ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুই ভাইয়ের চালচলনে গ্রামবাসীর সন্দেহ, বাড়ির মেঝের নিচে মিলল কোটি কোটি টাকা ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন: ‘নেতৃত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, মেনে নেন’—জামায়াতকে আম্মার কবিতা-তুমি কেবল নির্জনতা নামাতে পারো তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার তেঁতুলিয়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ৩৫ সদস্যের কমিটি গঠন: হারুন নুর রশিদ সভাপতি, আব্দুল্লাহ আল ফারুক সম্পাদক মধুপুরে জালেমন বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন নিয়ে সহকারী পুলিশ সুপারের প্রেসব্রিফিং তেঁতুলিয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন কবিতা: মূঢ়তার অপনোদন শেখ জায়েদ: সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠাতার অনন্য উত্তরাধিকার মধুপুরে জালেমন বেগম হত্যা মামলার আসামি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার

তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

  • আপডেটের সময় : ০৮:২৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৭ সময় দৃশ্য
৩১
তাহসিফ সাউরি নামে বিমান বাহিনীর এক সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার মুখ ছিল রক্তেমাখা, কিন্তু সারা শরীর অক্ষত। পরশু দিন থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
তার বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বীপ নামের এক জুনিয়র অফিসারের ডাকে তিনি বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। পকেটে থাকা মোবাইল ও সিগারেটের প্যাকেট পাওয়া গেলেও বাইকের হদিস পাওয়া যায়নি। তিনি থাকতেন উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে (সূত্র: প্রথম আলো, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজ ২৪)।
সাউরির আরেকটা পরিচয় হল, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে শেখ হাসিনার হেলিকপ্টারে ওঠার ভিডিওটি প্রথম তার প্রোফাইল থেকে প্রচার করা হয়। যদিও পরে জানা যায়, ভিডিওটি তিনি ধারণ করেন নি, করেছেন তার আরেক সহকর্মী রিফাত!
৫ আগস্ট ও এরপরের অনেক দিন এটি ছিল বহুল প্রচারিত ভিডিও! নানা কারণে এখনো এটি প্রাসঙ্গিক।
আওয়ামী লীগের এক্টিভিস্টদের দুটো ভাষ্য আছে এটি নিয়ে। কেউ কেউ বলেন, এই ভিডিওর মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে, শেখ হাসিনা পালান নি। তাকে সামরিক বাহিনী যে বিমানে তুলে দিয়েছে এটা তার প্রমাণ। তা না হলে নানা গুজব ছড়ানো হত। আরেকটা গ্রুপ বলে, এই ভিডিওর কারণেই প্রতিপক্ষরা শেখ হাসিনাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার সুযোগ পায়। বলতে পারে যে, শেখ হাসিনা পালিয়েছে।
যাই হোক, আপাত অর্থে দেখলে এটা শেখ হাসিনার বিপক্ষে যায় বলেই মনে হয়। এর সাথে আছে সাউরির সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিটি। তিনি প্রচন্ড ভারত বিদ্বেষী, হাদী ভক্ত, খানিকটা জামাতপন্থী বললেও ভুল হবে না। তার কয়েক বন্ধুর বিভিন্ন পোস্ট পড়ে বুঝলাম, তারাও একইপন্থী।
সেই আগস্টে সাউরি যখন হিরো সাব্যস্ত হচ্ছিলেন, তখনই ওই মাসের ২৭/২৮ তারিখের দিকে বিস্ময়করভাকে তার চাকুরি চলে যায়। সাথে আরও তিনজনের। আইএসপিআর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সেই খবর জানানোর সময় কোনো নির্দিষ্ট কারণ না জানালেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কথা বলেছিল।
কিন্তু সাউরি এক পডকাসটে বলেছেন, ওই ভিডিওর সূত্র ধরেই তাকে বহিস্কার করা হয়েছে!
