ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিট ভারতের সঙ্গে শত্রুতা আমাদের প্রত্যাশা নয়, প্রশ্ন হচ্ছে ‘স্বার্থ সুরক্ষা’: নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানাল ভারত মাধবপুর সরকারি হাসপাতালে ২০০তম সিজারিয়ান সম্পন্ন, চিকিৎসকদের কেক কেটে উদযাপন বরিশাল বিভাগের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে অঞ্চল জামায়াতের বৈঠক অনুষ্ঠিত ‎বরিশালে শিশু অধিকার দিবস ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহ উপলক্ষে দেশাত্মবোধক সংগীত ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভেরসা স্লুইসগেট প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ উদ্বোধন মধুপুরে ১৫০ সদস্যের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ তজুমদ্দিনে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণ মধুপুরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে ৫৪ দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ ও অর্থ সহায়তা

পিত্তনালিতে পাথরের চিকিৎসা কী

  • আপডেটের সময় : ০১:৫২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮২ সময় দৃশ্য
২৯৫

অনলাইন ডেস্ক:
লেখা: ডা. রতন লাল সাহা
কোলেডোকোলিথিয়াসিস হলো সাধারণ পিত্তনালিতে পিত্তপাথরের উপস্থিতি। যা যকৃৎ ও পিত্তথলি থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে পিত্তরসের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে তলপেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব ও জন্ডিস হয়। চিকিৎসা না করা হলে এটি থেকে প্রাণঘাতী সংক্রমণ (কোলাঞ্জাইটিস) ও অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (প্যানক্রিয়াটাইটিস) হতে পারে।
লক্ষণ কী

যখন কোনো পাথর পিত্তনালিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তখন সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়—

তলপেটের ওপরের ডান দিকে তীব্র, মোচড়ানো ব্যথা (পিত্তশূল)। জন্ডিস—ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া। বমি বমি ভাব ও বমি। জ্বর ও কাঁপুনি, যা সংক্রমণের প্রধান সতর্ক সংকেত। গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং ফ্যাকাশে, মাটির রঙের মল।

ঝুঁকি

ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অতীতে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস, স্থূলতা, দ্রুত ওজন হ্রাস এবং আগে পিত্তথলি অপসারণের অস্ত্রোপচার। বেশির ভাগ পাথর পিত্তথলিতে উৎপন্ন হয় এবং ধীরে ধীরে বিত্তশালী বা কমন বাইল ডাক্টে চলে আসে। কিছু ক্ষেত্রে, বাইল স্ট্যাসিস বা সংক্রমণের কারণে এগুলি সরাসরি পিত্তনালিতেই তৈরি হয়।
রোগনির্ণয়

রক্ত পরীক্ষা: বিশেষ করে লিভার ফাংশন টেস্ট এবং ইমেজিংয়ের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে কোলেডোকোলিথিয়াসিস নির্ণয় করা হয়।

পেটের আলট্রাসাউন্ড: প্রসারিত নালি বা পাথর দেখার জন্য এটিই সবচেয়ে ব্যবহৃত ও প্রথম ইমেজিং পরীক্ষা।

এমআরসিপি: ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স কোলানজিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি একধরনের অত্যন্ত সংবেদনশীল এমআরআই। যা পিত্তনালির মানচিত্র তৈরি করে লুকানো পাথর খুঁজে বের করে।

এন্ডোস্কোপিক আলট্রাসাউন্ড: এটি এন্ডোস্কোপ ও আলট্রাসাউন্ডের সমন্বয়ে নালিগুলোর বিস্তারিত চিত্র ধারণ করে।
চিকিৎসা

চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হলো পিত্তনালির প্রতিবন্ধকতা দূর করা। প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

ইআরসিপি: এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোলানজিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা। একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট মুখ দিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে একটি এন্ডোস্কোপ প্রবেশ করিয়ে প্রতিবন্ধকতাটি শনাক্ত করেন এবং পাথরটি বের করে আনেন।

স্ফিঙ্কটারোটমি: পাথরটি বের হওয়ার সুবিধার্থে পিত্তনালির মুখের মাংসপেশিতে ছোট করে কাটা হয়।

