ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সাতলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট ফজলুল হক বিশ্বাসের নির্বাচনী গণসংযোগ বরিশালে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ শুরু বরিশাল সদরে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান ২০ হাজার মিটার জাল জব্দ ৪ জনকে জরিমানা বরিশাল জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনু‌ষ্ঠিত বাগেরহাটে বিশ্ব মৃত্যুদণ্ড বিলোপ দিবস পালিত এক সপ্তাহের মধ্যে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর উজিরপুরে মা ইলিশ সংরক্ষনে অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের জাল জব্দ করেন প্রশাসন তারাগঞ্জের ৬৩ মন্দিরে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস ওসির দোহাজারীকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে উত্তাল রাজপথ এবং ধারাবাহিক কর্মসূচির ডাক

১৭ বছর সরকার জাতিকে মেধাশূন্য করে দেওয়ার জন্য ষ/ড়যন্ত্রে ছিল: এস এম জিলানী

  • আপডেটের সময় : ০৫:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫৫ সময় দৃশ্য
৯৭

 

কোটালীপাড়া প্রতিনিধি:কামরুল হাসান “১৭ বছর একটি সরকার ও রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র ছিল বাংলাদেশ জাতিকে মেধাশূন্য করে দেওয়ার জন্য”—এমন মন্তব্য করেছেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী। অতীতের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতায় লিখুক বা না লিখুক, তাদের পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো। একই সঙ্গে কোটালীপাড়ার প্রাথমিক শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষকদের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন তিনি।

 

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) হলরুমে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কোটালীপাড়া উপজেলা থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৬০ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে স্কুলব্যাগ ও ফুল তুলে দেন এস এম জিলানী।

 

কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া, সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান হাওলাদারসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা।

 

শিক্ষকদের উদ্দেশে এস এম জিলানী বলেন, “১৭ বছর একটি সরকার এবং একটি রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র ছিল বাংলাদেশ জাতিকে মেধাশূন্য করে দেওয়ার জন্য। এই সময়ে লেখাপড়ার মান উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।” তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতায় লিখুক বা না লিখুক, তাদের পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো। তখন জিপিএ ও গোল্ডেন জিপিএ পাওয়ার হিড়িক দেখা গেলেও অনেক শিক্ষার্থী এসএসসিতে ভালো ফল করার পরও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। “আমরা এই শিক্ষা পদ্ধতি চাই না,” বলেন এস এম জিলানী।

 

কোটালীপাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করে এস এম জিলানী বলেন, “আমাকে আপনারা পরামর্শ দেন, কীভাবে কোটালীপাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নত করা যায়।” শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও মতামত কাজে লাগিয়ে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এস এম জিলানী বলেন, “তোমাদের উদ্দীপ্ত করার জন্য আজকের এই আয়োজনটি আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস। লেখাপড়ায় আরও মনোনিবেশ করতে হবে। বইয়ের পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

 

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন উল্লেখ করে এস এম জিলানী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

 

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সাতলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট ফজলুল হক বিশ্বাসের নির্বাচনী গণসংযোগ

১৭ বছর সরকার জাতিকে মেধাশূন্য করে দেওয়ার জন্য ষ/ড়যন্ত্রে ছিল: এস এম জিলানী

আপডেটের সময় : ০৫:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
৯৭

 

কোটালীপাড়া প্রতিনিধি:কামরুল হাসান “১৭ বছর একটি সরকার ও রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র ছিল বাংলাদেশ জাতিকে মেধাশূন্য করে দেওয়ার জন্য”—এমন মন্তব্য করেছেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী। অতীতের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতায় লিখুক বা না লিখুক, তাদের পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো। একই সঙ্গে কোটালীপাড়ার প্রাথমিক শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষকদের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন তিনি।

 

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) হলরুমে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কোটালীপাড়া উপজেলা থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৬০ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে স্কুলব্যাগ ও ফুল তুলে দেন এস এম জিলানী।

 

কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া, সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান হাওলাদারসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা।

 

শিক্ষকদের উদ্দেশে এস এম জিলানী বলেন, “১৭ বছর একটি সরকার এবং একটি রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র ছিল বাংলাদেশ জাতিকে মেধাশূন্য করে দেওয়ার জন্য। এই সময়ে লেখাপড়ার মান উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।” তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতায় লিখুক বা না লিখুক, তাদের পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো। তখন জিপিএ ও গোল্ডেন জিপিএ পাওয়ার হিড়িক দেখা গেলেও অনেক শিক্ষার্থী এসএসসিতে ভালো ফল করার পরও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। “আমরা এই শিক্ষা পদ্ধতি চাই না,” বলেন এস এম জিলানী।

 

কোটালীপাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করে এস এম জিলানী বলেন, “আমাকে আপনারা পরামর্শ দেন, কীভাবে কোটালীপাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নত করা যায়।” শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও মতামত কাজে লাগিয়ে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এস এম জিলানী বলেন, “তোমাদের উদ্দীপ্ত করার জন্য আজকের এই আয়োজনটি আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস। লেখাপড়ায় আরও মনোনিবেশ করতে হবে। বইয়ের পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

 

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন উল্লেখ করে এস এম জিলানী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।