ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রংপুরের তারাগঞ্জে অনলাইন জুয়া ও জাল ভিসা প্রতারক চক্রের সদস্য ডিবি পুলিশের জালে আটক আগামীকাল শাহানশাহ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর উরস শরীফ রাস আল খাইমাহতে নিখোঁজ আমিরাতি নারী শেখার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল পুলিশ মানিকগঞ্জে জামাই–শ্বশুরের হাডুডু খেলা, ২ পয়েন্টে জয়ী জামাই দল মান্দায় বিল মান্দা বিলে মোবাইল কোর্ট, অবৈধ বানা উচ্ছেদ ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কোনো ধরনের নৈরাজ্য করতে দেওয়া হবে না: নগরকান্দায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইপিজেডের বিভিন্ন এলাকায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর চিলমারী উপজেলায় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৬ জন শিক্ষকের বরণ ও ৫ জন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান বাঁশখালীতে প্রতিবন্ধীর জমি দখলের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন কুলাউড়ায় নি/খোঁজ জুবায়েরের ম/রদেহ উ/দ্ধার

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১ মাসের ক্ষমতা চাইলেন মাহবুব কবীর মিলন

  • আপডেটের সময় : ০২:১৮:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৫ সময় দৃশ্য
৬৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: ​রেলওয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও সুশাসন বিশ্লেষক মাহবুব কবির মিলন দেশের রেল খাতের চরম বিশৃঙ্খলা দূর করতে এক অভিনব ও দুঃসাহসী প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি মাত্র এক মাসের জন্য নির্বাহী ক্ষমতা চেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে রেলের টিকিট কালোবাজারি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেখানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন তিনি।
​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই ঘোষণা দেন। তাঁর এই প্রস্তাব দেশের সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

​মাহবুব কবির মিলনের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা ও রূপরেখাটি নিচে তুলে ধরা হলো: ​স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব ও শর্তহীন সেবা: কোনো পদ-পদবি, আলাদা চেয়ার-টেবিল কিংবা বেতনের কোনো লোভ ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈতনিক সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই এক মাসে তাঁর কেবল যাতায়াতের জন্য একটি গাড়ির সহায়তা লাগবে।

​বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন: ডিপার্টমেন্টের সবাই তাঁর নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকবে। এই এক মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক ও অবৈতনিক ভিত্তিতে কিছু চাকুরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং টিকিট এক্সামিনার নেওয়া হবে। সফলতার ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা পরবর্তীতে এক থেকে দুই বছর দায়িত্ব পালন করবেন।
​ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রটেকশন: তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কিছু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পুলিশ প্রটেকশন থাকবে। সফলতার পর ম্যাজিস্ট্রেটরা ফিরে যাবেন এবং কেবল পুলিশ নিয়ে টিকিট এক্সামিনাররা কাজ করবেন।
​’টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি: শতভাগ নিশ্চিত করা হবে যে যার টিকিট, সেই ভ্রমণ করবে। কোচে কোচে র‍্যান্ডম পরিচয় যাচাই করা হবে এবং অনিয়ম পেলে দ্বিগুণ জরিমানা করা হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটে বাবা বা মায়ের এনআইডি যুক্ত করার নিয়ম করা হবে।

​প্রযুক্তির ব্যবহার ও সময়সীমা: টিকিট চেকার ও গার্ডদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে ভ্রমণের ৩ থেকে ৫ দিন আগে টিকিট ইস্যু করা হবে। ​জিরো টলারেন্স ও তদবিরের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা: অন্যায়কারীদের পক্ষে কোনো ধরনের তদবির বা মাস্তানি করা হলে তাদের পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। সফলতার পর এই পদ্ধতি ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য রুটেও বাস্তবায়ন করা হবে।

​রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (RNB) পুনর্গঠন: নির্বাহী আদেশে RNB আইনের শতভাগ বাস্তবায়ন এবং রেল অধিদপ্তরের পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ে এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ (পুলিশ ও বিজিবির মতো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদলে) ন্যস্ত করা হবে। এই এক মাসের মধ্যেই ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের মতো মারাত্মক অপরাধ চিরতরে বন্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
​প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মাহবুব কবির মিলন লিখেছেন, “অনেক কিছুই তো হচ্ছে এই দেশে, এক মাসের এই রিস্কটুকু নিয়ে দেখুন না! এই রিস্ক আমি নেব ইনশাআল্লাহ। ব্যর্থতায় যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। কিন্তু এই এক মাস আমাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিতে হবে।”

​সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, সঠিক সদিচ্ছা ও কঠোর তদারকি থাকলে রেল খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করা সম্ভব। মাহবুব কবির মিলনের এই সাহসী প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রেলযাত্রায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন সাধারণ যাত্রীরা।

 

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রংপুরের তারাগঞ্জে অনলাইন জুয়া ও জাল ভিসা প্রতারক চক্রের সদস্য ডিবি পুলিশের জালে আটক

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১ মাসের ক্ষমতা চাইলেন মাহবুব কবীর মিলন

আপডেটের সময় : ০২:১৮:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
৬৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: ​রেলওয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও সুশাসন বিশ্লেষক মাহবুব কবির মিলন দেশের রেল খাতের চরম বিশৃঙ্খলা দূর করতে এক অভিনব ও দুঃসাহসী প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি মাত্র এক মাসের জন্য নির্বাহী ক্ষমতা চেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে রেলের টিকিট কালোবাজারি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেখানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন তিনি।
​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই ঘোষণা দেন। তাঁর এই প্রস্তাব দেশের সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

​মাহবুব কবির মিলনের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা ও রূপরেখাটি নিচে তুলে ধরা হলো: ​স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব ও শর্তহীন সেবা: কোনো পদ-পদবি, আলাদা চেয়ার-টেবিল কিংবা বেতনের কোনো লোভ ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈতনিক সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই এক মাসে তাঁর কেবল যাতায়াতের জন্য একটি গাড়ির সহায়তা লাগবে।

​বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন: ডিপার্টমেন্টের সবাই তাঁর নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকবে। এই এক মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক ও অবৈতনিক ভিত্তিতে কিছু চাকুরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং টিকিট এক্সামিনার নেওয়া হবে। সফলতার ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা পরবর্তীতে এক থেকে দুই বছর দায়িত্ব পালন করবেন।
​ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রটেকশন: তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কিছু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পুলিশ প্রটেকশন থাকবে। সফলতার পর ম্যাজিস্ট্রেটরা ফিরে যাবেন এবং কেবল পুলিশ নিয়ে টিকিট এক্সামিনাররা কাজ করবেন।
​’টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি: শতভাগ নিশ্চিত করা হবে যে যার টিকিট, সেই ভ্রমণ করবে। কোচে কোচে র‍্যান্ডম পরিচয় যাচাই করা হবে এবং অনিয়ম পেলে দ্বিগুণ জরিমানা করা হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটে বাবা বা মায়ের এনআইডি যুক্ত করার নিয়ম করা হবে।

​প্রযুক্তির ব্যবহার ও সময়সীমা: টিকিট চেকার ও গার্ডদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে ভ্রমণের ৩ থেকে ৫ দিন আগে টিকিট ইস্যু করা হবে। ​জিরো টলারেন্স ও তদবিরের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা: অন্যায়কারীদের পক্ষে কোনো ধরনের তদবির বা মাস্তানি করা হলে তাদের পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। সফলতার পর এই পদ্ধতি ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য রুটেও বাস্তবায়ন করা হবে।

​রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (RNB) পুনর্গঠন: নির্বাহী আদেশে RNB আইনের শতভাগ বাস্তবায়ন এবং রেল অধিদপ্তরের পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ে এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ (পুলিশ ও বিজিবির মতো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদলে) ন্যস্ত করা হবে। এই এক মাসের মধ্যেই ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের মতো মারাত্মক অপরাধ চিরতরে বন্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
​প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মাহবুব কবির মিলন লিখেছেন, “অনেক কিছুই তো হচ্ছে এই দেশে, এক মাসের এই রিস্কটুকু নিয়ে দেখুন না! এই রিস্ক আমি নেব ইনশাআল্লাহ। ব্যর্থতায় যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। কিন্তু এই এক মাস আমাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিতে হবে।”

​সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, সঠিক সদিচ্ছা ও কঠোর তদারকি থাকলে রেল খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করা সম্ভব। মাহবুব কবির মিলনের এই সাহসী প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রেলযাত্রায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন সাধারণ যাত্রীরা।