
“ডেস্ক নিউজ” রাজশাহী মহানগরীকে আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, টেকসই ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সম্ভাব্য উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মধ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী নগর ভবনের সরিৎ দপ্ত গুপ্ত নগর সভাকক্ষে এডিবির নর্থ বেঙ্গল সিটি লিভ্যাবিলিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট ২০২৮-এর আওতায় প্রকল্পের পরিধি নির্ধারণে (Project Scoping Mission) এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় নগরীর অবকাঠামো ও নাগরিক সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন সভায় রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। এ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য এডিবিকে ধন্যবাদ জানাই। রাজশাহী মহানগরীকে আরও টেকসই, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।
তিনি বলেন, নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। এডিবির সহযোগিতায় রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন খাতে টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি। সভায় এডিবির ওয়াটার অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের মিশন টিম লিডার ও আরবান ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট দাওয়া চোকি, সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মো. এসএ আবদুল্লাহ আল মামুন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট অ্যালান থমাস কেলি এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট মো. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ শরীফ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, নগরীর বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসীম উদ্দীন আরজু। প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় রাজশাহী মহানগরীর টেকসই ও পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয় উঠে আসে। বিশেষ করে নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন খাতের বিকাশ, আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সুয়ারেজ লাইন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।
এ ছাড়া নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা, ভবিষ্যৎ নগর সম্প্রসারণের বিষয় এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। সম্ভাব্য প্রকল্পগুলো কীভাবে গ্রহণ, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা যেতে পারে, সে বিষয়েও সভায় সংশ্লিষ্টরা মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। সভায় রাসিকের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ নূর-সাঈদ, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদূর রহমান ইমন, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) নিলুফার ইয়াসমিন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামানসহ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি নগরকে দীর্ঘমেয়াদে বাসযোগ্য রাখতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত ড্রেনেজ, সুয়ারেজ, পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিকল্পিত আবাসন এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রকল্প প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় রাজশাহী মহানগরীর বর্তমান চাহিদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। নগরীর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সেগুলোর সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়। সভা শেষে এডিবির ওয়াটার অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের মিশন টিম লিডার ও আরবান ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট দাওয়া চোকিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এর আগে সভার শুরুতে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে এডিবির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় এডিবির মিশন টিম লিডার দাওয়া চোকিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রাসিক প্রশাসক। প্রকল্পের পরিধি নির্ধারণের এ সভার মাধ্যমে রাজশাহী মহানগরীর ভবিষ্যৎ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাত চিহ্নিত করা এবং সম্ভাব্য প্রকল্পের বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।






