এরপর সব চুপচাপ। পরের বছর, মানে ২৫ সালের আগেস্টের ৪ তারিখ জামাতি মাহমুদুর রহমানের ”নিরপেক্ষ পত্রিকা আমার দেশ” ওই চারজনকে নিয়ে বিশাল রিপোর্ট করে বসে। সাউরিদের ছবি ছাপিয়ে দেয় প্রথম পাতায়, শিরোনামে বলে যে, এরা হলো বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ’র’ এর এজেন্ট। চাকুরি গিয়েছিল মুলত সেই কারণেই।
তবে সেইদিনই আইএসপিআর বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেয় যে, ওদের চাকুরি যাওয়ার কারণের সাথে কোনো সংস্থার সাথে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ নেই। এটা ভিত্তিহীন খবর।
কিন্তু সাউরিদের গায়ে এই তকমাটা লেগে যায় যে, ওরা ভারতীয় দালাল। ওরা ’র’ এর এজেন্ট। এরপর ওদের জীবনের অবস্থা কি হয়েছিল সেটা নিশ্চয়ই আন্দাজ করা যায়? সাউরির পাসপোর্ট ক্যান্সেল করা হয় দুই বছরের জন্য, তার ’লগ বুক’ ফেরত দেওয়া হয়নি। ওটা থাকলে তিনি অন্য কোনো বিমান সংস্থায় চাকুরি জোটানোর ট্রাই করতে পারতেন।
এরপর সাউরি পডকাস্টে, তার ফেসবুক পোস্টে বলার চেষ্টা করেছেন যে, আমি ’র’ এর এজেন্ট হলে সেটা প্রমাণ করুক? ওই রিপোর্ট তাকে সামাজিকভাবে একেবারে অচ্যুত করে ফেলেছে! বরং সেই পডকাস্টে তিনি ভারতবিরোধীতা, পিলখানা হত্যা এসব নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন।
না, এরপর কেউ প্রমাণ করার প্রয়োজন মনে করেনি। সেই রিপোর্টটা লিখেছিল আমার দেশের তৎকালীন নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। সেই আবদাল আহমেদকে ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য নিয়োগ করেছিলেন আর তারেক রহমানের বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে গত এপ্রিলে তাকে বানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা।
আজ লাশ উদ্ধারের পর সেই একই জামাতি লোকজন সাউরির জন্য নাকি কান্না করছেন। যে ছিল ‘ভারতীয় গুপ্তচর নেটওয়ার্কের অংশ’, লাশ পাওয়ার পর আজ সে হয়ে গেছে ”জুলাই যোদ্ধা”, ‘পিলখানা নিয়ে মুখ খোলা অফিসারদের’ একজন!! তারা বলছে, হাসিনার পালানোর ভিডিও করে ভারতের শত্রু হওয়াটাই তার কাল হয়েছে। জীবিত থাকতে যে ছিল ইন্ডিয়ার লোক, মরার পর একই লোক হলো ইন্ডিয়ার শিকার! জামাতি পেইজগুলো থেকে ডাক দিচ্ছে, তোমরা যদি ভারতের আধিপত্যবাদবিরোধী হও, তাহলে সাউরির জানাজায় শরিক হও। কি অদ্ভুত মুনাফেকি।
সেই ’আমার দেশ’ আজ সাউরির মৃত্যুর খবরের নিচে একবারের জন্যও ভারতীয় এজেন্টের মৃত্য হয়েছে বলে লিখে নাই। কেনো লিখেন নাই?
কাউকে ভাল না লাগলে ভারতীয় এজেন্ট, আমেরিকার দালাল, ডিপ স্টেটের এজেন্ট বলে চালিয়ে দিন। যা যাবে ওই লোকের উপর দিয়ে যাবে, আপনারতো কিছু হবে না।
সাউরির মৃত্যুর কারণ কখনো জানা যাবেনা, যেমন হবেনা এই হত্যার বিচার। এটাই সত্য।
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দুই ভাইয়ের চালচলনে গ্রামবাসীর সন্দেহ, বাড়ির মেঝের নিচে মিলল কোটি কোটি টাকা

তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

আপডেটের সময় : ০৮:২৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
৩১
তাহসিফ সাউরি নামে বিমান বাহিনীর এক সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার মুখ ছিল রক্তেমাখা, কিন্তু সারা শরীর অক্ষত। পরশু দিন থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
তার বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বীপ নামের এক জুনিয়র অফিসারের ডাকে তিনি বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। পকেটে থাকা মোবাইল ও সিগারেটের প্যাকেট পাওয়া গেলেও বাইকের হদিস পাওয়া যায়নি। তিনি থাকতেন উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে (সূত্র: প্রথম আলো, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজ ২৪)।
সাউরির আরেকটা পরিচয় হল, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে শেখ হাসিনার হেলিকপ্টারে ওঠার ভিডিওটি প্রথম তার প্রোফাইল থেকে প্রচার করা হয়। যদিও পরে জানা যায়, ভিডিওটি তিনি ধারণ করেন নি, করেছেন তার আরেক সহকর্মী রিফাত!
