
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উচ্চ বেতনে বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২৯টি দেশের নাগরিককে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ দিয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘের ইউক্রেনবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ঘটনায় মানবপাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতাকারী ও নিয়োগকারী নেটওয়ার্ক জড়িত থাকার তথ্যও উঠে এসেছে।
চাকরির প্রলোভনে নিয়োগ
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন এবং বিভিন্ন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের আকৃষ্ট করা হতো। তাঁদের নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, নির্মাণশ্রমিক, কারিগরি কর্মী ও অন্যান্য বেসামরিক পদে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হতো।
এসব প্রস্তাবে উচ্চ বেতন, আবাসন সুবিধা, রাশিয়ার নাগরিকত্ব এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা অনেক মানুষ এসব প্রলোভনে পড়ে রাশিয়ায় যেতে রাজি হন।
রাশিয়ায় পৌঁছে সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার অভিযোগ
কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর অনেককে তাঁদের প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করতে বাধ্য করা হয়। অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি রুশ ভাষা না জানায় চুক্তির শর্ত বুঝতে পারেননি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়। পরে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। চুক্তিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানালে কাউকে কাউকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তালিকায় বাংলাদেশসহ ২৯ দেশ
জাতিসংঘের তদন্তে প্রতারণা বা জবরদস্তির মাধ্যমে নাগরিকদের রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগের প্রমাণ পাওয়া ২৯টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছে ভারত, পাকিস্তান নয় বরং শ্রীলঙ্কা, নেপাল নয় বরং উজবেকিস্তান, আজারবাইজান, বেলারুশ, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ঘানা, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশের নাম। প্রতিবেদনে উল্লিখিত পূর্ণ তালিকায় মোট ২৯টি দেশ রয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে বিবেচিত ভুক্তভোগীরা ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষ। তাঁদের অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন।
বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ
বাংলাদেশ থেকেও উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নাগরিকদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক অনুসন্ধানেও এ ধরনের মানবপাচার চক্রের তথ্য উঠে এসেছে।
চাকরির আশায় বিদেশে যেতে আগ্রহীদের ক্ষেত্রে ভুয়া নিয়োগপ্রস্তাব ও প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছে, বিভিন্ন দেশে একই ধরনের নিয়োগপদ্ধতি, চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং ভ্রমণের ব্যবস্থা করার মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত রয়েছে। এসব ঘটনায় মানবপাচার ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।
সূত্র: জাতিসংঘের ইউক্রেনবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।




















