ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ রংপুরে আবাসিক হোটেল থেকে ইয়াবাসহ দুই পুলিশ সদস্য আটক সৈয়দপুরে ৭ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার সাড়ে চার ঘন্টায় রাজধানীর ১৩টি স্পট আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রী ​হাসপাতালের কক্ষে ধূমপান! প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চিকিৎসক বরখাস্ত এখন গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়: রুমিন ফারহানা তাড়াশে পিপিআর রোগে দুই সপ্তাহে ৪০ ছাগলের মৃত্যু, টিকার সংকট জৈন্তাপুরে ‘ভয়ংকর এক্সপ্রেস’ ট্রাক থেকে মাদক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ ধুনটে নবাগত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন সনির যোগদান, ফারিয়ার শুভেচ্ছা নীলফামারীতে লালন সাঁইয়ের ১৩৬ তম তিরোধান দিবস পালিত, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বড় কুঠি ঘাট: উন্মুক্ত পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের অধিকারের লড়াই

  • আপডেটের সময় : ০১:১৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৭ সময় দৃশ্য
৪৫

রাজশাহী প্রতিনিধি: পদ্মার বুক ছুঁয়ে বয়ে যাওয়া শীতল হাওয়া আর গোধূলিলগ্নের মায়াবী আলো—রাজশাহীর বড় কুঠি ঘাট মানেই একসময় ছিল অন্যরকম এক প্রশান্তি। ২০১০ বা ২০১১ সালের দিকে যাঁরা এই ঘাটে গেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই মনে করতে পারেন এখানকার সেই খোলামেলা, প্রাণবন্ত পরিবেশের কথা।

 

তখন পদ্মাপাড়ের কংক্রিটের ইট বা পাথরে মানুষ কোনো ঝুটঝামেলা ছাড়াই বসতে পারত, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেত আড্ডায়, স্বস্তির নিঃশ্বাসে।

 

​কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আজ সেই চেনা চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বর্তমানে বড় কুঠি ঘাটে ঘুরতে গেলে স্বস্তিতে একটু বসার জায়গা পাওয়া যেন এক বিড়ম্বনার নাম। চটপটি, ফুচকা ও আইসক্রিমের দোকানের চেয়ার-টেবিল এবং নানাবিধ অস্থায়ী স্থাপনার কারণে ঘাটের উন্মুক্ত বসার জায়গার বড় একটি অংশ এখন দখল হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কেউ যদি দোকান থেকে কিছু না কেনেন, তবে পদ্মাপাড়ের মুক্ত বাতাসে কিছুক্ষণ বসে সময় কাটানোর ন্যূনতম সুযোগটুকুও তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 

​জীবিকা নির্বাহের জন্য ব্যবসা প্রয়োজন, স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও রুটি-রুজির জন্য সেখানে দোকান দেবেন—এতে দ্বিমত করার অবকাশ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই ব্যবসার প্রসারণ কি নগরবাসীর নাগরিক অধিকার বা উন্মুক্ত পরিসরকে সংকুচিত করে ফেলবে? বড় কুঠি ঘাট কোনো বিশেষ একটি শ্রেণি বা ব্যবসায়ীদের একক সম্পত্তি নয়; এটি শহরবাসীর উন্মুক্ত বিনোদনের জায়গা। এখানে আসা প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে পদ্মার সৌন্দর্য উপভোগ করার এবং খোলামেলা পরিবেশে বসার।

 

​নগরবাসীর এই প্রাণের জায়গাটি রক্ষা করা এবং এর আগের সেই সোনালী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ব্যবসা চলবে, অর্থনীতি সচল থাকবে—পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মুক্তভাবে চলাফেরা ও বসার জায়গা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা থাকা জরুরি।

 

​আমরা আশা করি, রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। বড় কুঠি ঘাটের দখল হয়ে যাওয়া উন্মুক্ত পরিসর পুনরুদ্ধার করে একে আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত ও প্রাণবন্ত করে তোলা হোক—এটাই আজকের নগরবাসীর প্রধান দাবি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

বড় কুঠি ঘাট: উন্মুক্ত পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের অধিকারের লড়াই

আপডেটের সময় : ০১:১৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
৪৫

রাজশাহী প্রতিনিধি: পদ্মার বুক ছুঁয়ে বয়ে যাওয়া শীতল হাওয়া আর গোধূলিলগ্নের মায়াবী আলো—রাজশাহীর বড় কুঠি ঘাট মানেই একসময় ছিল অন্যরকম এক প্রশান্তি। ২০১০ বা ২০১১ সালের দিকে যাঁরা এই ঘাটে গেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই মনে করতে পারেন এখানকার সেই খোলামেলা, প্রাণবন্ত পরিবেশের কথা।

 

তখন পদ্মাপাড়ের কংক্রিটের ইট বা পাথরে মানুষ কোনো ঝুটঝামেলা ছাড়াই বসতে পারত, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেত আড্ডায়, স্বস্তির নিঃশ্বাসে।

 

​কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আজ সেই চেনা চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বর্তমানে বড় কুঠি ঘাটে ঘুরতে গেলে স্বস্তিতে একটু বসার জায়গা পাওয়া যেন এক বিড়ম্বনার নাম। চটপটি, ফুচকা ও আইসক্রিমের দোকানের চেয়ার-টেবিল এবং নানাবিধ অস্থায়ী স্থাপনার কারণে ঘাটের উন্মুক্ত বসার জায়গার বড় একটি অংশ এখন দখল হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কেউ যদি দোকান থেকে কিছু না কেনেন, তবে পদ্মাপাড়ের মুক্ত বাতাসে কিছুক্ষণ বসে সময় কাটানোর ন্যূনতম সুযোগটুকুও তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 

​জীবিকা নির্বাহের জন্য ব্যবসা প্রয়োজন, স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও রুটি-রুজির জন্য সেখানে দোকান দেবেন—এতে দ্বিমত করার অবকাশ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই ব্যবসার প্রসারণ কি নগরবাসীর নাগরিক অধিকার বা উন্মুক্ত পরিসরকে সংকুচিত করে ফেলবে? বড় কুঠি ঘাট কোনো বিশেষ একটি শ্রেণি বা ব্যবসায়ীদের একক সম্পত্তি নয়; এটি শহরবাসীর উন্মুক্ত বিনোদনের জায়গা। এখানে আসা প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে পদ্মার সৌন্দর্য উপভোগ করার এবং খোলামেলা পরিবেশে বসার।

 

​নগরবাসীর এই প্রাণের জায়গাটি রক্ষা করা এবং এর আগের সেই সোনালী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ব্যবসা চলবে, অর্থনীতি সচল থাকবে—পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মুক্তভাবে চলাফেরা ও বসার জায়গা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা থাকা জরুরি।

 

​আমরা আশা করি, রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। বড় কুঠি ঘাটের দখল হয়ে যাওয়া উন্মুক্ত পরিসর পুনরুদ্ধার করে একে আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত ও প্রাণবন্ত করে তোলা হোক—এটাই আজকের নগরবাসীর প্রধান দাবি।