ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাধবপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন ঝালকাঠিতে শিশুদের খাদ্য তৈরির কারখানায় অভিযান, ২০ হাজার টাকা জরিমানা নোয়াখালীর সেনবাগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, দুই মাদক সেবীকে ৬ মাসের কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা রায়গঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বরিশালে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উল্লাপাড়ায় শহীদ জেহাদের কবর জিয়ারত করলেন আমান-খোকনসহ বিএনপি নেতারা সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বাবার লাশ দাফনে বাধা সিরাজগঞ্জে চার ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শিগগিরই একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও ব্যবস্থা নেই রায়পুরের সার্ভেয়ার সাজেদুলের খুঁটির জোর কোথায়? রায়পুর ভূমি অফিসে ইজারার ১২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও টাকা আদায়ের নির্দেশ

একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও ব্যবস্থা নেই রায়পুরের সার্ভেয়ার সাজেদুলের খুঁটির জোর কোথায়?

  • আপডেটের সময় : ০৫:৫১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫৫ সময় দৃশ্য
৮৬

এহসানুল আসিফ (মাসুম) লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কার্যালয়ে নামজারি(জমাখারিজ) ভূমি তদন্ত ও বিভিন্ন সেবা নিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সার্ভেয়ার মো সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানার নাম ব্যবহার করে টাকা দাবি করা হয়।একটি ভিডিওচিত্রে সাজেদুলকে বলতে শোনা যায়, আমি আমার কাজ করে দেব কিন্তু স্যার টাকা ছাড়া স্বাক্ষর করবে না।এভাবে প্রতিনিয়ত এসিল্যান্ড নিগার সুলতানার নাম বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় সাজেদুল।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি ফির বাইরে টাকা না দিলে ফাইল আটকে থাকে, বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়।দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে দ্রুত কাজ হয়।চরবংশী ইউনিয়নের খলিল মিয়া বলেন, নামজারি করতে গেলে সার্ভেয়ার সাজেদুল তাঁর কাছে ৫০০ টাকা চান।টাকা দেওয়ার আগে তাঁকে হয়রানি করা হয়।একই এলাকার হাফেজ আহম্মদের ছেলে সফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর কাছ থেকে সাজেদুল মোটা অঙ্কের টাকা চান টাকা না দেওয়ায় তাঁর নামজারির আবেদনে স্বাক্ষর করেননি।একই এলাকার মনির হোসেন বলেন, তহসিলদার খসড়া খতিয়ানের প্রস্তাব দেওয়ার পর সাজেদুলের স্বাক্ষর নিতে গেলে চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় তিনি স্বাক্ষর করেননি।

 

 

একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও সাজেদুলের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের তোফায়েল আহমেদের ছেলে সবুজ হোসেনের অভিযোগ, নালিশি ভূমি তদন্তে গিয়ে তাঁর কাছে টাকা চান সাজেদুল। প্রথমে তাঁকে ২ হাজার টাকা দিই।পরে অফিসে গিয়ে আরও ৫ হাজার টাকা দিলেও কাজটি সমাধান হয়নি।উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের হানিফ মিয়া বলেন, নামজারির জন্য তাঁকে তিন দিন ঘোরানোর পর ৫০০ টাকা দাবি করা হয়।টাকা দেওয়ার পর প্রতিবেদন দেওয়া হয়।দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নের শফিউল্লাহর ছেলে আব্দুল মান্নান বলেন, এক সপ্তাহ ঘোরানোর পর তাঁর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের আরাফাত বলেন,৫০০ টাকা দেওয়ার পর তাঁর ফাইলে স্বাক্ষর করা হয়।

 

 

