
মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন, দুবাই প্রতিনিধি:
সংযুক্ত আরব আমিরাতে এমন কোনো দিন অতিবাহিত করা কঠিন, যেদিন দেশটির প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের রেখে যাওয়া কোনো ঐতিহ্যের পাশ দিয়ে যেতে হয় না। বিমানবন্দর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ থেকে সেতু—দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোর মধ্য দিয়ে আজও স্মরণ করা হয় তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও উন্নয়নচিন্তাকে।
মহামান্য শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি। সাতটি পৃথক আমিরাতকে একত্র করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর আদর্শ, নেতৃত্ব ও উন্নয়নদর্শন দেশটির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর নামাঙ্কিত বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এগুলো কেবল অবকাঠামো নয়; বরং দেশটির ইতিহাস, ঐক্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আধুনিক উন্নয়নের প্রতীক।
১. জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: বিশ্বের প্রবেশদ্বার
আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও যাতায়াতব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশ্বজুড়ে দেশটির সংযোগ স্থাপনে এই বিমানবন্দরের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
২. জায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষায় দূরদর্শী বিনিয়োগ
শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উচ্চশিক্ষা খাতে জায়েদ বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আধুনিক শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
৩. শেখ জায়েদ স্পোর্টস সিটি, আবুধাবি: ক্রীড়া ও ঐক্যের প্রতীক
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্পোর্টস সিটি দেশটির ক্রীড়া অবকাঠামোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। খেলাধুলা, বিনোদন ও বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এটি মানুষের মধ্যে সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও ঐক্যের চেতনাকে তুলে ধরে।
৪. শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, আবুধাবি: বিশ্বাস ও ঐক্যের অনন্য নিদর্শন
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম পরিচিত স্থাপত্য নিদর্শন। এর অনন্য নকশা, বিশাল প্রাঙ্গণ ও দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী ধর্মীয় ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির পরিচয় বহন করে।
৫. শেখ জায়েদ রোড, দুবাই: আধুনিক নগরায়ণের প্রতিচ্ছবি
দুবাইয়ের শেখ জায়েদ রোড দেশটির দ্রুত নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম দৃশ্যমান প্রতীক। সুউচ্চ ভবন, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এই সড়ক সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিবর্তনশীল চিত্র তুলে ধরে।
৬. জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম, আবুধাবি: অতীত ও ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন
আবুধাবির জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদের জীবনদর্শন তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। দেশটির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে জাদুঘরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
৭. শেখ জায়েদ ব্রিজ, আবুধাবি: স্থাপত্যে সৃজনশীলতার অনন্য প্রকাশ
আবুধাবির শেখ জায়েদ ব্রিজ তার ব্যতিক্রমী নকশা ও আধুনিক নির্মাণশৈলীর জন্য পরিচিত। প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত এর বাঁকানো কাঠামো দেশটির আধুনিক স্থাপত্য ও প্রকৌশল দক্ষতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
একটি নাম, একটি স্বপ্ন, এক অনন্ত উত্তরাধিকার
সংযুক্ত আরব আমিরাতের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার ইতিহাসে শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের অবদান গভীরভাবে স্মরণীয়। তাঁর নামাঙ্কিত স্থাপনাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে দেশটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, ঐক্যের শক্তি এবং উন্নয়নের স্বপ্নকে তুলে ধরে।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত আরও এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এই অগ্রযাত্রার পেছনে যে ঐক্য, দূরদর্শিতা ও রাষ্ট্রগঠনের স্বপ্ন কাজ করেছে, তার অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান দেশটির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।



















