ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নেপালে মৃত্যু বেড়ে ২৭০, নিখোঁজ দেড় হাজার মাধবপুরের ৭৭ স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই, ৬৪ সহকারী শিক্ষক পদও শূন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় অশনিসংকেত মির্জাবাড়ীর হাসিল গ্রামে আইনশৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে মতবিনিময় সভা স্বামীর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি, যৌতুক মামলায় কারাগারে স্ত্রী একদিন সব ছেড়ে যেতে হয় : ফারিণ নেপালে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় রাষ্ট্রপতির শোক পিত্তনালিতে পাথরের চিকিৎসা কী শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশে হবে না: সারজিস চট্টগ্রামে ১২ রবিউল আউয়ালে ধর্মীয় আবহে মুখর নগরী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা শাখার উদ্যোগে A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

পিত্তনালিতে পাথরের চিকিৎসা কী

  • আপডেটের সময় : ০১:৫২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ সময় দৃশ্য

অনলাইন ডেস্ক:
লেখা: ডা. রতন লাল সাহা
কোলেডোকোলিথিয়াসিস হলো সাধারণ পিত্তনালিতে পিত্তপাথরের উপস্থিতি। যা যকৃৎ ও পিত্তথলি থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে পিত্তরসের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে তলপেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব ও জন্ডিস হয়। চিকিৎসা না করা হলে এটি থেকে প্রাণঘাতী সংক্রমণ (কোলাঞ্জাইটিস) ও অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (প্যানক্রিয়াটাইটিস) হতে পারে।
লক্ষণ কী

যখন কোনো পাথর পিত্তনালিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তখন সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়—

তলপেটের ওপরের ডান দিকে তীব্র, মোচড়ানো ব্যথা (পিত্তশূল)। জন্ডিস—ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া। বমি বমি ভাব ও বমি। জ্বর ও কাঁপুনি, যা সংক্রমণের প্রধান সতর্ক সংকেত। গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং ফ্যাকাশে, মাটির রঙের মল।

ঝুঁকি

ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অতীতে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস, স্থূলতা, দ্রুত ওজন হ্রাস এবং আগে পিত্তথলি অপসারণের অস্ত্রোপচার। বেশির ভাগ পাথর পিত্তথলিতে উৎপন্ন হয় এবং ধীরে ধীরে বিত্তশালী বা কমন বাইল ডাক্টে চলে আসে। কিছু ক্ষেত্রে, বাইল স্ট্যাসিস বা সংক্রমণের কারণে এগুলি সরাসরি পিত্তনালিতেই তৈরি হয়।
রোগনির্ণয়

রক্ত পরীক্ষা: বিশেষ করে লিভার ফাংশন টেস্ট এবং ইমেজিংয়ের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে কোলেডোকোলিথিয়াসিস নির্ণয় করা হয়।

পেটের আলট্রাসাউন্ড: প্রসারিত নালি বা পাথর দেখার জন্য এটিই সবচেয়ে ব্যবহৃত ও প্রথম ইমেজিং পরীক্ষা।

এমআরসিপি: ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স কোলানজিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি একধরনের অত্যন্ত সংবেদনশীল এমআরআই। যা পিত্তনালির মানচিত্র তৈরি করে লুকানো পাথর খুঁজে বের করে।

এন্ডোস্কোপিক আলট্রাসাউন্ড: এটি এন্ডোস্কোপ ও আলট্রাসাউন্ডের সমন্বয়ে নালিগুলোর বিস্তারিত চিত্র ধারণ করে।
চিকিৎসা

চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হলো পিত্তনালির প্রতিবন্ধকতা দূর করা। প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

ইআরসিপি: এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোলানজিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা। একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট মুখ দিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে একটি এন্ডোস্কোপ প্রবেশ করিয়ে প্রতিবন্ধকতাটি শনাক্ত করেন এবং পাথরটি বের করে আনেন।

স্ফিঙ্কটারোটমি: পাথরটি বের হওয়ার সুবিধার্থে পিত্তনালির মুখের মাংসপেশিতে ছোট করে কাটা হয়।