একই ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদের ছেলে আবুল কালাম জানান, কাগজপত্রে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে হয়রানির পর তাঁর কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে স্বাক্ষর করা হয়।বামনী ইউনিয়নের এক সেবাপ্রত্যাশীও নামজারির প্রতিবেদনের জন্য ৫০০ টাকা দেওয়ার অভিযোগ করেন।উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদের ছেলে আবুল হাসেম বলেন, দুইবার হয়রানির শিকার হয়ে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি।পরে সাজেদুলকে ৫০০ টাকা দিলে স্বাক্ষর দেওয়ার আশ্বাস পান।কয়েক জায়গায় টাকা দেওয়ার পর তাঁর নামজারি সম্পন্ন হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ১এর খ খতিয়ানের সাবেক দাগে সরকারি খাসজমির উল্লেখ থাকলেও জমির দাতার পক্ষে ডিমারকেশন (সীমানা নির্ধারণ) নকশা তৈরি করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রতিবেদন দেন সাজেদুল।পরে একই জমি কিনে নামজারি করতে গেলে নতুন করে ডিমারকেশনের কথা বলে আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।শেষ পর্যন্ত দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে নামজারি করতে হয়।একাধিক সেবাপ্রত্যাশীর অভিযোগ, ভিপি খ তালিকাভুক্ত ভূমি ভিপি ক ও খ এবং সাবেক বা হাল দাগে আংশিক খাস জমির ডিমারকেশন (সীমানা নির্ধারণ) করার নামে লাখ লাখ টাকার ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক তহসিলদারকে ভুক্তভোগীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ডিমারকেশন বিষয়ে সার্ভেয়াররা হলেন উচ্চশিক্ষিত, আমরা হচ্ছি শিশু। হয়রানির শিকার এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,এই অফিসের মধ্যে আগুন লাগিয়ে দিতে হবে, এছাড়া কোনো..। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট সাজেদুল ইসলাম রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যোগদান করেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী জানান,যোগদানের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি,হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠছে।তাঁদের দাবি,সংশ্লিষ্ট কার্যালয়,জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-ভূমি সংস্কার কমিশনারের কার্যালয়ে লিখিত,মৌখিক ও অনলাইনে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি।

 

অভিযোগ রয়েছে,মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ১(ক)খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমির পক্ষে প্রতিবেদন দেন সাজেদুল।বিষয়টি জানাজানি হলে ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইমরান খানকে অবহিত করা হয়।পরে সংশ্লিষ্ট জমির নামজারি বাতিল করা হয় এবং ভূমি অফিসের নাজির জয় চক্রবর্তীকে বদলি করা হয় বলে জানা গেছে।একইভাবে ১০ মাস আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানার নাম ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে আরেকটি ১(ক) খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমির প্রতিবেদন দেন সাজেদুল।পরে জানাজানি হলে নামজারি বাতিল করা হয়।এ ঘটনায় ভূমি অফিসের জারিকারক ফরহাদ হোসেনকেও বদলি করা হয় বলে জানা গেছে।আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন,অর্থের বিনিময়ে শুনানি ছাড়াই নামজারি বাতিল করা হয়। গত ১০ মাস আগে ভুক্তভোগী মান্নান ও কালামের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।ভিডিওতে রায়পুর ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মনিরের বিরুদ্ধে এসিল্যান্ড নিগার সুলতানার কথা বলে সরকারি ডিসিআর ফি ১ হাজার ১০০ টাকাসহ যথাক্রমে ৩ হাজার ৭০০ ও ৩ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়ার ২ জনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।সার্ভেয়ার সাজেদুলের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানি কমেন্টে দেখা যায় একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নামজারির ৯৫ % ফাইলের স্বাক্ষরের জন্য সাজেদুল সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা নেন। টাকা না দিলে ফাইল এসিল্যান্ডের টেবিলে যায় না বলেও তাঁদের দাবি।

 

 

রায়পুরে নামজারির সরকারি ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ,তাঁদের ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।সরকারি ফি বিকাশের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও হাতে হাতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।রায়পুরে বছরে প্রায় ১০ হাজার নামজারি হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।তাঁদের মতে, প্রতিটি নামজারি ফাইলে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর রয়েছে।কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে তদন্ত করলে আবেদনকারীদের ফোন করে সার্ভেয়ার সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, হয়রানি এবং নামজারিতে প্রকৃত ব্যয়ের তথ্য সহজেই যাচাই করতে পারবে।অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার সাজেদুল ইসলাম টাকা নেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন।সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তিনি বর্তমানে রায়পুরে কর্মরত না থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব হাসান বলেন,ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার বলেন,আমি জেলা প্রশাসককে বলব যাতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান,ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মাধবপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন

একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও ব্যবস্থা নেই রায়পুরের সার্ভেয়ার সাজেদুলের খুঁটির জোর কোথায়?

