
এম এ বাছির রাজা, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের দক্ষিণাঞ্চলীয় তেল পাইপলাইন ছিদ্র করে কনডেনসেট চুরির ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ৪ নভেম্বর রাতে উপজেলার রতনপুর ডাক্তারবাড়ি এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ পাইপলাইন থেকে এর আগেও একাধিকবার তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পেছনে একটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে উপজেলার রঘুনন্দন, রতনপুর জামতলা, নারায়ণপুর, সাতবর্গ, বোয়ালিয়া ও শাহপুর ফরেস্ট অফিসসহ বিভিন্ন নির্জন এলাকায় পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়, হাওর ও বিলের মধ্য দিয়ে পাইপলাইন বিস্তৃত হওয়ায় বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে চোরচক্রের তৎপরতা বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইপলাইনের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। মাত্র চারজন নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে দিন-রাত পাহারার ব্যবস্থা থাকলেও এত বড় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তাকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
নিরাপত্তাকর্মী শামসু মিয়া জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়নকাজের সময় রতনপুর ডাক্তারবাড়ি এলাকায় ভেকু দিয়ে মাটি কাটার একপর্যায়ে তেলের পাইপ বের হয়ে আসে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চোরচক্র তেল চুরি করেছে বলে তাঁদের ধারণা। পাইপলাইন থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনের বাড়ি।
ঘটনার রাতে তেলের গন্ধ পেয়ে তাঁরা চুরির বিষয়টি শনাক্ত করেন। তিনি আরও জানান, পাইপলাইনের পাশেই গ্যাসের লাইন রয়েছে। ফলে এ ঘটনায় আগুন লাগায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এবং তেল ও গ্যাস সরবরাহ লাইনের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
মামলার বাদী জাহেদ হোসেন জানান, সিলেটের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদিত কনডেনসেট পাইপলাইনের মাধ্যমে আশুগঞ্জের কনডেনসেট স্থাপনায় নেওয়া হয়। সংঘবদ্ধ চক্র মাটির নিচে গর্ত করে মূল পাইপলাইনে ছিদ্র করে নতুন পাইপ সংযোগের মাধ্যমে তেল চুরি করেছে। এ ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিন ও তাঁর লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি মামলা করেছেন।
জিটিসিএলের জিএম ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, উত্তর-দক্ষিণ জাতীয় তেল পাইপলাইন দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। স্থানীয় লোকজনকে দিয়ে লাইনটির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। তবে একটি চক্র সুযোগ পেলেই পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির চেষ্টা করে।
গত ৪ নভেম্বর রাতেও অত্যন্ত কৌশলে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। স্থানীয় লোকজন পুকুর খনন বা মাটি কাটার সময় পাইপলাইন বের হয়ে আসার খবর দিলে তা মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শামসু চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আলোকিত সময়/রেবারা


















