ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
‎বরিশালে শেবাচিমে পূবালী ব্যাংকের সেলফ সার্ভিস সেন্টার উদ্ভোধন  ও সৌন্দর্যবর্ধন নতুন পরিচয়ে, নতুন উদ্যমে দৈনিক আজকের জনবাণীতে মোঃ আরিফুল ইসলাম সুমন, থানারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা মানোন্নয়ন মতবিনিময় ও কার্যকরী কমিটির সভা মাধবপুরে ১১৯ পূজামণ্ডপে সায়হাম গ্রুপের আর্থিক অনুদান রাসিকের ১৭ লাখ টাকা অনুদান: রাজশাহীর ৮৫ পূজামণ্ডপে পাচ্ছে বিনামূল্যে ওয়াইফাই মধুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত সাতলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট ফজলুল হক বিশ্বাসের নির্বাচনী গণসংযোগ বরিশালে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ শুরু বরিশাল সদরে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান ২০ হাজার মিটার জাল জব্দ ৪ জনকে জরিমানা বরিশাল জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ব্লাড কানেক্ট অ্যাপ বানিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন নন্দীগ্রামের মেধাবী তরুণ মোছাদ্দিকুর রহমান।

  • আপডেটের সময় : ০৩:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৫ সময় দৃশ্য
৮৮

(বগুড়া) প্রতিনিধি: ছোট্ট একটি টিনের স্টুডিও কিন্তু স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। সেই স্বপ্ন আর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করেই বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার তরুণ আইসিটি শিক্ষক মোছাদ্দিকুর রহমান তৈরি করেছেন ‘ব্লাড কানেক্ট’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ, যা ইতোমধ্যে গুগল প্লে স্টোরে প্রকাশিত হয়েছে। মোছাদ্দিকুর রহমান (২৮) উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি হাটকড়ই বাজারে অবস্থিত সৃজনশীল টিউটোরিয়াল হোম ২ প্রতিষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। শিক্ষকতার পাশাপাশি একই বাজারে একটি ছোট স্টুডিও ব্যবসাও পরিচালনা করেন। সেই সাধারণ পরিবেশেই বসে তিনি নিয়মিত কাজ চালিয়ে গেছেন এবং নিজের দক্ষতা উন্নয়নে সময় দিয়েছেন।তার প্রযুক্তি যাত্রার শুরু ২০২০ সালে, যখন তিনি ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হন।

 

সে সময় হাটকড়ই ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় আইসিটি বইয়ের কোডিং অংশ তার মধ্যে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে সেই কৌতূহল থেকেই তার মধ্যে কোডিং শেখার আগ্রহ তৈরি হয়।একই বছরের শেষ দিকে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে বঙ্গ একাডেমিতে ভর্তি হন এবং অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শেখা শুরু করেন। দক্ষ প্রশিক্ষক জোবায়ের হোসাইনের হাতে-কলমে শেখানো কোডিং এবং এআই প্রযুক্তির সমন্বয়ে ধাপে ধাপে দক্ষতা অর্জনের পর তিনি ‘ব্লাড কানেক্ট’ অ্যাপটি তৈরি করতে সক্ষম হন। বর্তমান সময়ে যেখানে অনেকের কাছে এআই প্রযুক্তি মানেই শুধু ছবি বা ভিডিও তৈরি সেই ধারণার বাইরে গিয়ে মোছাদ্দিকুর রহমান কোডিংভিত্তিক চিন্তার সঙ্গে এআই প্রযুক্তিকে যুক্ত করে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করছেন।

 

তার মতে, প্রযুক্তির প্রকৃত মূল্য তখনই, যখন তা মানুষের উপকারে আসে।‘ব্লাড কানেক্ট’ অ্যাপের মূল লক্ষ্য হলো জরুরি সময়ে দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পাওয়া। ব্যবহারকারীরা এখানে নিজেদের রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী নিবন্ধন করতে পারবেন এবং প্রয়োজনের সময় নিকটবর্তী রক্তদাতাদের খুঁজে পেতে পারবেন সহজেই।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, এই অ্যাপকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। দেশের প্রতিটি জেলার রক্তদাতাদের একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পাশাপাশি সক্রিয় ডোনারদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হবে।তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও গ্রুপভিত্তিক রক্তদাতাদের এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে ৬৪ জেলায় ‘ব্লাড কানেক্ট’-এর পক্ষ থেকে সেমিনার ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করে স্থানীয় ডোনারদের সম্মাননা ও পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

