
মোঃ ইলিয়াস সানি, তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার তিনটি কলেজে দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। এ বছর ৪৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১১২ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৫১ জন। সম্মিলিত পাসের হার ২৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী।
উপজেলার তজুমদ্দিন সরকারি কলেজ থেকে ১৭২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩০ জন। পাসের হার ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এর মধ্যে মানবিক বিভাগে ২৫ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন পাস করেছেন। তবে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের চার পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
শম্ভুপুর শাহে আলম মডেল কলেজ থেকে ১৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪০ জন। পাসের হার ২১ দশমিক ২৮ শতাংশ। এর মধ্যে মানবিক বিভাগে ২৪ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ১১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫ জন পাস করেছেন। এ কলেজ থেকেই একমাত্র শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
অন্যদিকে, তজুমদ্দিন মহিলা কলেজের ফলাফল তুলনামূলক ভালো। এ কলেজ থেকে ১০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪২ জন। পাসের হার ৪০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এর মধ্যে মানবিক বিভাগে ২৮ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ১৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে একজন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এ বছর পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অন্যদিকে, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সে হিসাবে তজুমদ্দিনের তিন কলেজের সম্মিলিত পাসের হার বরিশাল বোর্ডের তুলনায় ২০ দশমিক ৬৫ এবং জাতীয় গড়ের তুলনায় ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফলের এই চিত্র থেকে উত্তরণে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, পাঠদানে কার্যকর নজরদারি এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
আলোকিত সময়/রেবারা






















