
উপজেলা প্রতিনিধিঃ বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা দেশের ষষ্ঠ মৎস্য অভয়াশ্রমের অন্তর্ভুক্ত। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে এ উপজেলার মৎস্য অফিসের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তদারকি ও অভিযান পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। নতুন কর্মকর্তা পদায়ন না হওয়ায় বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুলাদী উপজেলার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাশার। একই সঙ্গে দুটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় তিনি নিয়মিত মেহেন্দিগঞ্জে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। সপ্তাহে এক-দুই দিন অফিস করে তাকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট পাঁচটি পদ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন—উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। শূন্য রয়েছে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, অফিস সহকারী ও অফিস সহায়কসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ।
এ অবস্থায় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নদীতে অভিযান পরিচালনা, নিয়মিত তদারকি, জেলেদের প্রকৃত তালিকা হালনাগাদ, বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, ভিজিএফ চাল বিতরণ তদারকি এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার ৯৬২ জন। এসব জেলে সরকারি বিভিন্ন সেবা ও পরামর্শ নিতে মৎস্য অফিসে আসেন। কিন্তু কর্মকর্তা না থাকায় অনেক সময় দূর-দূরান্ত থেকে এসে সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে গত ৪ অক্টোবর উপজেলার প্রকৃত জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আসন্ন ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় প্রকৃত জেলেদের মধ্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ সঠিকভাবে হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন বন্ধে নদীপথে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে। কিন্তু অভিযান শুরুর মাত্র দুই দিন আগে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পদসহ একাধিক পদ শূন্য থাকায় অভিযানের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মেহেন্দিগঞ্জ নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ও সাংবাদিক জাহিদুল বারী খোকন বলেন, মেহেন্দিগঞ্জ দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য অভয়াশ্রম। এক শ্রেণির অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা সময়ের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে বিশাল জলসীমায় অভিযান জোরদার করতে হলে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান জানান, বাকেরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামকে মেহেন্দিগঞ্জে নিয়োগের জন্য আদেশ হয়েছে। তিনি অভিযান শুরুর আগেই যোগদান করবেন। এছাড়া শূন্য পদগুলোতে নদীবিহীন এলাকা থেকে জনবল মেহেন্দিগঞ্জে আনার বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, অভিযান শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় জনবল সংকট সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