কোলেসিস্টেকটমি: যদি পিত্তথলিটি অক্ষত থাকে, তবে ভবিষ্যতে পাথর তৈরি হওয়া রোধ করার জন্য সার্জনরা সাধারণত পাথর অপসারণের পর সেটিও কেটে বাদ দিয়ে দেন।

লেখক: কনসালট্যান্ট, জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি; চেম্বার: আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিট

পিত্তনালিতে পাথরের চিকিৎসা কী

আপডেটের সময় : ০১:৫২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
২৯৫

অনলাইন ডেস্ক:
লেখা: ডা. রতন লাল সাহা
কোলেডোকোলিথিয়াসিস হলো সাধারণ পিত্তনালিতে পিত্তপাথরের উপস্থিতি। যা যকৃৎ ও পিত্তথলি থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে পিত্তরসের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে তলপেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব ও জন্ডিস হয়। চিকিৎসা না করা হলে এটি থেকে প্রাণঘাতী সংক্রমণ (কোলাঞ্জাইটিস) ও অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (প্যানক্রিয়াটাইটিস) হতে পারে।
লক্ষণ কী

যখন কোনো পাথর পিত্তনালিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তখন সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়—

তলপেটের ওপরের ডান দিকে তীব্র, মোচড়ানো ব্যথা (পিত্তশূল)। জন্ডিস—ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া। বমি বমি ভাব ও বমি। জ্বর ও কাঁপুনি, যা সংক্রমণের প্রধান সতর্ক সংকেত। গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং ফ্যাকাশে, মাটির রঙের মল।

ঝুঁকি

ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অতীতে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস, স্থূলতা, দ্রুত ওজন হ্রাস এবং আগে পিত্তথলি অপসারণের অস্ত্রোপচার। বেশির ভাগ পাথর পিত্তথলিতে উৎপন্ন হয় এবং ধীরে ধীরে বিত্তশালী বা কমন বাইল ডাক্টে চলে আসে। কিছু ক্ষেত্রে, বাইল স্ট্যাসিস বা সংক্রমণের কারণে এগুলি সরাসরি পিত্তনালিতেই তৈরি হয়।
রোগনির্ণয়

রক্ত পরীক্ষা: বিশেষ করে লিভার ফাংশন টেস্ট এবং ইমেজিংয়ের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে কোলেডোকোলিথিয়াসিস নির্ণয় করা হয়।

পেটের আলট্রাসাউন্ড: প্রসারিত নালি বা পাথর দেখার জন্য এটিই সবচেয়ে ব্যবহৃত ও প্রথম ইমেজিং পরীক্ষা।

এমআরসিপি: ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স কোলানজিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি একধরনের অত্যন্ত সংবেদনশীল এমআরআই। যা পিত্তনালির মানচিত্র তৈরি করে লুকানো পাথর খুঁজে বের করে।

এন্ডোস্কোপিক আলট্রাসাউন্ড: এটি এন্ডোস্কোপ ও আলট্রাসাউন্ডের সমন্বয়ে নালিগুলোর বিস্তারিত চিত্র ধারণ করে।
চিকিৎসা

চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হলো পিত্তনালির প্রতিবন্ধকতা দূর করা। প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

ইআরসিপি: এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোলানজিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা। একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট মুখ দিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে একটি এন্ডোস্কোপ প্রবেশ করিয়ে প্রতিবন্ধকতাটি শনাক্ত করেন এবং পাথরটি বের করে আনেন।

স্ফিঙ্কটারোটমি: পাথরটি বের হওয়ার সুবিধার্থে পিত্তনালির মুখের মাংসপেশিতে ছোট করে কাটা হয়।

কোলেসিস্টেকটমি: যদি পিত্তথলিটি অক্ষত থাকে, তবে ভবিষ্যতে পাথর তৈরি হওয়া রোধ করার জন্য সার্জনরা সাধারণত পাথর অপসারণের পর সেটিও কেটে বাদ দিয়ে দেন।

লেখক: কনসালট্যান্ট, জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি; চেম্বার: আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা