ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মধুপুরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী এসইউভি (SUV)-এর ধাক্কায় কেরালা থেকে আসা ২৪ বছর বয়সী এক ভারতীয় প্রবাসী নি*হত হয়েছেন আর্থিক সংকট, নোয়াপাড়া চা বাগানের ৮৫০ শ্রমিকের কর্মবিরতি চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার: জাতিসংঘ মাধবপুরে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা, যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড উজিরপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে আটক ২,দুজনকেই ৭ দিনের কারাদণ্ড এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন দিন ৩১ অক্টোবর সিরাজগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত সিরাজগঞ্জে ফেনসিডিল মামলায় বাসচালকের যাবজ্জীবন, সুপারভাইজার খালাস বরিশালে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আর্থিক সংকট, নোয়াপাড়া চা বাগানের ৮৫০ শ্রমিকের কর্মবিরতি

  • আপডেটের সময় : ০৪:১৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ সময় দৃশ্য
১৩

এম এ বাছির রাজা মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: সাপ্তাহিক মজুরি না পেয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানের ৮৫০ শ্রমিক কর্মবিরতি শুরু করেছেন। সোমবার মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে টাকা না পাওয়ায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে কাজে যোগ দেননি তাঁরা। বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাজে ফিরতে অনাগ্রহী শ্রমিকরা।

বাগান সূত্রে জানা যায়, একসময় দেশের সুনামধন্য চা বাগান হিসেবে পরিচিত নোয়াপাড়া চা বাগানটি কয়েক বছর ধরে আর্থিক সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। বাগানটির আর্থিক সংকটের প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের জীবনযাত্রায়।

বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়েক বছর ধরে ব্যাংকঋণ না পাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং চায়ের বিক্রয়মূল্য প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। একপর্যায়ে আর্থিক সংকটের কারণে বাগানের গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয়। এরপর শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাগানে মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা চলছে। সাপ্তাহিক মজুরি না পাওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্বল্প মজুরিতে সংসার চালানো শ্রমিকদের অধিকাংশেরই সঞ্চয় নেই। সপ্তাহের মজুরি দিয়ে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে পরিবারের খরচ চালাতে হয়।

বাগানের শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, সোমবার শ্রমিকদের মজুরি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা না পেয়ে সবাই খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। মজুরি না পেলে শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

নোয়াপাড়া চা বাগানের সভাপতি কমেড নায়েক বলেন, মজুরি কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেনি। এ কারণে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি চলছে। পাওনা পরিশোধ করা হলে শ্রমিকরা কাজে ফিরতে রাজি আছেন। বিষয়টি মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন ও শ্রীমঙ্গলের শ্রম অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ বলেন, অর্থের অভাবে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। কোম্পানি বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। উৎপাদনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়লেও চায়ের দাম সে অনুযায়ী বাড়েনি। ফলে প্রতিবছর লোকসান দিয়ে বাগান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

মধুপুরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী

আর্থিক সংকট, নোয়াপাড়া চা বাগানের ৮৫০ শ্রমিকের কর্মবিরতি

আপডেটের সময় : ০৪:১৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩

এম এ বাছির রাজা মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: সাপ্তাহিক মজুরি না পেয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানের ৮৫০ শ্রমিক কর্মবিরতি শুরু করেছেন। সোমবার মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে টাকা না পাওয়ায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে কাজে যোগ দেননি তাঁরা। বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাজে ফিরতে অনাগ্রহী শ্রমিকরা।

বাগান সূত্রে জানা যায়, একসময় দেশের সুনামধন্য চা বাগান হিসেবে পরিচিত নোয়াপাড়া চা বাগানটি কয়েক বছর ধরে আর্থিক সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। বাগানটির আর্থিক সংকটের প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের জীবনযাত্রায়।

বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়েক বছর ধরে ব্যাংকঋণ না পাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং চায়ের বিক্রয়মূল্য প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। একপর্যায়ে আর্থিক সংকটের কারণে বাগানের গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয়। এরপর শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাগানে মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা চলছে। সাপ্তাহিক মজুরি না পাওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্বল্প মজুরিতে সংসার চালানো শ্রমিকদের অধিকাংশেরই সঞ্চয় নেই। সপ্তাহের মজুরি দিয়ে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে পরিবারের খরচ চালাতে হয়।

বাগানের শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, সোমবার শ্রমিকদের মজুরি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা না পেয়ে সবাই খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। মজুরি না পেলে শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

নোয়াপাড়া চা বাগানের সভাপতি কমেড নায়েক বলেন, মজুরি কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেনি। এ কারণে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি চলছে। পাওনা পরিশোধ করা হলে শ্রমিকরা কাজে ফিরতে রাজি আছেন। বিষয়টি মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন ও শ্রীমঙ্গলের শ্রম অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ বলেন, অর্থের অভাবে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। কোম্পানি বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। উৎপাদনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়লেও চায়ের দাম সে অনুযায়ী বাড়েনি। ফলে প্রতিবছর লোকসান দিয়ে বাগান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।