ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাধবপুরে সড়কের পাশে ৭ হাজার তালবীজ রোপণ, সবুজায়নে নতুন উদ্যোগ কালিয়াকৈরে আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩৯ ​বরিশালে সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর ‘বিভাগীয় ব্যবসায়িক সম্মেলন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত মেহেন্দিগঞ্জের ২৩ পূজামণ্ডপে সরকারি চালের ডিও ও প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান বিতরণ সামাজিক মাধ্যমে পরিচয়, নতুন স্বপ্ন গড়তে বাড়ি ছাড়া ৪ ছাত্রী মুরাদনগরে কন্যাশিশু দিবস উদযাপন, বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতার তাগিদ মধুপুরে অটোরিকশা চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার অটোরিকশা ও ৫ ব্যাটারি আবু ধাবিতে সড়ক দু/র্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি মা-ছেলের ম/র্মান্তিক মৃ/ত্যু কেরানীগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বিতরণ

অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : ০৭:৩০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৩ সময় দৃশ্য
৫৩

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। ডিজিটাল দুনিয়া ও সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ, প্রতারণা এমন কি স্টক মার্কেট ম্যানিপুলেশনের মতো অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে সরকার দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

 

১৪ ( অক্টোবর) বুধবার চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে সিআইডির সাইবার অফিস ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠায় কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোইকা) সহযোগিতা করেছে। এজন্য তিনি কোরিয়ান সরকার, কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত, কোইকার প্রতিনিধিসহ কোরিয়া থেকে আগত সংশ্লিষ্ট টিমের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

 

মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রথম থেকেই পুলিশ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পরিকল্পনা করে আসছিল। গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ উদ্বোধন করা ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবটি সিআইডির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক অ্যানালাইসিস ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের মধ্যে আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

 

মন্ত্রী আরো বলেন, ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল অ্যানালাইসিসের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ল্যাবরেটরি ফ্যাসিলিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এবিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং কোরিয়া সরকারের কাছ থেকেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

 

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সিআইডি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি পরিচালনা করে আসছে। ভিসেরা রিপোর্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই ল্যাবরেটরির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে এসব ল্যাবরেটরির সম্প্রসারণও জরুরি হয়ে পড়েছে। বিচারিক কার্যক্রমে মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সেগুলোর যথাযথ সার্টিফিকেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন,অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। আধুনিক ডিজিটাল জগতে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে সরকার প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা, লজিস্টিকস ও আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সুসজ্জিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দায়িত্ব রয়েছে তবে তিনি এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না।সকল বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ মাঝে মধ্যে অপরাধীদের হামলার শিকার হয়, যা নতুন কোনো বিষয় নয়। অপরাধীদের দমনে পুলিশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি পুলিশকে আসামি গ্রেপ্তারে বাধা দিলে বা আসামিকে সহায়তা করলে এই বিষয়ে যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এবিষয়ে পুলিশ তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ এর মতো কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকির, অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনেসহ পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটের সময় : ০৭:৩০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
৫৩

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। ডিজিটাল দুনিয়া ও সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ, প্রতারণা এমন কি স্টক মার্কেট ম্যানিপুলেশনের মতো অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে সরকার দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

 

১৪ ( অক্টোবর) বুধবার চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে সিআইডির সাইবার অফিস ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠায় কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোইকা) সহযোগিতা করেছে। এজন্য তিনি কোরিয়ান সরকার, কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত, কোইকার প্রতিনিধিসহ কোরিয়া থেকে আগত সংশ্লিষ্ট টিমের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

 

মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রথম থেকেই পুলিশ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পরিকল্পনা করে আসছিল। গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ উদ্বোধন করা ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবটি সিআইডির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক অ্যানালাইসিস ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের মধ্যে আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

 

মন্ত্রী আরো বলেন, ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল অ্যানালাইসিসের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ল্যাবরেটরি ফ্যাসিলিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এবিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং কোরিয়া সরকারের কাছ থেকেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

 

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সিআইডি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি পরিচালনা করে আসছে। ভিসেরা রিপোর্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই ল্যাবরেটরির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে এসব ল্যাবরেটরির সম্প্রসারণও জরুরি হয়ে পড়েছে। বিচারিক কার্যক্রমে মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সেগুলোর যথাযথ সার্টিফিকেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন,অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। আধুনিক ডিজিটাল জগতে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে সরকার প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা, লজিস্টিকস ও আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সুসজ্জিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দায়িত্ব রয়েছে তবে তিনি এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না।সকল বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ মাঝে মধ্যে অপরাধীদের হামলার শিকার হয়, যা নতুন কোনো বিষয় নয়। অপরাধীদের দমনে পুলিশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি পুলিশকে আসামি গ্রেপ্তারে বাধা দিলে বা আসামিকে সহায়তা করলে এই বিষয়ে যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এবিষয়ে পুলিশ তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ এর মতো কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকির, অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনেসহ পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।