঘরটি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করতেন। পরবর্তীতে তিনি ঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে ভারতে চলে যান বলে তার দাবি।

 

ওই সময় সম্পত্তিটি অর্পিত সম্পত্তির গেজেটভুক্ত থাকায় সন্তোষ বিশ্বাস নিজের নামে বিএস রেকর্ড করাতে পারেননি বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

 

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আনুমানিক তিন বছর আগে সন্তোষ বিশ্বাসের ভাই সুনীল বিশ্বাস ওরফে কুট্টি বিশ্বাস এসে ওই পরিত্যক্ত ঘরে তালা দিয়ে সেখানে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৮৪ সালে সাহেব আলী তালুকদার নামে একজন ব্যক্তি কথিত সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে তাকে ওই জমি দিয়েছিলেন।

 

তবে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জীর দাবি, ওই দলিল বা মালিকানার স্বপক্ষে অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার দাবির স্বপক্ষে কাগজপত্র থানায় উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তিনি সেখানে উপস্থিত হননি বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

 

তিনি বলেন, থানায় বিষয়টি নিয়ে মামলা করার কথা বলা হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন না করায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মামলা হয়নি।

 

উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, গত ২১ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আয়নাল হক তালুকদার ওই পরিত্যক্ত ঘরে প্রবেশ করে ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। তার দাবি, বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতে প্রবেশ করে সেটি ব্যবহারযোগ্য করার উদ্দেশ্যেই তিনি ঘরটি পরিষ্কার করছিলেন।

 

তবে প্রতিপক্ষ গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রকৃত মালিকানা, সরকারি রেকর্ড, অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির গেজেট, বিএস রেকর্ড এবং বৈধ রেজিস্ট্রি দলিলের বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন না করে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

তিনি অভিযোগ করেন, বৈধভাবে জমি ক্রয়কারী একজন ব্যক্তিকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই ঘটনাকে আমরা কোনোভাবেই হিন্দু-মুসলিম বিরোধ হিসেবে দেখতে চাই না। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। কোনো ব্যক্তি হিন্দু, মুসলমান বা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী এটি তার নাগরিক ও সম্পত্তিগত অধিকারের বিচার করার মাপকাঠি হতে পারে না।

 

তিনি আরও বলেন, কোনো পক্ষের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে অপর পক্ষকে ভূমিদস্যু, সাম্প্রদায়িক বা নির্যাতনকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তা সমাজে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের প্রচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত সব দলিল ও সরকারি রেকর্ড নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানান।

 

তিনি বলেন, কেউ যদি কথিত ১৯৮৪ সালের দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করেন, তাহলে ওই দলিলের মূল কপি, রেজিস্ট্রি তথ্য এবং আইনগত বৈধতা যাচাই করা হোক।

 

তিনি আরও দাবি করেন, বৈধ মালিক বা বৈধ ক্রেতার জমিতে কেউ বেআইনিভাবে প্রবেশ বা দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কোনো পক্ষ যাতে ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।

 

উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, তার বা বৈধ ক্রেতার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তারা আইনানুগ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে স্বাগত জানাবেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু চাই দলিল, সরকারি রেকর্ড ও আইনের ভিত্তিতে সত্য উদঘাটিত হোক এবং যার বৈধ অধিকার রয়েছে, তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাসায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮৪ জনকে আটক।

ঝালকাঠিতে জমি নিয়ে বিরোধ, অবৈধ দখলের অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আপডেটের সময় : ১০:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
৩১৯

 

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠিতে জমি নিয়ে বিরোধ, অবৈধ দখলের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী। তিনি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচন মহল গ্রামের দুলাল চন্দ্র চ্যাটার্জীর পুত্র।

 

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকালে রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠির হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

 

লিখিত বক্তব্যে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, তার মালিকানাধীন সম্পত্তি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, নলছিটি থানাধীন নাচন মহল মৌজার এসএ ২৩০ নম্বর খতিয়ানের ৪২১, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৭৩ ও ৫৭০ নম্বর দাগে মোট ৩ একর ৭ শতক জমি তার পারিবারিক মালিকানাধীন সম্পত্তি। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি গেজেটভুক্ত হয়। অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির প্রক্রিয়ায় ২০১৪ সালে ওই সম্পত্তি অবমুক্ত করা হয় এবং এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়।

 

