ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ। প্রতিবাদে সাংবাদিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফেনীতে কৃষকদল নেতা আমিনুল হক বহিষ্কার মালদ্বীপে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নবম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফের পেছাল সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন আল আইন আবুধাবীতে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই দুই কারখানা ঝালকাঠিতে জমি নিয়ে বিরোধ, অবৈধ দখলের অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মেঘনায় ধরা পড়েছে ২.৭ কেজির ওজনের একটি ইলিশ,  সৌমাহানী ঘাটে বিক্রি ১০ হাজার ৮০০ টাকায় বরিশালে এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এর ফুলেল শুভেচ্ছা

পুলিশের ভয় দেখিয়ে চারজনকে জিম্মি, ৮০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

  • আপডেটের সময় : ০৫:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮৩ সময় দৃশ্য
১৩৮

 

মোঃ ইলিয়াস, ভালো থেকেঃ ভোলার তজুমদ্দিনে পুলিশের ভয় দেখিয়ে চার ব্যক্তিকে জিম্মি করে রাতভর আটকে রেখে মারধর ও জোরপূর্বক অপরাধ স্বীকার করানোর পর ৮০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের গোলকপুর ও মাহারকান্দি গ্রামের মো. মিজান, মো. শিমুলসহ চারজনকে গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ির পাশের একটি জমি থেকে কয়েকজন ব্যক্তি জিম্মি করে নিয়ে যান। পরে তাদের গোলকপুর গ্রামের শরীফের বাড়িতে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জোরপূর্বক স্বীকার করানো হয়। প্রথমে তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে জানালে পুলিশের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগী মিজান বলেন, “পুলিশের ভয় দেখিয়ে রাতের আঁধারে আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার পর কাউকে কিছু না বলার জন্য সাদা কাগজে লিখিত নেওয়া হয়। এর আগেও তারা এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

ভুক্তভোগী শিমুলের চাচা অভিযোগ করে বলেন, আবু জাফর, রিপন, মিজান, আবু কালাম, বাবুল ও শরীফসহ কয়েকজন টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তার দাবি, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্মে জড়িতদের সহযোগিতা করে আসছে।

আরেক ভুক্তভোগীর চাচা মো. নূরনবী বলেন, “খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে একজনের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দুইজনের জন্য ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আবু জাফর। তিনি বলেন, চারজনকে আটক করা হয়েছিল বলে শুনেছেন। তবে তাদের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা তিনি জানেন না।

তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি জানার পর একজন এসআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :

অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ। প্রতিবাদে সাংবাদিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ

পুলিশের ভয় দেখিয়ে চারজনকে জিম্মি, ৮০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

আপডেটের সময় : ০৫:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
১৩৮

 

মোঃ ইলিয়াস, ভালো থেকেঃ ভোলার তজুমদ্দিনে পুলিশের ভয় দেখিয়ে চার ব্যক্তিকে জিম্মি করে রাতভর আটকে রেখে মারধর ও জোরপূর্বক অপরাধ স্বীকার করানোর পর ৮০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের গোলকপুর ও মাহারকান্দি গ্রামের মো. মিজান, মো. শিমুলসহ চারজনকে গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ির পাশের একটি জমি থেকে কয়েকজন ব্যক্তি জিম্মি করে নিয়ে যান। পরে তাদের গোলকপুর গ্রামের শরীফের বাড়িতে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জোরপূর্বক স্বীকার করানো হয়। প্রথমে তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে জানালে পুলিশের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগী মিজান বলেন, “পুলিশের ভয় দেখিয়ে রাতের আঁধারে আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার পর কাউকে কিছু না বলার জন্য সাদা কাগজে লিখিত নেওয়া হয়। এর আগেও তারা এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

ভুক্তভোগী শিমুলের চাচা অভিযোগ করে বলেন, আবু জাফর, রিপন, মিজান, আবু কালাম, বাবুল ও শরীফসহ কয়েকজন টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তার দাবি, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্মে জড়িতদের সহযোগিতা করে আসছে।

আরেক ভুক্তভোগীর চাচা মো. নূরনবী বলেন, “খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে একজনের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দুইজনের জন্য ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আবু জাফর। তিনি বলেন, চারজনকে আটক করা হয়েছিল বলে শুনেছেন। তবে তাদের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা তিনি জানেন না।

তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি জানার পর একজন এসআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।