৫ আগস্ট ও এরপরের অনেক দিন এটি ছিল বহুল প্রচারিত ভিডিও! নানা কারণে এখনো এটি প্রাসঙ্গিক।
আওয়ামী লীগের এক্টিভিস্টদের দুটো ভাষ্য আছে এটি নিয়ে। কেউ কেউ বলেন, এই ভিডিওর মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে, শেখ হাসিনা পালান নি। তাকে সামরিক বাহিনী যে বিমানে তুলে দিয়েছে এটা তার প্রমাণ। তা না হলে নানা গুজব ছড়ানো হত। আরেকটা গ্রুপ বলে, এই ভিডিওর কারণেই প্রতিপক্ষরা শেখ হাসিনাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার সুযোগ পায়। বলতে পারে যে, শেখ হাসিনা পালিয়েছে।
যাই হোক, আপাত অর্থে দেখলে এটা শেখ হাসিনার বিপক্ষে যায় বলেই মনে হয়। এর সাথে আছে সাউরির সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিটি। তিনি প্রচন্ড ভারত বিদ্বেষী, হাদী ভক্ত, খানিকটা জামাতপন্থী বললেও ভুল হবে না। তার কয়েক বন্ধুর বিভিন্ন পোস্ট পড়ে বুঝলাম, তারাও একইপন্থী।
সেই আগস্টে সাউরি যখন হিরো সাব্যস্ত হচ্ছিলেন, তখনই ওই মাসের ২৭/২৮ তারিখের দিকে বিস্ময়করভাকে তার চাকুরি চলে যায়। সাথে আরও তিনজনের। আইএসপিআর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সেই খবর জানানোর সময় কোনো নির্দিষ্ট কারণ না জানালেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কথা বলেছিল।
কিন্তু সাউরি এক পডকাসটে বলেছেন, ওই ভিডিওর সূত্র ধরেই তাকে বহিস্কার করা হয়েছে!
এরপর সব চুপচাপ। পরের বছর, মানে ২৫ সালের আগেস্টের ৪ তারিখ জামাতি মাহমুদুর রহমানের ”নিরপেক্ষ পত্রিকা আমার দেশ” ওই চারজনকে নিয়ে বিশাল রিপোর্ট করে বসে। সাউরিদের ছবি ছাপিয়ে দেয় প্রথম পাতায়, শিরোনামে বলে যে, এরা হলো বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ’র’ এর এজেন্ট। চাকুরি গিয়েছিল মুলত সেই কারণেই।
তবে সেইদিনই আইএসপিআর বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেয় যে, ওদের চাকুরি যাওয়ার কারণের সাথে কোনো সংস্থার সাথে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ নেই। এটা ভিত্তিহীন খবর।
কিন্তু সাউরিদের গায়ে এই তকমাটা লেগে যায় যে, ওরা ভারতীয় দালাল। ওরা ’র’ এর এজেন্ট। এরপর ওদের জীবনের অবস্থা কি হয়েছিল সেটা নিশ্চয়ই আন্দাজ করা যায়? সাউরির পাসপোর্ট ক্যান্সেল করা হয় দুই বছরের জন্য, তার ’লগ বুক’ ফেরত দেওয়া হয়নি। ওটা থাকলে তিনি অন্য কোনো বিমান সংস্থায় চাকুরি জোটানোর ট্রাই করতে পারতেন।
এরপর সাউরি পডকাস্টে, তার ফেসবুক পোস্টে বলার চেষ্টা করেছেন যে, আমি ’র’ এর এজেন্ট হলে সেটা প্রমাণ করুক? ওই রিপোর্ট তাকে সামাজিকভাবে একেবারে অচ্যুত করে ফেলেছে! বরং সেই পডকাস্টে তিনি ভারতবিরোধীতা, পিলখানা হত্যা এসব নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন।
না, এরপর কেউ প্রমাণ করার প্রয়োজন মনে করেনি। সেই রিপোর্টটা লিখেছিল আমার দেশের তৎকালীন নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। সেই আবদাল আহমেদকে ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য নিয়োগ করেছিলেন আর তারেক রহমানের বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে গত এপ্রিলে তাকে বানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা।
আজ লাশ উদ্ধারের পর সেই একই জামাতি লোকজন সাউরির জন্য নাকি কান্না করছেন। যে ছিল ‘ভারতীয় গুপ্তচর নেটওয়ার্কের অংশ’, লাশ পাওয়ার পর আজ সে হয়ে গেছে ”জুলাই যোদ্ধা”, ‘পিলখানা নিয়ে মুখ খোলা অফিসারদের’ একজন!! তারা বলছে, হাসিনার পালানোর ভিডিও করে ভারতের শত্রু হওয়াটাই তার কাল হয়েছে। জীবিত থাকতে যে ছিল ইন্ডিয়ার লোক, মরার পর একই লোক হলো ইন্ডিয়ার শিকার! জামাতি পেইজগুলো থেকে ডাক দিচ্ছে, তোমরা যদি ভারতের আধিপত্যবাদবিরোধী হও, তাহলে সাউরির জানাজায় শরিক হও। কি অদ্ভুত মুনাফেকি।
সেই ’আমার দেশ’ আজ সাউরির মৃত্যুর খবরের নিচে একবারের জন্যও ভারতীয় এজেন্টের মৃত্য হয়েছে বলে লিখে নাই। কেনো লিখেন নাই?
কাউকে ভাল না লাগলে ভারতীয় এজেন্ট, আমেরিকার দালাল, ডিপ স্টেটের এজেন্ট বলে চালিয়ে দিন। যা যাবে ওই লোকের উপর দিয়ে যাবে, আপনারতো কিছু হবে না।
সাউরির মৃত্যুর কারণ কখনো জানা যাবেনা, যেমন হবেনা এই হত্যার বিচার। এটাই সত্য।