
আব্দুর রহমান মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত মুঘল আমলের প্রায় চারশ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক নিদর্শন ও নবাব পরিবারের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘জিনজিরা প্রাসাদ’ সশরীরে পরিদর্শন করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর ২০২৬) ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির বর্তমান অবস্থা অবলোকন এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট তাগিদ নিয়ে তিনি প্রাসাদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ড. মোহাম্মদ উমর ফারুক, উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী জিনজিরা প্রাসাদের জরাজীর্ণ অবয়ব, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার করুণ চিত্র অত্যন্ত কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন। বাংলার ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জিনজিরা প্রাসাদ কেবল একটি প্রাচীন ইমারত নয়, এটি আমাদের জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য অংশ। মুঘল স্থাপত্যের এই অনন্য নিদর্শন এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিবারের স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে অবহেলা কিংবা অবৈধ দখলের করাল গ্রাসে বিলুপ্ত হতে দেওয়া যায় না।”
ঐতিহাসিক এই স্থানটির পুনরুজ্জীবন এবং স্থায়ী সুরক্ষার স্বার্থে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন: অবৈধ দখল উচ্ছেদ: প্রাসাদ চত্বর ও এর সংলগ্ন এলাকার সমস্ত অবৈধ স্থাপনা দ্রুত অপসারণ করে একে দখলমুক্ত করতে হবে।
প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ: প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ ও সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। পর্যটন বিকাশ: এর অনন্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে জিনজিরা প্রাসাদকে একটি আকর্ষণীয় প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই অমূল্য ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি, এই ঐতিহাসিক স্থাপনার গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রতিটি উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড. মোহাম্মদ উমর ফারুক ঐতিহাসিক এই নিদর্শন রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে একমত পোষণ করেন এবং সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী জিনজিরা প্রাসাদ রক্ষার দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ আলোর মুখ দেখবে এবং এর হারানো ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে উন্মোচিত হবে