স্থানীয়দের মতে, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এমন উদ্যোগ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তারা মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ধরনের উদ্যোগ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং তরুণদের নতুন কিছু করার সাহস জোগাবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

‎বরিশালে শেবাচিমে পূবালী ব্যাংকের সেলফ সার্ভিস সেন্টার উদ্ভোধন  ও সৌন্দর্যবর্ধন

ব্লাড কানেক্ট অ্যাপ বানিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন নন্দীগ্রামের মেধাবী তরুণ মোছাদ্দিকুর রহমান।

আপডেটের সময় : ০৩:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
৮৮

(বগুড়া) প্রতিনিধি: ছোট্ট একটি টিনের স্টুডিও কিন্তু স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। সেই স্বপ্ন আর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করেই বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার তরুণ আইসিটি শিক্ষক মোছাদ্দিকুর রহমান তৈরি করেছেন ‘ব্লাড কানেক্ট’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ, যা ইতোমধ্যে গুগল প্লে স্টোরে প্রকাশিত হয়েছে। মোছাদ্দিকুর রহমান (২৮) উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি হাটকড়ই বাজারে অবস্থিত সৃজনশীল টিউটোরিয়াল হোম ২ প্রতিষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। শিক্ষকতার পাশাপাশি একই বাজারে একটি ছোট স্টুডিও ব্যবসাও পরিচালনা করেন। সেই সাধারণ পরিবেশেই বসে তিনি নিয়মিত কাজ চালিয়ে গেছেন এবং নিজের দক্ষতা উন্নয়নে সময় দিয়েছেন।তার প্রযুক্তি যাত্রার শুরু ২০২০ সালে, যখন তিনি ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হন।

 

সে সময় হাটকড়ই ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় আইসিটি বইয়ের কোডিং অংশ তার মধ্যে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে সেই কৌতূহল থেকেই তার মধ্যে কোডিং শেখার আগ্রহ তৈরি হয়।একই বছরের শেষ দিকে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে বঙ্গ একাডেমিতে ভর্তি হন এবং অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শেখা শুরু করেন। দক্ষ প্রশিক্ষক জোবায়ের হোসাইনের হাতে-কলমে শেখানো কোডিং এবং এআই প্রযুক্তির সমন্বয়ে ধাপে ধাপে দক্ষতা অর্জনের পর তিনি ‘ব্লাড কানেক্ট’ অ্যাপটি তৈরি করতে সক্ষম হন। বর্তমান সময়ে যেখানে অনেকের কাছে এআই প্রযুক্তি মানেই শুধু ছবি বা ভিডিও তৈরি সেই ধারণার বাইরে গিয়ে মোছাদ্দিকুর রহমান কোডিংভিত্তিক চিন্তার সঙ্গে এআই প্রযুক্তিকে যুক্ত করে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করছেন।

 

তার মতে, প্রযুক্তির প্রকৃত মূল্য তখনই, যখন তা মানুষের উপকারে আসে।‘ব্লাড কানেক্ট’ অ্যাপের মূল লক্ষ্য হলো জরুরি সময়ে দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পাওয়া। ব্যবহারকারীরা এখানে নিজেদের রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী নিবন্ধন করতে পারবেন এবং প্রয়োজনের সময় নিকটবর্তী রক্তদাতাদের খুঁজে পেতে পারবেন সহজেই।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, এই অ্যাপকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। দেশের প্রতিটি জেলার রক্তদাতাদের একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পাশাপাশি সক্রিয় ডোনারদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হবে।তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও গ্রুপভিত্তিক রক্তদাতাদের এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে ৬৪ জেলায় ‘ব্লাড কানেক্ট’-এর পক্ষ থেকে সেমিনার ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করে স্থানীয় ডোনারদের সম্মাননা ও পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

স্থানীয়দের মতে, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এমন উদ্যোগ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তারা মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ধরনের উদ্যোগ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং তরুণদের নতুন কিছু করার সাহস জোগাবে।