আপডেটের সময় : ০৫:৫১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
৮৬

এহসানুল আসিফ (মাসুম) লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কার্যালয়ে নামজারি(জমাখারিজ) ভূমি তদন্ত ও বিভিন্ন সেবা নিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সার্ভেয়ার মো সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানার নাম ব্যবহার করে টাকা দাবি করা হয়।একটি ভিডিওচিত্রে সাজেদুলকে বলতে শোনা যায়, আমি আমার কাজ করে দেব কিন্তু স্যার টাকা ছাড়া স্বাক্ষর করবে না।এভাবে প্রতিনিয়ত এসিল্যান্ড নিগার সুলতানার নাম বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় সাজেদুল।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি ফির বাইরে টাকা না দিলে ফাইল আটকে থাকে, বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়।দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে দ্রুত কাজ হয়।চরবংশী ইউনিয়নের খলিল মিয়া বলেন, নামজারি করতে গেলে সার্ভেয়ার সাজেদুল তাঁর কাছে ৫০০ টাকা চান।টাকা দেওয়ার আগে তাঁকে হয়রানি করা হয়।একই এলাকার হাফেজ আহম্মদের ছেলে সফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর কাছ থেকে সাজেদুল মোটা অঙ্কের টাকা চান টাকা না দেওয়ায় তাঁর নামজারির আবেদনে স্বাক্ষর করেননি।একই এলাকার মনির হোসেন বলেন, তহসিলদার খসড়া খতিয়ানের প্রস্তাব দেওয়ার পর সাজেদুলের স্বাক্ষর নিতে গেলে চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় তিনি স্বাক্ষর করেননি।

 

 

একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও সাজেদুলের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের তোফায়েল আহমেদের ছেলে সবুজ হোসেনের অভিযোগ, নালিশি ভূমি তদন্তে গিয়ে তাঁর কাছে টাকা চান সাজেদুল। প্রথমে তাঁকে ২ হাজার টাকা দিই।পরে অফিসে গিয়ে আরও ৫ হাজার টাকা দিলেও কাজটি সমাধান হয়নি।উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের হানিফ মিয়া বলেন, নামজারির জন্য তাঁকে তিন দিন ঘোরানোর পর ৫০০ টাকা দাবি করা হয়।টাকা দেওয়ার পর প্রতিবেদন দেওয়া হয়।দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নের শফিউল্লাহর ছেলে আব্দুল মান্নান বলেন, এক সপ্তাহ ঘোরানোর পর তাঁর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের আরাফাত বলেন,৫০০ টাকা দেওয়ার পর তাঁর ফাইলে স্বাক্ষর করা হয়।

 

 

একই ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদের ছেলে আবুল কালাম জানান, কাগজপত্রে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে হয়রানির পর তাঁর কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে স্বাক্ষর করা হয়।বামনী ইউনিয়নের এক সেবাপ্রত্যাশীও নামজারির প্রতিবেদনের জন্য ৫০০ টাকা দেওয়ার অভিযোগ করেন।উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদের ছেলে আবুল হাসেম বলেন, দুইবার হয়রানির শিকার হয়ে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি।পরে সাজেদুলকে ৫০০ টাকা দিলে স্বাক্ষর দেওয়ার আশ্বাস পান।কয়েক জায়গায় টাকা দেওয়ার পর তাঁর নামজারি সম্পন্ন হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ১এর খ খতিয়ানের সাবেক দাগে সরকারি খাসজমির উল্লেখ থাকলেও জমির দাতার পক্ষে ডিমারকেশন (সীমানা নির্ধারণ) নকশা তৈরি করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রতিবেদন দেন সাজেদুল।পরে একই জমি কিনে নামজারি করতে গেলে নতুন করে ডিমারকেশনের কথা বলে আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।শেষ পর্যন্ত দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে নামজারি করতে হয়।একাধিক সেবাপ্রত্যাশীর অভিযোগ, ভিপি খ তালিকাভুক্ত ভূমি ভিপি ক ও খ এবং সাবেক বা হাল দাগে আংশিক খাস জমির ডিমারকেশন (সীমানা নির্ধারণ) করার নামে লাখ লাখ টাকার ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক তহসিলদারকে ভুক্তভোগীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ডিমারকেশন বিষয়ে সার্ভেয়াররা হলেন উচ্চশিক্ষিত, আমরা হচ্ছি শিশু। হয়রানির শিকার এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,এই অফিসের মধ্যে আগুন লাগিয়ে দিতে হবে, এছাড়া কোনো..। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট সাজেদুল ইসলাম রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যোগদান করেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী জানান,যোগদানের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি,হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠছে।তাঁদের দাবি,সংশ্লিষ্ট কার্যালয়,জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-ভূমি সংস্কার কমিশনারের কার্যালয়ে লিখিত,মৌখিক ও অনলাইনে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি।

 

অভিযোগ রয়েছে,মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ১(ক)খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমির পক্ষে প্রতিবেদন দেন সাজেদুল।বিষয়টি জানাজানি হলে ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইমরান খানকে অবহিত করা হয়।পরে সংশ্লিষ্ট জমির নামজারি বাতিল করা হয় এবং ভূমি অফিসের নাজির জয় চক্রবর্তীকে বদলি করা হয় বলে জানা গেছে।একইভাবে ১০ মাস আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানার নাম ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে আরেকটি ১(ক) খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমির প্রতিবেদন দেন সাজেদুল।পরে জানাজানি হলে নামজারি বাতিল করা হয়।এ ঘটনায় ভূমি অফিসের জারিকারক ফরহাদ হোসেনকেও বদলি করা হয় বলে জানা গেছে।আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন,অর্থের বিনিময়ে শুনানি ছাড়াই নামজারি বাতিল করা হয়। গত ১০ মাস আগে ভুক্তভোগী মান্নান ও কালামের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।ভিডিওতে রায়পুর ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মনিরের বিরুদ্ধে এসিল্যান্ড নিগার সুলতানার কথা বলে সরকারি ডিসিআর ফি ১ হাজার ১০০ টাকাসহ যথাক্রমে ৩ হাজার ৭০০ ও ৩ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়ার ২ জনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।সার্ভেয়ার সাজেদুলের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানি কমেন্টে দেখা যায় একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নামজারির ৯৫ % ফাইলের স্বাক্ষরের জন্য সাজেদুল সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা নেন। টাকা না দিলে ফাইল এসিল্যান্ডের টেবিলে যায় না বলেও তাঁদের দাবি।

 

 

রায়পুরে নামজারির সরকারি ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ,তাঁদের ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।সরকারি ফি বিকাশের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও হাতে হাতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।রায়পুরে বছরে প্রায় ১০ হাজার নামজারি হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।তাঁদের মতে, প্রতিটি নামজারি ফাইলে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর রয়েছে।কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে তদন্ত করলে আবেদনকারীদের ফোন করে সার্ভেয়ার সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, হয়রানি এবং নামজারিতে প্রকৃত ব্যয়ের তথ্য সহজেই যাচাই করতে পারবে।অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার সাজেদুল ইসলাম টাকা নেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন।সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তিনি বর্তমানে রায়পুরে কর্মরত না থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব হাসান বলেন,ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার বলেন,আমি জেলা প্রশাসককে বলব যাতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান,ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।