
এম এ বাছির রাজা মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলাকপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে খালেক মিয়ার বসতঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল পুড়ে গেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে ফজরের নামাজের সময় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে হঠাৎ খালেক মিয়ার বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন বসতঘরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে মাধবপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত খালেক মিয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডে তাঁর বসতঘর, আসবাবপত্র, ফ্রিজ, কাঠ, স্বর্ণালংকারসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। এ ছাড়া ছয় থেকে সাত ভরি স্বর্ণালংকার আগুনে নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মাধবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান মানিক জানান, ফজরের নামাজের সময় খালেক মিয়ার বাড়িতে আগুন লাগে। এতে ঘরের আসবাবপত্র, ফ্রিজ, কাঠ ও নতুন বউয়ের স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়। তাঁর ধারণা, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল, মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. মেহেদী হাসান এবং জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান মানিক। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিবারের দুরবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
মাধবপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মনোতোষ মল্লিক বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাতের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি তাঁর নজরে রয়েছে। খুব শিগগিরই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হবে।



















