ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সাতলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট ফজলুল হক বিশ্বাসের নির্বাচনী গণসংযোগ বরিশালে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ শুরু বরিশাল সদরে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান ২০ হাজার মিটার জাল জব্দ ৪ জনকে জরিমানা বরিশাল জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনু‌ষ্ঠিত বাগেরহাটে বিশ্ব মৃত্যুদণ্ড বিলোপ দিবস পালিত এক সপ্তাহের মধ্যে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর উজিরপুরে মা ইলিশ সংরক্ষনে অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের জাল জব্দ করেন প্রশাসন তারাগঞ্জের ৬৩ মন্দিরে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস ওসির দোহাজারীকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে উত্তাল রাজপথ এবং ধারাবাহিক কর্মসূচির ডাক

ঋণের টাকায় চাষ করে বিপাকে কৃষক, কোম্পানির পরামর্শে টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ

  • আপডেটের সময় : ০২:৪১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩১ সময় দৃশ্য
৫৬

এম এ বাছির রাজা, মাধবপুর( হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুরে আগাম জাতের টমেটো চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রান্তিক কৃষক গিরিধন সরকার। কিন্তু পোকামাকড় দমনে ওষুধ প্রয়োগের পরই নষ্ট হয়ে যায় তাঁর ২৫০ শতক জমির টমেটো ক্ষেত। এতে প্রায় ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই কৃষক।

 

 

ঘটনাটি উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের। কৃষক পরিবারের অভিযোগ, কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধির পরামর্শে ওষুধ কিনে জমিতে প্রয়োগ করেছিলেন গিরিধন সরকার। কিন্তু ওষুধ প্রয়োগের পরপরই টমেটো গাছগুলো সাদা হয়ে যেতে শুরু করে। একপর্যায়ে পুরো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক গাছের গোড়ায় পচনও দেখা দেয়।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর টমেটো গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে ওষুধ কিনতে মাধবপুর বাজারের বিসমিল্লাহ বীজ ভান্ডারে যান গিরিধন। সেখানে অটোকেমিক্যাল কোম্পানির প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ কেনেন তিনি। পরে জমিতে সেই ওষুধ স্প্রে করার পরই গাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

 

ঋণ করে টমেটো চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন গিরিধন। এনজিওসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ২৫০ শতক জমিতে আগাম জাতের টমেটো আবাদ করেন তিনি। প্রতিদিন তাঁর জমিতে ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। কয়েক সপ্তাহ পর ফসল বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশা ছিল তাঁর। কিন্তু ফলন ঘরে তোলার আগেই ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণ পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

 

এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কৃষকের ভাই ও সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রায়ধন সরকার।

 

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার জানান, সরেজমিন পরিদর্শনে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, কীটনাশকের পরিবর্তে আগাছানাশক প্রয়োগের কারণে টমেটো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকও ওষুধের বোতল যাচাই না করে তা প্রয়োগ করার কথা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বিক্রেতাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, জমিতে কোনো ওষুধ প্রয়োগের আগে তার লেবেল ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে।

 

এদিকে, টমেটো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঋণ ও ধারদেনা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে কৃষক পরিবারটি। ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সহায়তা পেলে এই সংকট কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সাতলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট ফজলুল হক বিশ্বাসের নির্বাচনী গণসংযোগ

ঋণের টাকায় চাষ করে বিপাকে কৃষক, কোম্পানির পরামর্শে টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ

আপডেটের সময় : ০২:৪১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
৫৬

এম এ বাছির রাজা, মাধবপুর( হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুরে আগাম জাতের টমেটো চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রান্তিক কৃষক গিরিধন সরকার। কিন্তু পোকামাকড় দমনে ওষুধ প্রয়োগের পরই নষ্ট হয়ে যায় তাঁর ২৫০ শতক জমির টমেটো ক্ষেত। এতে প্রায় ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই কৃষক।

 

 

ঘটনাটি উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের। কৃষক পরিবারের অভিযোগ, কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধির পরামর্শে ওষুধ কিনে জমিতে প্রয়োগ করেছিলেন গিরিধন সরকার। কিন্তু ওষুধ প্রয়োগের পরপরই টমেটো গাছগুলো সাদা হয়ে যেতে শুরু করে। একপর্যায়ে পুরো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক গাছের গোড়ায় পচনও দেখা দেয়।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর টমেটো গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে ওষুধ কিনতে মাধবপুর বাজারের বিসমিল্লাহ বীজ ভান্ডারে যান গিরিধন। সেখানে অটোকেমিক্যাল কোম্পানির প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ কেনেন তিনি। পরে জমিতে সেই ওষুধ স্প্রে করার পরই গাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

 

ঋণ করে টমেটো চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন গিরিধন। এনজিওসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ২৫০ শতক জমিতে আগাম জাতের টমেটো আবাদ করেন তিনি। প্রতিদিন তাঁর জমিতে ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। কয়েক সপ্তাহ পর ফসল বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশা ছিল তাঁর। কিন্তু ফলন ঘরে তোলার আগেই ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণ পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

 

এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কৃষকের ভাই ও সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রায়ধন সরকার।

 

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার জানান, সরেজমিন পরিদর্শনে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, কীটনাশকের পরিবর্তে আগাছানাশক প্রয়োগের কারণে টমেটো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকও ওষুধের বোতল যাচাই না করে তা প্রয়োগ করার কথা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বিক্রেতাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, জমিতে কোনো ওষুধ প্রয়োগের আগে তার লেবেল ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে।

 

এদিকে, টমেটো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঋণ ও ধারদেনা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে কৃষক পরিবারটি। ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সহায়তা পেলে এই সংকট কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা