নলছিটিতে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর অভিমান ভাঙাতে এসে জামাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশিত: ৯:২৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

নলছিটিতে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর অভিমান ভাঙাতে এসে জামাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

নলছিটি প্রতিনিধি || ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বৈশাখীয়া গ্রামের শ্বশুর বাড়ি সংলগ্ন একটি রাস্তা থেকে মাসুম বিল্লাহ রাজু (২৪) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে পীর মোয়াজ্জেম – কালাধার পাড় সড়ক থেকে ওই যুবককের মরদেহ উদ্ধার করে মৃতদেহ মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহতের পরিবার এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি করেছেন। নিহত মাসুম বিল্লাহ ঝালকাঠি সদর উপজেলার লেসপ্রতাপ গ্রামের ইউসুফ আলি হাওলাদারের পুত্র। পুলিশ জানায়, গত দুইদিন আগে মাসুম বিল্লাহর স্ত্রী মনি আক্তার স্বামীর সাথে রাগ করে বৈশাখিয়া গ্রামে বাবার বাড়ি চলে আসে। বুধবার সকালে স্বামী মাসুম বিল্লাহ স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে শ্বশুর বাড়ি এসে স্ত্রীকে ফিরে যেতে অনুরোধ জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয় স্ত্রী ও তার পরিবার। এনিয়ে বাকবিতণ্ডার এত পর্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে সে শ্বশুর বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। স্থানীয়রা দুপুরে ওই গ্রামের কালাধার পাড় সড়কের পাশে নির্জন স্থানে আমড়া গাছের সাথে তার মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই শ্বশুর বাড়ির লোকজন গা ডাকা দিয়েছে। বুধবার বিকালে শ্বশুর নজরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাদের বসতঘরে তালাবদ্ধ দেখা যায়। নিহত মাসুম বিল্লাহ রাজুর বোন ইয়াসমিন আক্তার বলেন, আমার ভাই শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলো। তারা আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। নিহত মাসুম বিল্লাহ রাজুর বাবা ইউসুফ আলী হাওলাদার জানান, ছেলে প্রেমের সর্ম্পকের সূত্রে ধরে গত দুই বছর আগে মনির সাথে বিয়ে দেই। বিয়ের পর থেকেই ছেলের সাথে তার স্ত্রী র বনিবনা হচ্ছিলো না। সবশেষ গত দুইদিন আগে অভিমানে সে বাবার বাড়ি চলে আসে। তার অভিমান ভাঙাতে মাসুম বিল্লাহ শ্বশুর বাড়িতে এসে তাদের হাতে জীবন দিতে হল। নলছিটি থানার ওসি মোঃ শাখাওয়াত হোসেন জানান, উপজেলার বৈশাখিয়া বাজার সংলগ্ন শ্বশুর বাড়িতে বেড়ানো অবস্থায় মাসুম বিল্লাহ রাজু নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest