ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ডেঙ্গু মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক কার্যকর সমাধানের ওপর জোর দিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ অর্জনে আরিফুর রহমান শুভকে সংবর্ধনা চার দিনের সরকারি সফরে জাপান পৌঁছেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী TAKAICHI Sanae-এর আমন্ত্রণে সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন, দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ ফি তজুমদ্দিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার, ১৮ জেলের কারাদণ্ড সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন নিয়ে উত্তেজনা, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন নাগেশ্বরীতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে গন সংযোগে ব্যাস্ত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। চুনারুঘাটে ৪৮ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ ঢাকায় আইএসজিএফের ৭৩তম ফেলোশিপ ডে উদযাপন

কোরিয়ার আদালতে ২৪৩ শিক্ষার্থীর টাকা ফেরতের দাবি

  • আপডেটের সময় : ০৪:১৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৫৬ সময় দৃশ্য
৩৭৯

 

এম এ বাছির রাজা, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে টিউশন ফি দিয়েও ভিসা না পাওয়া ২২৫ শিক্ষার্থীর টাকা ফেরতের আইনি লড়াইয়ে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও ১৮ জন শিক্ষার্থীকে যুক্ত করে মোট ২৪৩ জনের পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে কোরিয়ার রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও স্থানীয় কোরিয়ান আইনজীবীর সমন্বয়ে এসব ক্লেইম দাখিল করা হয়।

জানা গেছে, টিউশন ফি পরিশোধের পর শিক্ষার্থীরা ভিসা না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়ায় চলে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

তবে গত ২৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেউলিয়া কার্যক্রমের পরিবর্তে রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমের জন্য আদালতে আবেদন করে। আদালত আবেদন গ্রহণ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি রিহ্যাবিলিটেশন প্রক্রিয়ার অধীনে চলে যায়।

এরপর শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিয়োজিত কোরিয়ান আইনজীবীর পরামর্শে রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টেই টাকা ফেরতের দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। পরে কোরিয়ান আইনজীবীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়।

শুক্রবার ২২৫ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি আরও ১৮ জনের পক্ষেও ক্লেইম দাখিল হওয়ায় মোট ২৪৩ জনের টাকা ফেরতের দাবি আদালতের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হলো। অনলাইনে ক্লেইম দাখিলের পাশাপাশি আদালতের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় হার্ড কপিও জমা দেওয়া হয়েছে।

অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ আদালতে শিক্ষার্থীদের ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে। এখন আদালতের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে। আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বৈধ পাওনা আদায়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যদেরও পাওনা রয়েছে। তাই আদালত সব পাওনাদারের দাবি আইন অনুযায়ী বিবেচনা করবে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

এখন আদালত দাখিল করা ক্লেইম পর্যালোচনা করবে। পরবর্তী শুনানি ও আইনি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কোরিয়ান আইনজীবী কাজ করবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৪৩ শিক্ষার্থীর ক্লেইম আদালতে দাখিল হওয়ায় টাকা ফেরতের দাবিটি এখন আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কত টাকা ও কখন ফেরত পাওয়া যাবে, তা আদালতের সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ডেঙ্গু মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক কার্যকর সমাধানের ওপর জোর দিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

কোরিয়ার আদালতে ২৪৩ শিক্ষার্থীর টাকা ফেরতের দাবি

আপডেটের সময় : ০৪:১৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
৩৭৯

 

এম এ বাছির রাজা, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে টিউশন ফি দিয়েও ভিসা না পাওয়া ২২৫ শিক্ষার্থীর টাকা ফেরতের আইনি লড়াইয়ে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও ১৮ জন শিক্ষার্থীকে যুক্ত করে মোট ২৪৩ জনের পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে কোরিয়ার রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও স্থানীয় কোরিয়ান আইনজীবীর সমন্বয়ে এসব ক্লেইম দাখিল করা হয়।

জানা গেছে, টিউশন ফি পরিশোধের পর শিক্ষার্থীরা ভিসা না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়ায় চলে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

তবে গত ২৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেউলিয়া কার্যক্রমের পরিবর্তে রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমের জন্য আদালতে আবেদন করে। আদালত আবেদন গ্রহণ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি রিহ্যাবিলিটেশন প্রক্রিয়ার অধীনে চলে যায়।

এরপর শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিয়োজিত কোরিয়ান আইনজীবীর পরামর্শে রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টেই টাকা ফেরতের দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। পরে কোরিয়ান আইনজীবীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়।

শুক্রবার ২২৫ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি আরও ১৮ জনের পক্ষেও ক্লেইম দাখিল হওয়ায় মোট ২৪৩ জনের টাকা ফেরতের দাবি আদালতের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হলো। অনলাইনে ক্লেইম দাখিলের পাশাপাশি আদালতের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় হার্ড কপিও জমা দেওয়া হয়েছে।

অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ আদালতে শিক্ষার্থীদের ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে। এখন আদালতের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে। আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বৈধ পাওনা আদায়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যদেরও পাওনা রয়েছে। তাই আদালত সব পাওনাদারের দাবি আইন অনুযায়ী বিবেচনা করবে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

এখন আদালত দাখিল করা ক্লেইম পর্যালোচনা করবে। পরবর্তী শুনানি ও আইনি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কোরিয়ান আইনজীবী কাজ করবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৪৩ শিক্ষার্থীর ক্লেইম আদালতে দাখিল হওয়ায় টাকা ফেরতের দাবিটি এখন আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কত টাকা ও কখন ফেরত পাওয়া যাবে, তা আদালতের সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।