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে বিএস জরিপের সময় সম্পত্তির একটি অংশ ১ নম্বর খতিয়ানে এবং অবশিষ্ট ১ একর ৪৬ শতক জমি ১/১ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত হয়। অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির পর প্রচলিত আইন ও রেকর্ডের ধারাবাহিকতায় ওই ১ একর ৪৬ শতক সম্পত্তি তার নামে বিএস রেকর্ডভুক্ত হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিনি ওই জমির খাজনাও পরিশোধ করেছেন।

 

উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, পরবর্তীতে বিএস ১/১ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ২৮৯ ও ৩০৫ নম্বর দাগের মোট ৮ শতক জমি তিনি বৈধ রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে আয়নাল হক তালুকদার নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। তার দাবি, আয়নাল হক তালুকদার কোনো জোরপূর্বক বা বেআইনি উপায়ে জমিটি দখল করতে যাননি; বরং রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করে জমিটি ক্রয় করেছেন।

 

তিনি বলেন, ক্রেতা আয়নাল হক তালুকদার ৩০৫ নম্বর দাগের জমিতে দখল নিতে গেলে সেখানে একটি পুরনো ও পরিত্যক্ত ঘর দেখতে পান। বহু বছর আগে সন্তোষ বিশ্বাস নামে একজন ব্যক্তি ওই ঘরটি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করতেন। পরবর্তীতে তিনি ঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে ভারতে চলে যান বলে তার দাবি।

 

ওই সময় সম্পত্তিটি অর্পিত সম্পত্তির গেজেটভুক্ত থাকায় সন্তোষ বিশ্বাস নিজের নামে বিএস রেকর্ড করাতে পারেননি বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

 

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আনুমানিক তিন বছর আগে সন্তোষ বিশ্বাসের ভাই সুনীল বিশ্বাস ওরফে কুট্টি বিশ্বাস এসে ওই পরিত্যক্ত ঘরে তালা দিয়ে সেখানে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৮৪ সালে সাহেব আলী তালুকদার নামে একজন ব্যক্তি কথিত সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে তাকে ওই জমি দিয়েছিলেন।

 

তবে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জীর দাবি, ওই দলিল বা মালিকানার স্বপক্ষে অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার দাবির স্বপক্ষে কাগজপত্র থানায় উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তিনি সেখানে উপস্থিত হননি বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

 

তিনি বলেন, থানায় বিষয়টি নিয়ে মামলা করার কথা বলা হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন না করায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মামলা হয়নি।

 

উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, গত ২১ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আয়নাল হক তালুকদার ওই পরিত্যক্ত ঘরে প্রবেশ করে ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। তার দাবি, বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতে প্রবেশ করে সেটি ব্যবহারযোগ্য করার উদ্দেশ্যেই তিনি ঘরটি পরিষ্কার করছিলেন।

 

তবে প্রতিপক্ষ গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রকৃত মালিকানা, সরকারি রেকর্ড, অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির গেজেট, বিএস রেকর্ড এবং বৈধ রেজিস্ট্রি দলিলের বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন না করে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

তিনি অভিযোগ করেন, বৈধভাবে জমি ক্রয়কারী একজন ব্যক্তিকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই ঘটনাকে আমরা কোনোভাবেই হিন্দু-মুসলিম বিরোধ হিসেবে দেখতে চাই না। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। কোনো ব্যক্তি হিন্দু, মুসলমান বা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী এটি তার নাগরিক ও সম্পত্তিগত অধিকারের বিচার করার মাপকাঠি হতে পারে না।

 

তিনি আরও বলেন, কোনো পক্ষের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে অপর পক্ষকে ভূমিদস্যু, সাম্প্রদায়িক বা নির্যাতনকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তা সমাজে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের প্রচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত সব দলিল ও সরকারি রেকর্ড নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানান।

 

তিনি বলেন, কেউ যদি কথিত ১৯৮৪ সালের দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করেন, তাহলে ওই দলিলের মূল কপি, রেজিস্ট্রি তথ্য এবং আইনগত বৈধতা যাচাই করা হোক।

 

তিনি আরও দাবি করেন, বৈধ মালিক বা বৈধ ক্রেতার জমিতে কেউ বেআইনিভাবে প্রবেশ বা দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কোনো পক্ষ যাতে ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।

 

উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, তার বা বৈধ ক্রেতার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তারা আইনানুগ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে স্বাগত জানাবেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু চাই দলিল, সরকারি রেকর্ড ও আইনের ভিত্তিতে সত্য উদঘাটিত হোক এবং যার বৈধ অধিকার রয়েছে, তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক।