
- নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী আন্তদেশীয় ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস পদ্মা সেতু হয়ে বেনাপোল রুটে চালানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে কলকাতা যাতায়াতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে যাত্রীপ্রতি ভাড়া প্রায় এক হাজার টাকা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, বর্তমানে যমুনা সেতু ও দর্শনা সীমান্ত হয়ে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন করে পদ্মা সেতু ও বেনাপোলের দিকে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন রুটে ট্রেনটি পরিচালনা করা গেলে ঢাকা-কলকাতা যাত্রার সময় প্রায় ছয় ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে।
বর্তমান রুটে সময় লাগে প্রায় আট ঘণ্টা
বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে কলকাতায় পৌঁছাতে প্রায় ৭ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় নেয়। ফিরতি পথে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসতে নির্ধারিত সময় প্রায় ৮ ঘণ্টা ২৫ মিনিট। তবে রেলপথে যানজট ও পরিচালনাগত জটিলতার কারণে বাস্তবে যাত্রায় আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু-বেনাপোল রুট চালু হলে যাত্রার সময় কমার পাশাপাশি যাত্রীদের ভ্রমণ আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভাড়া কমার সম্ভাবনা
নতুন রুটে দূরত্ব কমে এলে যাত্রীপ্রতি ভাড়া প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। রুট পরিবর্তন, পরিচালন ব্যয় এবং দুই দেশের রেলওয়ের সমন্বয়ের ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।
এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি
বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বৈঠকে মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ভারতীয় পক্ষ পদ্মা সেতু হয়ে ট্রেনটি পরিচালনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রেনটি পুনরায় চালু এবং নতুন রুটে পরিচালনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন। নতুন রুটের কারিগরি সক্ষমতা ও অন্যান্য বিষয়ও পর্যালোচনা করতে হবে।
২০২৪ সাল থেকে বন্ধ মৈত্রী এক্সপ্রেস
নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেসসহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী কয়েকটি আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনের পরিষেবা বন্ধ রয়েছে।
ঢাকা-কলকাতা রুটের এই ট্রেনটি চিকিৎসা, ব্যবসা, পর্যটন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।
প্রস্তাবিত রুট পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে যাত্রার সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও সুবিধাজনক হতে পারে। তবে ট্রেনটি কবে পুনরায় চালু হবে এবং নতুন রুটে চলবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।



















