ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সাড়ে চার ঘন্টায় রাজধানীর ১৩টি স্পট আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রী ​হাসপাতালের কক্ষে ধূমপান! প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চিকিৎসক বরখাস্ত এখন গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়: রুমিন ফারহানা তাড়াশে পিপিআর রোগে দুই সপ্তাহে ৪০ ছাগলের মৃত্যু, টিকার সংকট জৈন্তাপুরে ‘ভয়ংকর এক্সপ্রেস’ ট্রাক থেকে মাদক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ ধুনটে নবাগত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন সনির যোগদান, ফারিয়ার শুভেচ্ছা নীলফামারীতে লালন সাঁইয়ের ১৩৬ তম তিরোধান দিবস পালিত, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ভোলা-তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন কোটালীপাড়ায় অফিস চলাকালিন সময় অসুস্থ হয়ে পড়লেন প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তরের অফিস সহকারি কক্সবাজারের টুকটাক রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে আশুলিয়ার নাসরিন আক্তার মুক্তা নিহত

ভোলা-তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

  • আপডেটের সময় : ০৬:০১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ সময় দৃশ্য
৪০

ভোলা জেলা, প্রতিনিধিঃ ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে ইলিশ শিকার, ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার বিভিন্ন খাবার হোটেলে ইলিশ রান্না করে বিক্রি এবং হাটবাজারে মা ইলিশ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

 

সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত ৮ অক্টোবর শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে অভিযান ও নজরদারি পরিচালনার কথা রয়েছে।

 

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাছ শিকারের ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার কয়েকটি খাবার হোটেলে প্রকাশ্যে ইলিশ রান্না করে বিক্রি এবং হাটবাজারে মা ইলিশ বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এসব কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তদারকি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

 

তাদের মতে, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত টহল, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকার বন্ধ, অবৈধ জালের ব্যবহার প্রতিরোধ এবং বাজার ও খাবার হোটেলে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে পারলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে। এর সঙ্গে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি জীবিকার বিষয়টিও জড়িত। তাই নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে সমন্বিত ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এবার জনবল সংকটের কারণে জেলেদের মাছ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

 

নিষেধাজ্ঞার বাকি সময়ে নদী, বাজার ও খাবার হোটেলগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করা এবং অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ ও বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও তৎপরতা প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সাড়ে চার ঘন্টায় রাজধানীর ১৩টি স্পট আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রী

ভোলা-তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

আপডেটের সময় : ০৬:০১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
৪০

ভোলা জেলা, প্রতিনিধিঃ ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে ইলিশ শিকার, ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার বিভিন্ন খাবার হোটেলে ইলিশ রান্না করে বিক্রি এবং হাটবাজারে মা ইলিশ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

 

সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত ৮ অক্টোবর শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে অভিযান ও নজরদারি পরিচালনার কথা রয়েছে।

 

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাছ শিকারের ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার কয়েকটি খাবার হোটেলে প্রকাশ্যে ইলিশ রান্না করে বিক্রি এবং হাটবাজারে মা ইলিশ বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এসব কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তদারকি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

 

তাদের মতে, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত টহল, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকার বন্ধ, অবৈধ জালের ব্যবহার প্রতিরোধ এবং বাজার ও খাবার হোটেলে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে পারলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে। এর সঙ্গে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি জীবিকার বিষয়টিও জড়িত। তাই নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে সমন্বিত ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এবার জনবল সংকটের কারণে জেলেদের মাছ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

 

নিষেধাজ্ঞার বাকি সময়ে নদী, বাজার ও খাবার হোটেলগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করা এবং অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ ও বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও তৎপরতা প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।