কোলেসিস্টেকটমি: যদি পিত্তথলিটি অক্ষত থাকে, তবে ভবিষ্যতে পাথর তৈরি হওয়া রোধ করার জন্য সার্জনরা সাধারণত পাথর অপসারণের পর সেটিও কেটে বাদ দিয়ে দেন।

লেখক: কনসালট্যান্ট, জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি; চেম্বার: আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নেপালে মৃত্যু বেড়ে ২৭০, নিখোঁজ দেড় হাজার

পিত্তনালিতে পাথরের চিকিৎসা কী

আপডেটের সময় : ০১:৫২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক:
লেখা: ডা. রতন লাল সাহা
কোলেডোকোলিথিয়াসিস হলো সাধারণ পিত্তনালিতে পিত্তপাথরের উপস্থিতি। যা যকৃৎ ও পিত্তথলি থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে পিত্তরসের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে তলপেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব ও জন্ডিস হয়। চিকিৎসা না করা হলে এটি থেকে প্রাণঘাতী সংক্রমণ (কোলাঞ্জাইটিস) ও অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (প্যানক্রিয়াটাইটিস) হতে পারে।
লক্ষণ কী

যখন কোনো পাথর পিত্তনালিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তখন সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়—

তলপেটের ওপরের ডান দিকে তীব্র, মোচড়ানো ব্যথা (পিত্তশূল)। জন্ডিস—ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া। বমি বমি ভাব ও বমি। জ্বর ও কাঁপুনি, যা সংক্রমণের প্রধান সতর্ক সংকেত। গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং ফ্যাকাশে, মাটির রঙের মল।

ঝুঁকি

ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অতীতে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস, স্থূলতা, দ্রুত ওজন হ্রাস এবং আগে পিত্তথলি অপসারণের অস্ত্রোপচার। বেশির ভাগ পাথর পিত্তথলিতে উৎপন্ন হয় এবং ধীরে ধীরে বিত্তশালী বা কমন বাইল ডাক্টে চলে আসে। কিছু ক্ষেত্রে, বাইল স্ট্যাসিস বা সংক্রমণের কারণে এগুলি সরাসরি পিত্তনালিতেই তৈরি হয়।
রোগনির্ণয়

রক্ত পরীক্ষা: বিশেষ করে লিভার ফাংশন টেস্ট এবং ইমেজিংয়ের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে কোলেডোকোলিথিয়াসিস নির্ণয় করা হয়।

পেটের আলট্রাসাউন্ড: প্রসারিত নালি বা পাথর দেখার জন্য এটিই সবচেয়ে ব্যবহৃত ও প্রথম ইমেজিং পরীক্ষা।

এমআরসিপি: ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স কোলানজিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি একধরনের অত্যন্ত সংবেদনশীল এমআরআই। যা পিত্তনালির মানচিত্র তৈরি করে লুকানো পাথর খুঁজে বের করে।

এন্ডোস্কোপিক আলট্রাসাউন্ড: এটি এন্ডোস্কোপ ও আলট্রাসাউন্ডের সমন্বয়ে নালিগুলোর বিস্তারিত চিত্র ধারণ করে।
চিকিৎসা

চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হলো পিত্তনালির প্রতিবন্ধকতা দূর করা। প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

ইআরসিপি: এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোলানজিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা। একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট মুখ দিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে একটি এন্ডোস্কোপ প্রবেশ করিয়ে প্রতিবন্ধকতাটি শনাক্ত করেন এবং পাথরটি বের করে আনেন।

স্ফিঙ্কটারোটমি: পাথরটি বের হওয়ার সুবিধার্থে পিত্তনালির মুখের মাংসপেশিতে ছোট করে কাটা হয়।

কোলেসিস্টেকটমি: যদি পিত্তথলিটি অক্ষত থাকে, তবে ভবিষ্যতে পাথর তৈরি হওয়া রোধ করার জন্য সার্জনরা সাধারণত পাথর অপসারণের পর সেটিও কেটে বাদ দিয়ে দেন।

লেখক: কনসালট্যান্ট, জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি; চেম্বার: আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা